০৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানোরে রোপা আমনের মাঠজুড়ে শোভা ছড়াচ্ছে সোনালি ধানের শীষ

উত্তরবঙ্গের মধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে সুপরিচিত নাম তানোর উপজেলা। বর্তমানে তানোর উপজেলার যেদিকে চোখ যায় যতদূর শুধু দুলছে রোপা আমন ধানের সোনালী শিশ। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ফসল আমন ধানে পাক ধরতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, গত’বছরের তুলনায় এবছর রোপা আমন রোপণের শুরু থেকে কৃষককে তেমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। আমন চাষের ভরা মৌসুম আষাঢ় মাসেও ছিল ব্যাপক আকাশের বৃষ্টির দেখা। যার ফলে সঠিক সময়ে রোপা আমন ধান রোপণ করতে কোন সমস্যা হয়নি কৃষকের। আর যারা আমনের শুরুতে ডিপ মটরের পানি কিনে আমন ধান রোপণ করছেন তাদের প্রায় জমিতে আগে ধানের শিশ গজাতে শুরু করলেও এখন পুরো মাঠজুড়ে একসাথে বের হতে শুরু করেছে রোপা আমন ধানের শিশ। এতে করে কৃষকরা তাদের কাঙ্ক্ষিত ফসল দেখে তাদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক।

উপজেলার কামারগাঁ, বাধাইড়,পাঁচন্দর, তালন্দ ও তানোর পৌরসভা, মুন্ডুমালা পৌরসভার বিভিন্ন রোপা আমনের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কমবেশি প্রায় সব জমিতে রোপা আমন ধানের শিশ বেরিয়ে পাক ধরতে শুরু করেছে। অনেকে আগাম রোপণকৃত রোপা আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করছেন। কৃষকরা জানান, যদি আকাশের আর কোন দুর্যোগ বালাই না হয় তাহলে সপ্তাহ খানেকের মধ্যে আমন ধান কাটা ও মাড়াই জোরেশোরে শুরু হয়ে পড়বে। কিন্তু হঠাৎ দুই দিনের টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকের অনেকটা ক্ষতি হয়েছে। এখনো অনেক জমিতে পানি জমে রয়েছে। এসব জমির ধান দ্রুত নিষ্কাসন নাহলে কৃষকের অনেক লোকসান হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে ,এবার চলতি মৌসুমে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২২হাজার ৪৩৫ হেক্টর। কিন্তু অর্জন হয়েছে প্রায় ২১ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ।

তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের চিমনা গ্রামের মাহবুবুর রহমান বলেন,তিনি ৬ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭০হাজার টাকা। এতে করে তার বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা করে। তিনি বলেন, ধান উঠা পর্যন্ত বিঘা প্রতি আরো খরচ হবে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা মতো। এতে করে একেক বিঘা আমন ধান কাটা পর্যন্ত মোট খরচ হবে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা করে। কামারগাঁ ইউনিয়নের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, অন্যবছরের তুলনায় এবছর আমন ধান চাষের জন্য কৃষককে তেমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। রোপা আমন রোপণের সঠিক সময়ে বৃষ্টি ছিল ভরপুর,তবে সার পটাশের ব্যাপক সংকট ছিলো। তার পরেও আল্লাহর রহমতে খুব ভালো হয়েছে রোপা আমন ধান চাষ। আসা করা যাচ্ছে ফলনও ভালো হবে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ জানান, বর্তমানে আকাশের আবহাওয়া কৃষকের অনুকূলে রয়েছে, আর কোন বড় ধরনের দুর্যোগ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ইতিমধ্যে রোপা আমন ধানের শিশ বেরিয়ে পাক ধরতে শুরু করেছে। রোপা আমনের এই একটি আবাদ কৃষকেরা অল্প খরচে বেশি লাভবান হয়ে থাকেন। যদি আকাশের কোন দুর্যোগ বালাই না হয় তাহলে আমনের ফলনও খুব ভালো হবে বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বচ্ছ ভূমিসেবা নিশ্চিতের আহ্বান এমপি মান্নানের

তানোরে রোপা আমনের মাঠজুড়ে শোভা ছড়াচ্ছে সোনালি ধানের শীষ

আপডেট টাইম : ০৫:১০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

উত্তরবঙ্গের মধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে সুপরিচিত নাম তানোর উপজেলা। বর্তমানে তানোর উপজেলার যেদিকে চোখ যায় যতদূর শুধু দুলছে রোপা আমন ধানের সোনালী শিশ। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ফসল আমন ধানে পাক ধরতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, গত’বছরের তুলনায় এবছর রোপা আমন রোপণের শুরু থেকে কৃষককে তেমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। আমন চাষের ভরা মৌসুম আষাঢ় মাসেও ছিল ব্যাপক আকাশের বৃষ্টির দেখা। যার ফলে সঠিক সময়ে রোপা আমন ধান রোপণ করতে কোন সমস্যা হয়নি কৃষকের। আর যারা আমনের শুরুতে ডিপ মটরের পানি কিনে আমন ধান রোপণ করছেন তাদের প্রায় জমিতে আগে ধানের শিশ গজাতে শুরু করলেও এখন পুরো মাঠজুড়ে একসাথে বের হতে শুরু করেছে রোপা আমন ধানের শিশ। এতে করে কৃষকরা তাদের কাঙ্ক্ষিত ফসল দেখে তাদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক।

উপজেলার কামারগাঁ, বাধাইড়,পাঁচন্দর, তালন্দ ও তানোর পৌরসভা, মুন্ডুমালা পৌরসভার বিভিন্ন রোপা আমনের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কমবেশি প্রায় সব জমিতে রোপা আমন ধানের শিশ বেরিয়ে পাক ধরতে শুরু করেছে। অনেকে আগাম রোপণকৃত রোপা আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করছেন। কৃষকরা জানান, যদি আকাশের আর কোন দুর্যোগ বালাই না হয় তাহলে সপ্তাহ খানেকের মধ্যে আমন ধান কাটা ও মাড়াই জোরেশোরে শুরু হয়ে পড়বে। কিন্তু হঠাৎ দুই দিনের টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকের অনেকটা ক্ষতি হয়েছে। এখনো অনেক জমিতে পানি জমে রয়েছে। এসব জমির ধান দ্রুত নিষ্কাসন নাহলে কৃষকের অনেক লোকসান হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে ,এবার চলতি মৌসুমে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২২হাজার ৪৩৫ হেক্টর। কিন্তু অর্জন হয়েছে প্রায় ২১ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ।

তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের চিমনা গ্রামের মাহবুবুর রহমান বলেন,তিনি ৬ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭০হাজার টাকা। এতে করে তার বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা করে। তিনি বলেন, ধান উঠা পর্যন্ত বিঘা প্রতি আরো খরচ হবে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা মতো। এতে করে একেক বিঘা আমন ধান কাটা পর্যন্ত মোট খরচ হবে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা করে। কামারগাঁ ইউনিয়নের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, অন্যবছরের তুলনায় এবছর আমন ধান চাষের জন্য কৃষককে তেমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। রোপা আমন রোপণের সঠিক সময়ে বৃষ্টি ছিল ভরপুর,তবে সার পটাশের ব্যাপক সংকট ছিলো। তার পরেও আল্লাহর রহমতে খুব ভালো হয়েছে রোপা আমন ধান চাষ। আসা করা যাচ্ছে ফলনও ভালো হবে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ জানান, বর্তমানে আকাশের আবহাওয়া কৃষকের অনুকূলে রয়েছে, আর কোন বড় ধরনের দুর্যোগ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ইতিমধ্যে রোপা আমন ধানের শিশ বেরিয়ে পাক ধরতে শুরু করেছে। রোপা আমনের এই একটি আবাদ কৃষকেরা অল্প খরচে বেশি লাভবান হয়ে থাকেন। যদি আকাশের কোন দুর্যোগ বালাই না হয় তাহলে আমনের ফলনও খুব ভালো হবে বলে জানান তিনি।