লক্ষ্মীপুরের কমলনগর চরকাদিরা ইউনিয়নে ‘ভুলুয়া’ নদীর ওপর সদ্য নির্মিত ব্রিজের উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলছে মানুষ। ব্রিজটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট থেকে নিম্নমানের কাজ ধসে ব্রিজটি দেবে যাওয়ায় যে কোন মুহূর্তে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিতে ৫০ হাজার মানুষ।
ভুলুয়া নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজটির প্রাক্কলন অনুযায়ী ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ব্রিজটির দুপাশেই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। পাশাপাশি কৃষি অধ্যুষিত বিশাল এলাকাও এটি। গ্রামবাসীর উপকারের জায়গাটি এখন ভয় ও আতঙ্কিত করেছে মানুষকে। নির্মাণের পাঁচমাসেই ধরেছে বিশাল ফাটল। দেবে গেছে বিভিন্ন পয়েন্টেও। পাশাপাশি দুপাশের গাইড ওয়ালও ধসেছে। মেঘনার আকষ্মিক জোয়ার ও বন্যার প্রভাবে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতা ও নির্মাণকাজে নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহার করায় ব্রিজটির এমন অবস্থা।
সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী ভায়া ফজুমিয়ারহাট টু চরবসু বৃহত্তম অঞ্চলের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মানুষের দীর্ঘ কয়েক যুগের ফসল স্থানীয় ভাষায় ‘আছিয়ার বাপের খেয়া’র ওপর নির্মিত ব্রিজটির দৈর্ঘ্য ৬০ ফুট, প্রস্থ প্রায় ২৪ ফিট। প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে গত ১৩ জুন ২০২২ তারিখে এবং কাজটি স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করেন ১৯ জুন ২০২৫ ইং তারিখে। জিএনপি-থ্রি প্রকল্পের আওতায় একাজ করা হয়েছে। একাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট অফিসের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মনিটরিংয়ের অভাব ও সিডিউল মোতাবেক কাজ না করে নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহার ধসে যাওয়ার কারণ।
কাজের শুরুতে তৎকালীন সময়েও স্থানীয়দের অভিযোগে সংশ্লিষ্টরা কোন পাত্তা দেননি। ফলে ব্রিজটি চালুর কয়েকমাস যেতে না যেতেই এপ্রোচের ঢালাইয়ের মাটি-বালু সরে যায়। ব্রিজের দুই পাশের পিলার দেবে গেছে। এছাড়া দুই পাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধসে পড়েছে। সেতুটিতে যে কোন সময় বড় ধরণের হতাহতের ঘটনাও ঘটতে পারে। ব্রিজের নিচ থেকে মূল সেতু ও নিচের খাল টানাটানি চলছে। মূলতঃ ব্রিজটি আরো ১০ ফুট বড় করা উচিত ছিলো বলে অভিজ্ঞদের মতামত।
স্থানীয় সফিক, কালুমাঝি, নুরনবী, শাহজাহানসহ অসংখ্য ভুক্তভোগীর গ্রামবাসিরা জানান, ব্রিজের পূর্ব পাশে আমাদের কৃষি জমি আছে। কৃষি কাজের জন্য আমরা প্রতিদিনই যাতায়াত করি। স্বপ্নের সেতুর এখন করুন অবস্থা। আমাদের চলাচলের জন্য ভয়াবহ হয়ে দাঁড়াইছে। অনেক যায়গায় ভেঙে গেছে। আমরা ঝুঁকি নিয়ে পার হই। বড় ধরণের বন্যা কিংবা জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবে যে কোন সময় ব্রিজটি ভেঙে বড় বিপদের কারণও হতে পারে।
আশ্রয়নবাসী ও গৃহবধূ মুক্তা খাতুনন বলেন, আমাদের উপকারের জন্য ব্রিজ করা । কিন্তু গাড়ি গোড়াসহ সবকিছুই ভয়ে ভয়ে চলে। আমাদের কোন কাজে আসেনি।
রিক্সাচালক মোসলে উদ্দিন বলেন, নতুন ব্রিজ; শুরু থেকেই সলোচলা দিয়ে শুরু হয়েছে। তৎকালীন সময়ে এলাকাবাসী বিক্ষোভও করেছে। এছাড়া প্রভাব খাটিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিম্নমানের কাজ করেছে ব্রিজটিতে। ফলে আজ বেহাল অবস্থা।
চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ বলেন, আমাদের ইউনিয়নে আছিয়ার বাপের খেয়া ভুলুয়া ব্রিজটি অল্প কয়েকমাসেই বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরে দেবে গেছে। দৈনন্দিন গাড়ি, রিক্্রাসহ সব ধরণের যাতায়াতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশার তুলনায় ব্রিজটি অল্পসময়ে ফাটল ও ধসে পড়েছে।
কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মোজাহিদ বলেন, আমি উপজেলায় সাম্প্রতিক যোগদান করেছি। আমার যোগদানের পূর্বে ব্রিজটি বুঝাইয়া দেওয়া হয়েছে। তবে ব্রিজের বিভিন্ন অংশে দেবে ফাটলের বিষয়টি দৃশ্যমান। স্থানীয় লোকজনও বিষয়টি অবগত করেছে। আমরা দ্রুত জায়গাটি পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
কবির হোসেন রাকিব, লক্ষ্মীপুর 



















