০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ ৭ ডিসেম্বর শেরপুর মুক্ত দিবস গৌরবের এই দিনে স্মরণ করি বীরত্ব, ত্যাগ ও স্বাধীনতার ইতিহাস

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:১৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২৭ বার

মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর প্রতিনিধি

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের একটি হলো শেরপুরের মুক্তি। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তাক্ত সংগ্রামের পর ৭ ডিসেম্বর শেরপুর স্বাধীনতার পতাকায় রাঙা হয়। এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা মিত্রবাহিনীর যৌথ সহযোগে পাকবাহিনীর সব ঘাঁটি দখল করে আক্রমণকারীদের পরাজিত করেন।

শেরপুরের মুক্তির ক্রমধারা,
৪ ডিসেম্বর – মুক্ত হয় ঝিনাইগাতী
৬ ডিসেম্বর – মুক্ত হয় শ্রীবরদী
৭ ডিসেম্বর – সম্পূর্ণ শেরপুর হানাদারমুক্ত হয়।

এ দিন সকাল ৯টার দিকে মিত্রবাহিনীর প্রধান জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা হেলিকপ্টারযোগে শেরপুরে এসে শহীদ দারোগা আলী পৌর পার্কে এক ঐতিহাসিক সমাবেশে শেরপুরকে মুক্ত অঞ্চল ঘোষণা করেন। তাঁর হাতেই উত্তোলিত হয় স্বাধীন বাংলার লাল–সবুজের পতাকা—শেরপুরবাসীর বহু প্রতীক্ষিত বিজয়ের প্রতীক।

অতুলনীয় বীরত্ব—অসংখ্য খণ্ডযুদ্ধ
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শেরপুর জেলায় সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ৩০–৪০টি খণ্ডযুদ্ধ। শত্রুদের মোকাবিলায় মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস, বুদ্ধিমত্তা ও সংগঠিত প্রতিরোধ সেদিন শেরপুরকে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এলাকায় পরিণত করেছিল।
এই বীরসমর্পিত লড়াইয়ে ৫৯ জন মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাতবরণ করেন—যাদের ত্যাগে আজকের শেরপুর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
নৃশংস গণহত্যার স্মৃতি,
শেরপুরের মাটি শুধু সংগ্রামের নয়, বেদনারও সাক্ষী।

নালিতাবাড়ীর সোহাগপুরে শহীদ হন ১৮৭ জন নিরীহ মানুষ,
শেরপুর সদর সূর্যদীতে শহীদ ৩৯ জন,
ঝিনাইগাতীর জগৎপুরে প্রাণ হারান ৪১ জন,
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্মম অত্যাচার আজও ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়।

কামালপুর দুর্গের পতন মুক্তির মোড় ঘোরানো মুহূর্ত,
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কৌশলগত এলাকা কামালপুর দুর্গ। ১১ দিনের ঘেরাও ও তীব্র যুদ্ধের পর ৪ ডিসেম্বর পতন ঘটে পাকিস্তানি ঘাঁটির। এই যুদ্ধে ২২০ জন পাকসেনা ও রাজাকার অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে। বিজয়ের এই সাফল্য মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পুরো শেরপুরকে হানাদারমুক্ত করার পথ প্রশস্ত করে।

বিজয়ের এ দিনে গভীর শ্রদ্ধা
আজ শেরপুর মুক্ত দিবসে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি—
সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে
নির্মম হত্যাযজ্ঞে প্রাণ দেওয়া নিরীহ মানুষদের
এবং স্বাধীনতার অগ্নিযাত্রায় অংশ নেওয়া বীর সেনানীদের

তাদের ত্যাগ, রক্ত ও সাহসের বিনিময়েই আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের বাংলাদেশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

দিঘলিয়ায় মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান

আজ ৭ ডিসেম্বর শেরপুর মুক্ত দিবস গৌরবের এই দিনে স্মরণ করি বীরত্ব, ত্যাগ ও স্বাধীনতার ইতিহাস

আপডেট টাইম : ০১:১৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর প্রতিনিধি

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের একটি হলো শেরপুরের মুক্তি। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তাক্ত সংগ্রামের পর ৭ ডিসেম্বর শেরপুর স্বাধীনতার পতাকায় রাঙা হয়। এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা মিত্রবাহিনীর যৌথ সহযোগে পাকবাহিনীর সব ঘাঁটি দখল করে আক্রমণকারীদের পরাজিত করেন।

শেরপুরের মুক্তির ক্রমধারা,
৪ ডিসেম্বর – মুক্ত হয় ঝিনাইগাতী
৬ ডিসেম্বর – মুক্ত হয় শ্রীবরদী
৭ ডিসেম্বর – সম্পূর্ণ শেরপুর হানাদারমুক্ত হয়।

এ দিন সকাল ৯টার দিকে মিত্রবাহিনীর প্রধান জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা হেলিকপ্টারযোগে শেরপুরে এসে শহীদ দারোগা আলী পৌর পার্কে এক ঐতিহাসিক সমাবেশে শেরপুরকে মুক্ত অঞ্চল ঘোষণা করেন। তাঁর হাতেই উত্তোলিত হয় স্বাধীন বাংলার লাল–সবুজের পতাকা—শেরপুরবাসীর বহু প্রতীক্ষিত বিজয়ের প্রতীক।

অতুলনীয় বীরত্ব—অসংখ্য খণ্ডযুদ্ধ
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শেরপুর জেলায় সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ৩০–৪০টি খণ্ডযুদ্ধ। শত্রুদের মোকাবিলায় মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস, বুদ্ধিমত্তা ও সংগঠিত প্রতিরোধ সেদিন শেরপুরকে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এলাকায় পরিণত করেছিল।
এই বীরসমর্পিত লড়াইয়ে ৫৯ জন মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাতবরণ করেন—যাদের ত্যাগে আজকের শেরপুর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
নৃশংস গণহত্যার স্মৃতি,
শেরপুরের মাটি শুধু সংগ্রামের নয়, বেদনারও সাক্ষী।

নালিতাবাড়ীর সোহাগপুরে শহীদ হন ১৮৭ জন নিরীহ মানুষ,
শেরপুর সদর সূর্যদীতে শহীদ ৩৯ জন,
ঝিনাইগাতীর জগৎপুরে প্রাণ হারান ৪১ জন,
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্মম অত্যাচার আজও ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়।

কামালপুর দুর্গের পতন মুক্তির মোড় ঘোরানো মুহূর্ত,
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কৌশলগত এলাকা কামালপুর দুর্গ। ১১ দিনের ঘেরাও ও তীব্র যুদ্ধের পর ৪ ডিসেম্বর পতন ঘটে পাকিস্তানি ঘাঁটির। এই যুদ্ধে ২২০ জন পাকসেনা ও রাজাকার অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে। বিজয়ের এই সাফল্য মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পুরো শেরপুরকে হানাদারমুক্ত করার পথ প্রশস্ত করে।

বিজয়ের এ দিনে গভীর শ্রদ্ধা
আজ শেরপুর মুক্ত দিবসে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি—
সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে
নির্মম হত্যাযজ্ঞে প্রাণ দেওয়া নিরীহ মানুষদের
এবং স্বাধীনতার অগ্নিযাত্রায় অংশ নেওয়া বীর সেনানীদের

তাদের ত্যাগ, রক্ত ও সাহসের বিনিময়েই আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের বাংলাদেশ।