০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জানাজা বুধবার মানিক এ্যাভিনিউতে দাফন জিয়াউর রহমান এর পাশে:

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৪:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫১ বার

মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম,স্টাফ রিপোর্টার

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হবে তথ্য নিশ্চিত করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার আপোসহীন ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির মুহূর্তে তিনি দেশবাসীকে মরহুমার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দোয়া ও প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনুছ বলেন জাতী তার মহান অভিভাবক কে হারালো। আমি তার আত্মার মাগফেরাত ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন এবং আগামীকাল বুধবার একদিনের সাধারণ ছুটি এবং তিনদিন রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করছেন।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বুধবার বাদ জোহর ঢাকা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে বেগম জিয়াকে সমাহিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।

মৃত্যুর সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সেখানে ছিলেন। এই খবরে হাসপাতালজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়। চিকিৎসক ও নার্সদের অনেককে আবেগ ধরে রাখতে দেখা যায়নি।

খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর পর তিনি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও পরিচিত। রাজনৈতিক জীবনে তিনি আপসহীন অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা এবং বিরোধী দলে নেতৃত্ব দেওয়া, প্রতিটি পর্যায়ে তিনি ছিলেন দৃঢ় ও অনড়।

তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ শোক ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

দিঘলিয়ায় মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান

জানাজা বুধবার মানিক এ্যাভিনিউতে দাফন জিয়াউর রহমান এর পাশে:

আপডেট টাইম : ১১:২৪:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম,স্টাফ রিপোর্টার

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হবে তথ্য নিশ্চিত করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার আপোসহীন ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির মুহূর্তে তিনি দেশবাসীকে মরহুমার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দোয়া ও প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনুছ বলেন জাতী তার মহান অভিভাবক কে হারালো। আমি তার আত্মার মাগফেরাত ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন এবং আগামীকাল বুধবার একদিনের সাধারণ ছুটি এবং তিনদিন রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করছেন।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বুধবার বাদ জোহর ঢাকা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে বেগম জিয়াকে সমাহিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।

মৃত্যুর সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সেখানে ছিলেন। এই খবরে হাসপাতালজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়। চিকিৎসক ও নার্সদের অনেককে আবেগ ধরে রাখতে দেখা যায়নি।

খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর পর তিনি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও পরিচিত। রাজনৈতিক জীবনে তিনি আপসহীন অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা এবং বিরোধী দলে নেতৃত্ব দেওয়া, প্রতিটি পর্যায়ে তিনি ছিলেন দৃঢ় ও অনড়।

তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ শোক ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।