নিজস্ব প্রতিনিধি- সোহেল হোসেন ঃ
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় পুলিশ প্রশাসন জনগণের সেব— এটাই সংবিধানসম্মত প্রত্যাশা ও রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার। কিন্তু ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামানের সাম্প্রতিক ২৯ ডিসেম্বর, সোমবার, দুপুর ১ ঘটিকার আচরণ সেই মৌলিক নীতির সঙ্গে শুধু সাংঘর্ষিক নয়, বরং তা নতুন বাংলাদেশের চেতনাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। জনস্বার্থে তথ্য জানার অধিকার যেমন সাংবাদিকদের রয়েছে, তেমনি সেই তথ্য সরবরাহ করা প্রশাসনের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব। অথচ বোরহানউদ্দিন থানায় ঘটে যাওয়া একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় সাংবাদিকরা তথ্য জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির কাছ থেকে সহযোগিতার পরিবর্তে হুংকার, দম্ভ ও ভয়ভীতিমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক গণমাধ্যমকর্মী জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাই ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের স্বার্থে প্রশ্ন করলেই ওসি মনিরুজ্জামান উল্টো হুমকিসূচক ভাষায় কথা বলেন এবং তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। এই আচরণ অনেকের কাছেই অতীতের কর্তৃত্ববাদী শাসনামলের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। প্রশ্ন উঠছে— নতুন বাংলাদেশে কি এখনও “হাসিনা কায়দা”র মতো ক্ষমতার দাপট চলবে? এখানেই শেষ নয়। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, থানার অভ্যন্তরে প্রকাশ্যে নিজের অধস্তন পুলিশ সদস্য এমনকি ব্যক্তিগত বডিগার্ডের সঙ্গেও ‘তুই-তাগারি’ করে অসম্মানজনক ভাষায় কথা বলেন ওসি মনিরুজ্জামান। একজন থানার প্রধানের এমন আচরণ শুধু ব্যক্তিগত রুচির অভাব নয়; এটি পুরো পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ভোলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিকরা জানান, “প্রশ্ন করা যদি অপরাধ হয়, তাহলে সাংবাদিকতা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তথ্য চাওয়ায় যদি হুমকি আসে, তবে সেটা সরাসরি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত।”
ভোলা জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর ভোলা জেলা কমিটির নেতৃত্ববৃন্দরা বলেন, “সমালোচনা মানেই শত্রুতা নয়। প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনাই সাংবাদিকদের দায়িত্ব। কিন্তু এখানে আমরা দেখছি ভয় দেখিয়ে সত্য আড়াল করার চেষ্টা।”
একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আজ আমরা বিব্রত, লজ্জিত। থানায় ঢুকলে মনে হয় সাংবাদিক নই, যেন অপরাধী।”
এ বিষয়ে ভোলা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, “গণমাধ্যমের সঙ্গে পেশাদার ও শালীন আচরণ পুলিশ কর্মকর্তাদের অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। কোনো কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে অভিযোগ এলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। কেউ আইন বা আচরণবিধির ঊর্ধ্বে নয়।” তিনি আরও বলেন, “পুলিশ জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা। সেই বিশ্বাস নষ্ট হয়— এমন কোনো আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।”
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, একজন কর্মকর্তার একক আচরণ যদি সময়মতো সংশোধন না করা হয়, তাহলে তার দায় পুরো পুলিশ বাহিনীকে বইতে হবে। যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
নতুন বাংলাদেশে জনগণ হুংকারের পুলিশ নয়, চায় জনতার পুলিশ। ভয় নয়— বিশ্বাসের প্রশাসন। তথ্য চেপে রেখে, সাংবাদিককে ভয় দেখিয়ে সত্য চাপা দেওয়া যায় না— ইতিহাস বারবার সেটাই প্রমাণ করেছে।
এখন সময় এসেছে— বোরহানউদ্দিন থানায় ক্ষমতা কীভাবে প্রয়োগ হচ্ছে, গণমাধ্যমের সঙ্গে আচরণ কেমন— তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার। নচেৎ প্রশ্ন থেকেই যাবে, আর সেই প্রশ্নই হয়ে উঠবে সবচেয়ে বড় অভিযোগ।
Reporter Name 



















