খবরটি যদি কারও পক্ষে যায়, তখন সাংবাদিক হন “ভালো সাংবাদিক”।
আর সেই একই খবর যদি কারও স্বার্থের বিপক্ষে যায়, মুহূর্তেই তিনি হয়ে যান “হলুদ সাংবাদিক”, “ভুয়া”, কিংবা “দালাল”।
এ যেন সত্যের নয়, সুবিধার বিচার।
আমরা যারা সত্যের পথে কলম ধরি, তারা জানি—এই পথ কখনোই ফুলে বিছানো নয়। সত্য লিখতে গিয়ে হারাতে হয় অনেক প্রিয় মানুষ, কমে যায় বন্ধুত্বের পরিধি, বাড়ে সমালোচনা, অপবাদ আর ভুল বোঝাবুঝির দেয়াল। কখনো কখনো নীরবতাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ।
দুঃখ লাগে, যখন দেখি কেউ কেউ নিজের অবস্থান শক্ত করতে অন্যের সম্মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দ্বিধা করেন না। অথচ একজন প্রকৃত সাংবাদিকের পরিচয় অন্যকে ছোট করার মধ্যে নয়; তাঁর পরিচয় তাঁর সততা, নৈতিকতা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং পেশাদারিত্বে। তিনি ব্যক্তির নয়, সত্যের পক্ষ নেন; ক্ষমতার নয়, তথ্যের কাছে জবাবদিহি করেন।
সংবাদের মূল্যায়ন হোক তথ্য, প্রমাণ ও সত্যতার ভিত্তিতে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, আবেগ কিংবা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে নয়।
মতের অমিল থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভিন্নমত যেন বিদ্বেষে রূপ না নেয়। সমালোচনা থাকুক, কিন্তু অপমান নয়; বিতর্ক থাকুক, কিন্তু বিদ্বেষ নয়; প্রতিযোগিতা থাকুক, কিন্তু পারস্পরিক সম্মান অটুট থাকুক।
কারণ, একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর কলম নয়—তাঁর বিবেক। আর সেই বিবেক যতদিন সত্যের পাশে থাকবে, ততদিন অপবাদে নয়, ইতিহাসেই লেখা থাকবে তাঁর পরিচয়।
জাহিদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার 


















