০২:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমি শক্তিশালী প্রার্থী বলেই সাতজন একত্রিত হয়ে আমার  বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন – আজহারুল ইসলাম মান্নান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:১৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ৭০ বার

সোহাদ হোসেন প্রান্ত, স্টাফ রিপোর্টার

‎নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে সাতজন মনোনয়ন প্রত্যাশী যৌথভাবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। তারা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন আজহারুল ইসলাম মান্নানকে প্রার্থী করায় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে এবং মনোনয়নকে ঘিরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

‎চিঠিতে স্বাক্ষর করেন সোনারগাঁয়ের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ওয়ালিউর রহমান আপেল, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবু জাফর, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল এবং সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক। দলীয় মহাসচিবের মাধ্যমে চিঠিটি তারেক রহমানের কাছে প্রেরণ করা হয়। এর আগে ঢাকায় অধ্যাপক রেজাউল করিমের বাসায় তারা বৈঠক করেন।

‎চিঠিতে অভিযোগ করা হয় আজহারুল ইসলাম মান্নান অতীতে চাঁদাবাজি, জমি দখল, নৌপথে সন্ত্রাস, মামলা–বাণিজ্য ও অবৈধ বালু ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। তারা দাবি করেন, গত ৫ আগস্ট থেকে টানা চার দিন তিনি মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা জোরপূর্বক দখল করে টোল উত্তোলন করেন। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জবাসীকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে বক্তৃতা দেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

‎নেতারা আরও উল্লেখ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধেও তিনি অশালীন বক্তব্য দিয়ে থাকেন এবং তার এসব বক্তব্যের অডিও-ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি দেশে–বিদেশে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, মান্নানের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই এবং তাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে দল ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

‎একই আসনে জামায়াত ড. মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন ভূঁইয়াকে মনোনয়ন দিয়েছে যিনি একটি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ এ তথ্য উল্লেখ করে বিএনপির পক্ষ থেকে আরও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের অনুরোধ জানানো হয়। সাত নেতাই দাবি করেন, তাদের মধ্য থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে কাজ করবেন।

‎অভিযোগ সম্পর্কে আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, যে কাজ করে তারই ভুল হয়। কেন্দ্রীয় নেতারা যাচাই-বাছাই করেই তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তিনি শক্তিশালী প্রার্থী বলেই সাতজন একত্রিত হয়ে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তার ভাষ্য, দুর্বল প্রার্থী হলে একজনই যথেষ্ট ছিল; এখন যদি তারা প্রার্থী পরিবর্তনে সফল হন, সেটি দলের সিদ্ধান্ত এ নিয়ে তার কোনো বক্তব্য নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

দিঘলিয়ায় মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান

আমি শক্তিশালী প্রার্থী বলেই সাতজন একত্রিত হয়ে আমার  বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন – আজহারুল ইসলাম মান্নান

আপডেট টাইম : ০২:১৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

সোহাদ হোসেন প্রান্ত, স্টাফ রিপোর্টার

‎নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে সাতজন মনোনয়ন প্রত্যাশী যৌথভাবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। তারা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন আজহারুল ইসলাম মান্নানকে প্রার্থী করায় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে এবং মনোনয়নকে ঘিরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

‎চিঠিতে স্বাক্ষর করেন সোনারগাঁয়ের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ওয়ালিউর রহমান আপেল, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবু জাফর, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল এবং সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক। দলীয় মহাসচিবের মাধ্যমে চিঠিটি তারেক রহমানের কাছে প্রেরণ করা হয়। এর আগে ঢাকায় অধ্যাপক রেজাউল করিমের বাসায় তারা বৈঠক করেন।

‎চিঠিতে অভিযোগ করা হয় আজহারুল ইসলাম মান্নান অতীতে চাঁদাবাজি, জমি দখল, নৌপথে সন্ত্রাস, মামলা–বাণিজ্য ও অবৈধ বালু ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। তারা দাবি করেন, গত ৫ আগস্ট থেকে টানা চার দিন তিনি মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা জোরপূর্বক দখল করে টোল উত্তোলন করেন। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জবাসীকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে বক্তৃতা দেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

‎নেতারা আরও উল্লেখ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধেও তিনি অশালীন বক্তব্য দিয়ে থাকেন এবং তার এসব বক্তব্যের অডিও-ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি দেশে–বিদেশে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, মান্নানের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই এবং তাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে দল ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

‎একই আসনে জামায়াত ড. মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন ভূঁইয়াকে মনোনয়ন দিয়েছে যিনি একটি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ এ তথ্য উল্লেখ করে বিএনপির পক্ষ থেকে আরও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের অনুরোধ জানানো হয়। সাত নেতাই দাবি করেন, তাদের মধ্য থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে কাজ করবেন।

‎অভিযোগ সম্পর্কে আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, যে কাজ করে তারই ভুল হয়। কেন্দ্রীয় নেতারা যাচাই-বাছাই করেই তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তিনি শক্তিশালী প্রার্থী বলেই সাতজন একত্রিত হয়ে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তার ভাষ্য, দুর্বল প্রার্থী হলে একজনই যথেষ্ট ছিল; এখন যদি তারা প্রার্থী পরিবর্তনে সফল হন, সেটি দলের সিদ্ধান্ত এ নিয়ে তার কোনো বক্তব্য নেই।