০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিভে গেল সুনামগঞ্জের রাজনীতির এক নক্ষত্র না–ফেরার দেশে, মতিউর রহমান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৫৬:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২৯ বার

স্টাফ রিপোর্টার:

একটি মানুষ চলে গেলেন,অথচ রেখে গেলেন নিঃসীম শূন্যতা। সুনামগঞ্জের রাজনীতির আকাশে আজ আরেকটি তারা খসে পড়ল। জেলা আওয়ামী লীগের (সম্প্রতি নিষিদ্ধ হওয়া) সাবেক সভাপতি ও সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

গত ২৮ নভেম্বর বার্ধক্য ও অসুস্থতা তাঁকে হাসপাতালের শয্যায় বেঁধে রাখে। মৃত্যুর সঙ্গে দিনের পর দিন লড়াই করে অবশেষে হার মানেন সময়ের কাছে। তাঁর বিদায়ের সাথে সাথে যেন থমকে গেল বহু হৃদয়ের স্পন্দন।

মতিউর রহমানের মৃত্যু মানে কেবল এক রাজনীতিকের প্রস্থান নয়—এ যেন একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। কর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন অভিভাবক,সাধারণ মানুষের কাছে নির্ভরতার প্রতীক,দলের ভেতর এক দৃঢ় শিখর। আজ সেই কণ্ঠ স্তব্ধ,সেই পথপ্রদর্শক নিঃশেষ।

শনিবার বাদ আসর রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকায় তাঁর জানাজায় মানুষের ঢল নামে। অশ্রুসিক্ত চোখে,ভারী বুকে শেষ বিদায় জানানো হয় প্রিয় নেতাকে। কাঁধে ওঠে পালকি  ভালোবাসার ভারে নুয়ে পড়ে অনেকের চোখ। পরে বনানী কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী, দুই ছেলে,তিন কন্যা ও অগণিত অনুরাগী। পরিবার হারাল তার ছায়া, সুনামগঞ্জ হারাল তার বাতিঘর।

২০০৯ সালে প্রয়াত এমপি মমতাজ ইকবালের মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে জনগণের বিশ্বাসে সংসদে পা রাখেন মতিউর রহমান। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উন্নয়ন, রাজনীতি ও মানবিকতার পথে তাঁর নাম লেখা হয়ে থাকবে দৃঢ় অক্ষরে।

আজ তিনি নেই,কিন্তু তাঁর আদর্শ বেঁচে থাকবে হাজারো মানুষে, হাজারো স্মৃতিতে।এই প্রবীণ রাজনীতিকের মৃত্যুতে রাজনৈতিক,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সর্বত্র শোনা যাচ্ছে একটাই কথা“এই শূন্যতা পূরণ হবার নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

দিঘলিয়ায় মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান

নিভে গেল সুনামগঞ্জের রাজনীতির এক নক্ষত্র না–ফেরার দেশে, মতিউর রহমান

আপডেট টাইম : ১২:৫৬:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার:

একটি মানুষ চলে গেলেন,অথচ রেখে গেলেন নিঃসীম শূন্যতা। সুনামগঞ্জের রাজনীতির আকাশে আজ আরেকটি তারা খসে পড়ল। জেলা আওয়ামী লীগের (সম্প্রতি নিষিদ্ধ হওয়া) সাবেক সভাপতি ও সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

গত ২৮ নভেম্বর বার্ধক্য ও অসুস্থতা তাঁকে হাসপাতালের শয্যায় বেঁধে রাখে। মৃত্যুর সঙ্গে দিনের পর দিন লড়াই করে অবশেষে হার মানেন সময়ের কাছে। তাঁর বিদায়ের সাথে সাথে যেন থমকে গেল বহু হৃদয়ের স্পন্দন।

মতিউর রহমানের মৃত্যু মানে কেবল এক রাজনীতিকের প্রস্থান নয়—এ যেন একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। কর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন অভিভাবক,সাধারণ মানুষের কাছে নির্ভরতার প্রতীক,দলের ভেতর এক দৃঢ় শিখর। আজ সেই কণ্ঠ স্তব্ধ,সেই পথপ্রদর্শক নিঃশেষ।

শনিবার বাদ আসর রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকায় তাঁর জানাজায় মানুষের ঢল নামে। অশ্রুসিক্ত চোখে,ভারী বুকে শেষ বিদায় জানানো হয় প্রিয় নেতাকে। কাঁধে ওঠে পালকি  ভালোবাসার ভারে নুয়ে পড়ে অনেকের চোখ। পরে বনানী কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী, দুই ছেলে,তিন কন্যা ও অগণিত অনুরাগী। পরিবার হারাল তার ছায়া, সুনামগঞ্জ হারাল তার বাতিঘর।

২০০৯ সালে প্রয়াত এমপি মমতাজ ইকবালের মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে জনগণের বিশ্বাসে সংসদে পা রাখেন মতিউর রহমান। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উন্নয়ন, রাজনীতি ও মানবিকতার পথে তাঁর নাম লেখা হয়ে থাকবে দৃঢ় অক্ষরে।

আজ তিনি নেই,কিন্তু তাঁর আদর্শ বেঁচে থাকবে হাজারো মানুষে, হাজারো স্মৃতিতে।এই প্রবীণ রাজনীতিকের মৃত্যুতে রাজনৈতিক,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সর্বত্র শোনা যাচ্ছে একটাই কথা“এই শূন্যতা পূরণ হবার নয়।