কবির হোসেন রাকিব , কমলনগর (লক্ষ্মীপুর):থেকে
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর ফলকন বোয়ালিয়া বাজারে বন্ধক রাখা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ও লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে দোকান তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে রোজিনা আক্তার নামের এক নারী বাদী হয়ে কমলনগর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন—উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চর জাঙ্গালিয়া এলাকার বজলুল হক মাঝির ছেলে ও ‘মা স্বর্ণশিল্পালয়’ এর মালিক মোঃ নাছির উদ্দিন (২৮), তার ভাই ইয়ার হোসেন (৪০), বশির আহাম্মদ (৩৫) এবং পিতা বজলুল হক মাঝি (৬০)।
দীর্ঘদিনের বিশ্বাসে আঘাত
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বোয়ালিয়া বাজারে ‘মা স্বর্ণশিল্পালয়’ নামীয় দোকানে বিগত ৭-৮ বছর ধরে সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছিলেন নাছির উদ্দিন। স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্কের জেরে স্থানীয় বহু মানুষ তাদের আপদ-বিপদে ওই দোকানে স্বর্ণের গহনা বন্ধক রেখে নগদ টাকা ও নিতেন।
টাকা দিয়েও মিলছে না গহনা, ভুক্তভোগীদের তালিকা দীর্ঘ
অভিযোগে বাদী রোজিনা আক্তার জানান, তিনি নিজের বিশেষ প্রয়োজনে ২০ আনা ওজনের স্বর্ণের গহনা (যার মধ্যে চেইন, ঝুপসি, কানপাশা ও ঝাপসা রয়েছে) বন্ধক রেখে ৮০ হাজার টাকা নেন। পরবর্তীতে লভ্যাংশসহ প্রায় ৯৪,০০০ টাকা পরিশোধ করলেও তার গহনা ফেরত না দিয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকে ১নং বিবাদী।
শুধু রোজিনা আক্তারই নন, তার সাথে থাকা সাক্ষীদের বিবরণী থেকে জানা যায় এক সুগভীর প্রতারণার চিত্র। স্থানীয় বাসিন্দা রিংকু আক্তারের ৬১ হাজার টাকা ঋণের বিপরীতে ১৫ হাজার টাকা লাভসহ মোট ২০ হাজার টাকা পরিশোধের পরও গহনা মেলেনি। এছাড়া রিপন মাঝি, দেলোয়ার হোসেন, আবদুর রব, মোঃ রুবেল, মোঃ দিদার, আবদুল হাসিম ও মোঃ হেলালসহ অসংখ্য গ্রাহকের লাখ লাখ টাকা মূল্যের চেইন, আংটি, কানের দুল ও তাবিজসহ বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার ওই দোকানে বন্ধক রাখা রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই ঋণের টাকা ও লভ্যাংশ আংশিক বা পূর্ণ পরিশোধ করার পরও মাসের পর মাস তাদের গহনা ফেরত দেওয়া হয়নি।
দোকানে তালা দিয়ে পলায়ন ও প্রাণনাশের হুমকি
ভুক্তভোগীরা জানান, গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ২ থেকে ৪ নং বিবাদীর প্ররোচনা ও ইন্ধনে ১নং বিবাদী নাছির উদ্দিন গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের গহনা প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে দোকানে তালা লাগিয়ে সটকে পড়েন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা নাছির উদ্দিনের খোঁজে তার গ্রামের বাড়িতে গেলে তার পিতা ও ভাইয়েরা উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা ভুক্তভোগীদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন এবং এই নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি বা আইনগত ব্যবস্থা নিলে খুন-জখম করার হুমকি দেন বলে থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হঠাৎ করে স্বর্ণকার দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যাওয়ায় এবং স্বর্ণালঙ্কার হারানোর শঙ্কায় এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চর ফলকন এলাকার সাধারণ ও নিম্নবিত্ত পরিবারের ভুক্তভোগী মানুষেরা।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, এই সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। সাধারণ মানুষের কষ্টের স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ ও প্রতারণার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Reporter Name 



















