০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে প্রেস ক্লাবে সমাবেশ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:১০:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ১৮ বার

বিশেষ প্রতিনিধি

গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের ১৬ বছরের তয় চ্যানেল আইনগত পাওনা পরিশোধ, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ, শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার সংরক্ষণ এবং শ্রম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টায় গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ এ সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে বিভিন্ন জাতীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতা, ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধি, শ্রম অধিকারকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এতে শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার, শ্রমিক নেত্রী কল্পনা আক্তারসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

বক্তারা দাবি করেন, গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকরা গত ১৬ বছর ধরে তাদের আইনগত পাওনা থেকে বঞ্চিত। তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারার আওতায় বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা।

তবে দীর্ঘমেয়াদি বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে তারা সমঝোতার ভিত্তিতে কর পরিশোধের পর প্রত্যেকের ১০ কোটি টাকা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের দাবি, এ ধরনের সমঝোতা হলে রাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর রাজস্ব পাবে এবং দীর্ঘদিনের বিরোধেরও অবসান ঘটবে।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৯ মাস ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলেও তাদের দাবির বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হামলা, হয়রানিমূলক মামলা, গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

বক্তারা রিট পিটিশন নং ৮৪৬৪/২০২৬ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এ রিটের ফলে শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার, বিশেষ করে WPPF/WWF-সংক্রান্ত সুবিধা ও ৫ শতাংশ মুনাফাভিত্তিক অংশগ্রহণের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তারা বিষয়টি আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানান।

তাদের বক্তব্য, শ্রম আইন দেশের সব শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত। তাই কোনোভাবেই শ্রমিকদের অর্জিত আইনগত অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া উচিত নয়।

সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়। স্মারকলিপিতে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের পাওনা দ্রুত নিষ্পত্তি, শ্রমিক নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ, শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং রিট পিটিশনের সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ ও দাবিগুলো সমাবেশে বক্তাদের বক্তব্য ও আন্দোলনকারী সংগঠনের দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে প্রেস ক্লাবে সমাবেশ

আপডেট টাইম : ০১:১০:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি

গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের ১৬ বছরের তয় চ্যানেল আইনগত পাওনা পরিশোধ, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ, শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার সংরক্ষণ এবং শ্রম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টায় গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ এ সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে বিভিন্ন জাতীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতা, ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধি, শ্রম অধিকারকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এতে শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার, শ্রমিক নেত্রী কল্পনা আক্তারসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

বক্তারা দাবি করেন, গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকরা গত ১৬ বছর ধরে তাদের আইনগত পাওনা থেকে বঞ্চিত। তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারার আওতায় বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা।

তবে দীর্ঘমেয়াদি বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে তারা সমঝোতার ভিত্তিতে কর পরিশোধের পর প্রত্যেকের ১০ কোটি টাকা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের দাবি, এ ধরনের সমঝোতা হলে রাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর রাজস্ব পাবে এবং দীর্ঘদিনের বিরোধেরও অবসান ঘটবে।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৯ মাস ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলেও তাদের দাবির বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হামলা, হয়রানিমূলক মামলা, গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

বক্তারা রিট পিটিশন নং ৮৪৬৪/২০২৬ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এ রিটের ফলে শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার, বিশেষ করে WPPF/WWF-সংক্রান্ত সুবিধা ও ৫ শতাংশ মুনাফাভিত্তিক অংশগ্রহণের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তারা বিষয়টি আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানান।

তাদের বক্তব্য, শ্রম আইন দেশের সব শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত। তাই কোনোভাবেই শ্রমিকদের অর্জিত আইনগত অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া উচিত নয়।

সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়। স্মারকলিপিতে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের পাওনা দ্রুত নিষ্পত্তি, শ্রমিক নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ, শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং রিট পিটিশনের সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ ও দাবিগুলো সমাবেশে বক্তাদের বক্তব্য ও আন্দোলনকারী সংগঠনের দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।