ফরিদ আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া,প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আদালত পুকুরপাড়ের সরকারি জায়গা লিজ প্রদানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃত দরিদ্র ও ভূমিহীনদের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের কাছে লিজ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে সব লিজ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আদালত চত্বরে ‘সচেতন নাগরিক’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, আদালত পুকুরের পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর পাড়ের মূল্যবান সরকারি জায়গাগুলো আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নামে লিজ দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিতরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, আলমনগর গ্রামের অর্জিত সূত্রধর লিজের আবেদনে নিজেকে দরিদ্র হিসেবে উল্লেখ করলেও তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ফার্নিচার ব্যবসায়ী। তার কারখানা, শোরুম ও অন্যান্য সম্পদ রয়েছে বলেও দাবি করেন বক্তারা।
তাদের ভাষ্য, আদালত চত্বরে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের ফলে পরিবেশ, সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই আদালত পুকুরপাড়ের সব লিজ বাতিল, সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা এবং আদালত এলাকার নান্দনিকতা রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অর্জিত সূত্রধর বলেন, সরকারি বিধি অনুসরণ করেই তিনি লিজ নিয়েছেন। তার গ্রামের বাড়িতে একটি পৈতৃক বাড়ি ও ভাড়ায় পরিচালিত একটি ছোট দোকান রয়েছে। জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে গেলেও সেখানে সফল না হওয়ায় দেশে ফিরে তিনি লিজ নিয়েছেন।
মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হোসেন শান্তি। এতে আবু কামাল খন্দকার, মাহাবুব আলম লিটন, জালাল উদ্দিন মনির, কান্তি কুমার ভট্টাচার্য, শাহীন রেজা টিটু, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, আলমগীর হোসেন, মো. মহসিন মিয়া, আনোয়ার হোসেন ও মাহবুবুর রহমান বক্তব্য দেন।
এ বিষয়ে নবীনগর দেওয়ানি আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ মো. মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
জানা গেছে, গত ২৮ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজ কার্যালয়ের নেজারত শাখার এক আদেশে আদালত চত্বরের পূর্ব-উত্তর কোণে ১২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের একটি জায়গা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে অর্জিত সূত্রধরের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে ১৭ জুলাই সেখানে দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয়রা বাধা দেন।
Reporter Name 



















