০৪:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে নদীর ব্রীজ ধ্বংসে পড়ায় ১৫ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে

বৃষ্টির পানি কমে গেলেও শেরপুরের নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী নদীর পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেসে যাওয়া বেইলি ব্রিজের কারণে নদীর দু’পাড়ের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের নানা দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ যাত্রীরা।

গত সোমবার উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ভেসে যায়। এরপর থেকেই নদীর দু’পাড়ের কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

জানাগেছে, ওই ব্রিজটি ছিল প্রায় ১৫ হাজার মানুষের প্রতিদিন যাতায়াতের একমাত্র ও প্রধান ভরসা। ব্রিজটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সে সঙ্গে নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত কৃষিজমিতে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে কৃষিকাজ ও ফসলের পরিচর্যায়ও ব্যাঘাত ঘটছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, বিকল্প কোনো সড়ক ব্যবস্থা না থাকায় জরুরি প্রয়োজনেও মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ আছেন।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনগণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাময়িকভাবে একটি নৌকা চালু করা হয়েছে। তবে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

উল্লেখ্য, টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট প্রবল স্রোতে সোমবার বেইলি ব্রিজটি ভেসে যায়। এ সময় শিশুসহ ৩জন নদীতে পড়ে গেলেও তারা সাঁতার কেটে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মালেক সাংবাদিকদের জানান, “নদীর পানি স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৪ জন গ্রেপ্তার

শেরপুরে নদীর ব্রীজ ধ্বংসে পড়ায় ১৫ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে

আপডেট টাইম : ০৮:২১:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বৃষ্টির পানি কমে গেলেও শেরপুরের নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী নদীর পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেসে যাওয়া বেইলি ব্রিজের কারণে নদীর দু’পাড়ের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের নানা দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ যাত্রীরা।

গত সোমবার উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ভেসে যায়। এরপর থেকেই নদীর দু’পাড়ের কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

জানাগেছে, ওই ব্রিজটি ছিল প্রায় ১৫ হাজার মানুষের প্রতিদিন যাতায়াতের একমাত্র ও প্রধান ভরসা। ব্রিজটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সে সঙ্গে নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত কৃষিজমিতে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে কৃষিকাজ ও ফসলের পরিচর্যায়ও ব্যাঘাত ঘটছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, বিকল্প কোনো সড়ক ব্যবস্থা না থাকায় জরুরি প্রয়োজনেও মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ আছেন।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনগণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাময়িকভাবে একটি নৌকা চালু করা হয়েছে। তবে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

উল্লেখ্য, টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট প্রবল স্রোতে সোমবার বেইলি ব্রিজটি ভেসে যায়। এ সময় শিশুসহ ৩জন নদীতে পড়ে গেলেও তারা সাঁতার কেটে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মালেক সাংবাদিকদের জানান, “নদীর পানি স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”