০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেনাপোলে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিতের অভিযোগ

যশোরের বেনাপোলে ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা যুব দলের আহবায়ক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম কর্তৃক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহসানুল কবীর তুহিনকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিতের ঘটনায় ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবক চলছে মহলে নিন্দার ঝড়।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট লিখে বিরুপ মন্তব্য লিখে পোস্ট লিখছেন নেটিজেনরা। যদিও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের চাপে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা মুখ না খুললেও সভাপতির হাতে শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনাটি এখন টক অব দা টাউনে পরিনত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়টির প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্ররা জানান, গত সোমবার দুপরে বিদ্যালয়ের সভাপতি প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেই। তারপর তার রুমের ভিতর হতে চড় থাপ্পড় ও গালাগালির শব্দ শুনতে পান। এসময় প্রধান শিক্ষককে আপনি আমাকে মারছেন কেন প্রশ্ন করতে শোনা যায়। এসময় স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষক এমপিওভুক্ত ভাতা আন্দোলনে লক্ষ্যে শার্শা উপজেলায় ছিলো বলে জানা গেছে।

তারা আরো জানায়। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষকের নিকট জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে প্রতিনিধিকে জানান,বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে সভাপতির সাথে তার কথা কাটা কাটি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপি নেতা সনির মধ্যস্তায় ঘটনাটির মিমাংসা হন।
অভিযুক্ত বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সভাপতি মোস্তাফিজ্জোহা সেলিমের সাথে যোগাযোগের চেষ্ঠা চালালেও তার সাক্ষাৎ না মেলায় বক্তব্য জানা যাইনী।

অপর দিকে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম দুর্নীতি ও ছাত্রদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে যা নিয়ে একাধিক পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের বিল ভাউচারে স্বাক্ষরে অনিয়ম নিয়ে শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের এক শিক্ষক জানান, গত ৫ অক্টোবর ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে সেই কমিটিতে সভাপতি ছিলেন মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতা ও ব্যাক্তিদের ম্যানেজিং কমিটি থেকে বাদ দিতে প্রজ্ঞাপন দেই। সেই আলোকে প্রধান শিক্ষক তুহিন নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট দরখাস্ত দেন। সেই আলোকে স্কুল কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজ্জোহা সেলিমকে না জানিয়ে কেন ইউএনও বরাবর দরখাস্ত দিয়েছে সেটার জন্যই তার গায়ে হাত তুলেছে। সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়েছে ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক ব্যক্তির পরিবর্তে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে বেসরকারি কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি গঠনের। এ পদে সরকারি কর্মকর্তা কিংবা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রাখার বিধান করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংবাদ লেখা কালীন সময়ে সরকারী একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উভয়পক্ষকে সৃষ্ট গোলযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলেও কোন সদ উত্তর পাইনী। এ ঘটনায় জনসাধারনের মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। তবে কি প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম না সভাপতির ক্ষমতার দাপট প্রয়োগ এমন প্রশ্ন? এখন জনমনে।
শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনায় ক্ষুদ্ধ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ও অভিভাবকরা। তারা বলেন শিক্ষকরা মানুষ তৈরীর কারিগর। ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনা ঘৃনীত ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ তাই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের দাবী তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

বেনাপোলে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিতের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৫:১৬:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

যশোরের বেনাপোলে ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা যুব দলের আহবায়ক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম কর্তৃক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহসানুল কবীর তুহিনকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিতের ঘটনায় ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবক চলছে মহলে নিন্দার ঝড়।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট লিখে বিরুপ মন্তব্য লিখে পোস্ট লিখছেন নেটিজেনরা। যদিও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের চাপে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা মুখ না খুললেও সভাপতির হাতে শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনাটি এখন টক অব দা টাউনে পরিনত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়টির প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্ররা জানান, গত সোমবার দুপরে বিদ্যালয়ের সভাপতি প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেই। তারপর তার রুমের ভিতর হতে চড় থাপ্পড় ও গালাগালির শব্দ শুনতে পান। এসময় প্রধান শিক্ষককে আপনি আমাকে মারছেন কেন প্রশ্ন করতে শোনা যায়। এসময় স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষক এমপিওভুক্ত ভাতা আন্দোলনে লক্ষ্যে শার্শা উপজেলায় ছিলো বলে জানা গেছে।

তারা আরো জানায়। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষকের নিকট জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে প্রতিনিধিকে জানান,বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে সভাপতির সাথে তার কথা কাটা কাটি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপি নেতা সনির মধ্যস্তায় ঘটনাটির মিমাংসা হন।
অভিযুক্ত বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সভাপতি মোস্তাফিজ্জোহা সেলিমের সাথে যোগাযোগের চেষ্ঠা চালালেও তার সাক্ষাৎ না মেলায় বক্তব্য জানা যাইনী।

অপর দিকে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম দুর্নীতি ও ছাত্রদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে যা নিয়ে একাধিক পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের বিল ভাউচারে স্বাক্ষরে অনিয়ম নিয়ে শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের এক শিক্ষক জানান, গত ৫ অক্টোবর ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে সেই কমিটিতে সভাপতি ছিলেন মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতা ও ব্যাক্তিদের ম্যানেজিং কমিটি থেকে বাদ দিতে প্রজ্ঞাপন দেই। সেই আলোকে প্রধান শিক্ষক তুহিন নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট দরখাস্ত দেন। সেই আলোকে স্কুল কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজ্জোহা সেলিমকে না জানিয়ে কেন ইউএনও বরাবর দরখাস্ত দিয়েছে সেটার জন্যই তার গায়ে হাত তুলেছে। সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়েছে ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক ব্যক্তির পরিবর্তে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে বেসরকারি কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি গঠনের। এ পদে সরকারি কর্মকর্তা কিংবা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রাখার বিধান করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংবাদ লেখা কালীন সময়ে সরকারী একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উভয়পক্ষকে সৃষ্ট গোলযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলেও কোন সদ উত্তর পাইনী। এ ঘটনায় জনসাধারনের মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। তবে কি প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম না সভাপতির ক্ষমতার দাপট প্রয়োগ এমন প্রশ্ন? এখন জনমনে।
শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনায় ক্ষুদ্ধ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ও অভিভাবকরা। তারা বলেন শিক্ষকরা মানুষ তৈরীর কারিগর। ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনা ঘৃনীত ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ তাই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের দাবী তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।