০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তর মান্ডায় লিটনের জুয়ার আস্তানায় অভিযান: ১৭ জুয়াড়ি আটক, দীর্ঘদিনের অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৩৫:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০১ বার

প্রিয়া চৌধুরী,

রাজধানীর দক্ষিণাংশে অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠা উত্তর মান্ডায় ফের জুয়ার আস্তানার সন্ধান মিলেছে। উত্তর মান্ডা এলাকার ১০২ নম্বর আমির মিয়ার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ জুয়ার স্পটে অভিযান চালিয়ে ১৭ জন জুয়াড়িকে হাতেনাতে আটক করেছে মুগদা থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুগদা থানার একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন মুগদা থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) শিশির। কুমার কর্মকার অভিযানে দেখা যায়, বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় নিয়মিত জুয়া খেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান তৈরি করা হয়েছে, যেখানে নগদ টাকা ও বিভিন্ন ধরনের জুয়ার সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রকাশ্যে জুয়া চলছিল।

পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্রই জুয়াড়িরা পালানোর চেষ্টা করলে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ১৭ জনকে আটক করা হয়। এ সময় জুয়ার কাজে ব্যবহৃত নগদ টাকা ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আটককৃতদের পেছনে রয়েছে একটি সুসংগঠিত চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, লিটন নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে আমির আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এই জুয়ার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়াল ব্যবহার করে এবং বিএনপির কিছু নামধারী নেতার প্রভাব দেখিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ফলে ভয়ে বা চাপের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, প্রায়ই গভীর রাত পর্যন্ত ওই বাড়িতে সন্দেহজনক লোকজনের আনাগোনা দেখা যেত। জুয়া কেন্দ্র করে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদক সংশ্লিষ্ট নানা অপরাধ বাড়ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে মুগদা থানা পুলিশ জানায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে জুয়া আইনে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জুয়ার সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত আছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন অভিযানে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করলেও তারা আশঙ্কা করছেন, প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে যেন এই চক্র আবার সক্রিয় হয়ে না ওঠে। তাই নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

উল্লেখ্য, রাজধানীতে জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হলেও প্রভাবশালী ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এসব আস্তানা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

উত্তর মান্ডায় লিটনের জুয়ার আস্তানায় অভিযান: ১৭ জুয়াড়ি আটক, দীর্ঘদিনের অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৩:৩৫:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

প্রিয়া চৌধুরী,

রাজধানীর দক্ষিণাংশে অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠা উত্তর মান্ডায় ফের জুয়ার আস্তানার সন্ধান মিলেছে। উত্তর মান্ডা এলাকার ১০২ নম্বর আমির মিয়ার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ জুয়ার স্পটে অভিযান চালিয়ে ১৭ জন জুয়াড়িকে হাতেনাতে আটক করেছে মুগদা থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুগদা থানার একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন মুগদা থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) শিশির। কুমার কর্মকার অভিযানে দেখা যায়, বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় নিয়মিত জুয়া খেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান তৈরি করা হয়েছে, যেখানে নগদ টাকা ও বিভিন্ন ধরনের জুয়ার সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রকাশ্যে জুয়া চলছিল।

পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্রই জুয়াড়িরা পালানোর চেষ্টা করলে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ১৭ জনকে আটক করা হয়। এ সময় জুয়ার কাজে ব্যবহৃত নগদ টাকা ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আটককৃতদের পেছনে রয়েছে একটি সুসংগঠিত চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, লিটন নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে আমির আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এই জুয়ার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়াল ব্যবহার করে এবং বিএনপির কিছু নামধারী নেতার প্রভাব দেখিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ফলে ভয়ে বা চাপের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, প্রায়ই গভীর রাত পর্যন্ত ওই বাড়িতে সন্দেহজনক লোকজনের আনাগোনা দেখা যেত। জুয়া কেন্দ্র করে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদক সংশ্লিষ্ট নানা অপরাধ বাড়ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে মুগদা থানা পুলিশ জানায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে জুয়া আইনে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জুয়ার সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত আছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন অভিযানে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করলেও তারা আশঙ্কা করছেন, প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে যেন এই চক্র আবার সক্রিয় হয়ে না ওঠে। তাই নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

উল্লেখ্য, রাজধানীতে জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হলেও প্রভাবশালী ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এসব আস্তানা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।