১১:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিকারীদের জন্য সতর্কবার্তা: টাঙ্গুয়ার হাওরে তিনজন আটক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:২২:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩০ বার

স্টাফ রিপোর্টার

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে আবারও ধরা পড়েছে পরিবেশবিধ্বংসী চক্র। পরিযায়ী পাখি নিধনের উদ্দেশ্যে বিষটোপ, ফাঁদ ও অবৈধ শিকার সরঞ্জামসহ তিনজন শিকারীকে হাতেনাতে আটক করেছে টাঙ্গুয়ার হাওরে দায়িত্বরত আনসার সদস্য ও স্থানীয় কমিউনিটি প্রতিনিধিরা।

আটক ব্যক্তিরা হলেন তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের মইয়াজুড়ি গ্রামের কিসমত আলীর ছেলে রফিক মিয়া (৩০), একই গ্রামের লেজু মিয়ার ছেলে কাইয়ুম মিয়া (৪০) এবং পার্শ্ববর্তী মন্দিয়াতা গ্রামের ধলা মিয়ার ছেলে হারুন মিয়া (৪৫)।

মঙ্গলবার ভোরে হাওরের গভীর জলাভূমিতে নিয়মিত টহল চলাকালে গোলাবাড়ি ও রামসিংহপুর আনসার ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোলাবাড়ি আনসার ক্যাম্পের পিসি মোঃ জুয়েল মিয়া। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন আনসার আকরাম হোসেন, এনামুল হক, উত্তম সরকার, মোঃ মমিনুল ইসলাম, মোঃ মাইনুল ইসলাম এবং মোঃ জাহাঙ্গীর আলী। পাশাপাশি টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুর আলম ও কোষাধ্যক্ষ আবুল কালাম সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

অভিযানকালে আটককৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিষমেশানো টোপ, জাল, ফাঁদ ও অন্যান্য শিকার সরঞ্জাম। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে, দ্রুত অর্থের লোভে নিয়মিত পরিযায়ী পাখি শিকার করে বাজারে বিক্রি করত।

এ ব্যাপারে গোলাবাড়ি আনসার ক্যাম্পের পিসি মোঃ জুয়েল মিয়া বলেন,আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আটককৃত শিকারীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিযায়ী পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কঠোরভাবে কাজ করছি। যারা এখনও অবৈধ শিকার চালাচ্ছে,তাদের জন্য এটি সতর্কবার্তা।

পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন, প্রতি শীত মৌসুমে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক পরিযায়ী পাখি টাঙ্গুয়ার হাওরে আসে। অবৈধ শিকার ও বিষপ্রয়োগ চলতে থাকলে এই হাওর পরিণত হবে পাখিশূন্য ও প্রাণহীন জলাভূমিতে।টাঙ্গুয়ার হাওর কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক নয়—এটি বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের প্রাণকেন্দ্র এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অমূল্য সম্পদ। এই অভিযান প্রমাণ করে, পরিবেশ রক্ষায় কেউই নিষ্ক্রিয় থাকতে পারবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

শিকারীদের জন্য সতর্কবার্তা: টাঙ্গুয়ার হাওরে তিনজন আটক

আপডেট টাইম : ০২:২২:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে আবারও ধরা পড়েছে পরিবেশবিধ্বংসী চক্র। পরিযায়ী পাখি নিধনের উদ্দেশ্যে বিষটোপ, ফাঁদ ও অবৈধ শিকার সরঞ্জামসহ তিনজন শিকারীকে হাতেনাতে আটক করেছে টাঙ্গুয়ার হাওরে দায়িত্বরত আনসার সদস্য ও স্থানীয় কমিউনিটি প্রতিনিধিরা।

আটক ব্যক্তিরা হলেন তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের মইয়াজুড়ি গ্রামের কিসমত আলীর ছেলে রফিক মিয়া (৩০), একই গ্রামের লেজু মিয়ার ছেলে কাইয়ুম মিয়া (৪০) এবং পার্শ্ববর্তী মন্দিয়াতা গ্রামের ধলা মিয়ার ছেলে হারুন মিয়া (৪৫)।

মঙ্গলবার ভোরে হাওরের গভীর জলাভূমিতে নিয়মিত টহল চলাকালে গোলাবাড়ি ও রামসিংহপুর আনসার ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোলাবাড়ি আনসার ক্যাম্পের পিসি মোঃ জুয়েল মিয়া। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন আনসার আকরাম হোসেন, এনামুল হক, উত্তম সরকার, মোঃ মমিনুল ইসলাম, মোঃ মাইনুল ইসলাম এবং মোঃ জাহাঙ্গীর আলী। পাশাপাশি টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুর আলম ও কোষাধ্যক্ষ আবুল কালাম সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

অভিযানকালে আটককৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিষমেশানো টোপ, জাল, ফাঁদ ও অন্যান্য শিকার সরঞ্জাম। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে, দ্রুত অর্থের লোভে নিয়মিত পরিযায়ী পাখি শিকার করে বাজারে বিক্রি করত।

এ ব্যাপারে গোলাবাড়ি আনসার ক্যাম্পের পিসি মোঃ জুয়েল মিয়া বলেন,আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আটককৃত শিকারীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিযায়ী পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কঠোরভাবে কাজ করছি। যারা এখনও অবৈধ শিকার চালাচ্ছে,তাদের জন্য এটি সতর্কবার্তা।

পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন, প্রতি শীত মৌসুমে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক পরিযায়ী পাখি টাঙ্গুয়ার হাওরে আসে। অবৈধ শিকার ও বিষপ্রয়োগ চলতে থাকলে এই হাওর পরিণত হবে পাখিশূন্য ও প্রাণহীন জলাভূমিতে।টাঙ্গুয়ার হাওর কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক নয়—এটি বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের প্রাণকেন্দ্র এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অমূল্য সম্পদ। এই অভিযান প্রমাণ করে, পরিবেশ রক্ষায় কেউই নিষ্ক্রিয় থাকতে পারবে না।