চাঁদপুর পৌরসভার কর আদায়কারী তৌহিদুল ইসলাম চপলের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, একই অভিযোগের অনুলিপি চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসকের কাছেও প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, তৌহিদুল ইসলাম চপল ২০০১ সালের ২৪ জুন ১৪তম গ্রেডে (বেতন স্কেল ২১০০–৪৩১৫ টাকা) কর আদায়কারীর পদে যোগদান করেন। কিন্তু ২০০২ সালের ৯ মার্চ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই প্রভাব খাটিয়ে ১১তম গ্রেডে (২৫৫০–৫৫০৫ টাকা) বেতন উন্নীত করেন। বর্তমানে তিনি মাসিক ৪১ হাজার ৫৫০ টাকা মূল বেতনসহ ভাতা মিলে প্রায় ৮৪ হাজার ৬০০ টাকা বেতন ভোগ করছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি প্রতি অর্থবছরে পৌর কর আদায়ের ক্ষেত্রে প্রশাসক বা মেয়রকে ম্যানেজ করে ৫% হারে কমিশন আদায় করেন। করদাতারা টাকা না দিলে তাদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় বন্ধ রাখেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতি বছর হাট–বাজার ইজারা প্রদানে ৮–১০ লক্ষ টাকা করে উৎকোচ গ্রহণ, বাজেটে গড়মিল এবং অডিট এড়ানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কর আদায়কারী তৌহিদুল ইসলাম পৌর এলাকার বিষ্ণুদী ও ঘোষপাড়া এলাকায় বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার নামে ও বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি টাকার এফডিআর ও ডিপিএস রয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একটি মামলাও তিনি প্রভাব খাটিয়ে ধামাচাপা দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, “নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রয়াসে যেখানে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে একজন পৌর কর্মকর্তা ফ্যাসিবাদী আচরণে পৌরসভার ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর আদায়কারী তৌহিদুল ইসলাম চপল বলেন,যে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, তাকে সাহস থাকলে সামনে এসে বলতে বলুন। আমি নিজেই প্রশাসক স্যারকে তদন্তের জন্য বলেছি। আমি নবম গ্রেডে বেতন পাই। ব্যাংকে এফডিআর আছে—থাকতেই পারে, এতে অসঙ্গতি কোথায়?
চাঁদপুর পৌর প্রশাসক গোলাম জাকারিয়া বলেন,অভিযোগের বিষয়টি আমরা জেনেছি। এটি সরাসরি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দাখিল হয়েছে এবং আমাদের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় যে নির্দেশ দেবে, আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। পাশাপাশি আমরা নিজেরাও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করছি।
চাঁদপুর প্রতিনিধি 



















