কবির হোসেন রাকিব (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নে সরকারি খাল ও রাস্তা দখল করে মাটি লুটের মহোৎসব চলছে। উপজেলার ভুলুয়া নদীর শাখা ‘সেউয়াখালী খাল’ ভরাট করে এবং রিংবাঁধ কেটে মাটি পাচার করায় আসন্ন বর্ষায় হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চর কাদিরা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মানিক হাওলাদারের মাছের প্রজেক্ট থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মেসার্স এ.জি.বি (AGB) ইটভাটায়। জহির উদ্দিন নামে এক অসাধু মাটি ব্যবসায়ী এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা বলে অভিযোগ উঠেছে।
মাটি পরিবহনের সুবিধার্থে সরকারি সেউয়াখালী খালের ওপর অবৈধ মাটির বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, খালের পানি প্রবাহের জন্য থাকা রিংবাঁধটিও কেটে ফেলায় স্বাভাবিক পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।
গত ১০-১৫ দিন ধরে দৈনিক ৩০ থেকে ৪০টি ট্রাক্টর (টলি) দিয়ে দিন রাত অবিরত মাটি নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে এলাকার সরকারি রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভারী যান চলাচলের কারণে ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করতে গিয়েও প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
মাটি ব্যবসার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জহির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং প্রতিবেদকের সাথে বিষয়টি ‘রফা-দফা’ বা ম্যানেজ করার প্রস্তাব দেন।
তবে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন কমলনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আরাফাত হুসাইন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন:
“বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরকারি সম্পদ নষ্ট করে এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে মাটি কাটার কোনো সুযোগ নেই। আমি নিজেই সরেজমিনে গিয়ে এই বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”
বর্ষা মৌসুম আসার আগেই খালের বাঁধ অপসারণ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অন্যথায় জলাবদ্ধতার কারণে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
Reporter Name 



















