কবির হোসেন রাকিব , (লক্ষ্মীপুর):
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজির হাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গা ঘেঁষেই যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিষাক্ত বর্জ্য। এতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণসহ আশপাশের পরিবেশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থী ও পথচারীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের পাশেই স্তূপ করে রাখা হয়েছে ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, স্যালাইন ব্যাগ, রক্তমাখা তুলা, ব্যান্ডেজসহ নানা ধরনের ক্ষতিকর ক্লিনিক্যাল বর্জ্য। বৃষ্টি হলে এসব বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ আরও প্রকট আকার ধারণ করে। ড্রেন ও খোলা জায়গায় এসব বর্জ্য ফেলার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে, যা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি ছড়ানোর শঙ্কা তৈরি করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশপাশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রাতের আঁধারে বা ভোরে এই জনবহুল এলাকায় ময়লা ফেলে যায়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াতের সময় নাকে রুমাল দিয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক সময় ছোট শিশুরা কৌতূহলবশত এসব বিপজ্জনক বর্জ্য নাড়াচাড়া করে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
অভিভাবকদের উদ্বেগ: কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে এভাবে হাসপাতালের ময়লা ফেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সন্তানেরা প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।”
বিশেষজ্ঞদের মত: চিকিৎসকদের মতে, ক্লিনিক্যাল বর্জ্য সাধারণ ময়লার চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক। এগুলো থেকে হেপাটাইটিস বি, সি এবং বিভিন্ন চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় তারা দ্রুত আক্রান্ত হতে পারে।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ: এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে এসব ডাস্টবিন বা বর্জ্য অপসারণ করে নির্দিষ্ট নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী।
Reporter Name 



















