০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানোরে উর্বর কৃষিজমির মাটি কেটে স্থানান্তর: প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্যে আতঙ্ক, প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৩৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮২ বার

সোহেল রান,ভ্রাম্যমাণ,প্রতিনিধি :

রাজশাহীর রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের বাঘের মোড় এলাকায় প্রকাশ্যে উর্বর কৃষিজমির মাটি কেটে অন্যত্র স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে একটি প্রভাবশালী মাটি খেকো চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে এলাকায় উদ্বেগ, ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের বেলাতেই ট্রাক, ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে ফসলি জমির উপরের উর্বর স্তর—যা কৃষি উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কখনো গভীর রাতেও চলে এ মাটি কাটার মহড়া। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু সিন্ডিকেট চক্র কৃষকদের প্রলোভন দেখিয়ে বা চাপ প্রয়োগ করে জমির মাটি সংগ্রহ করছে এবং তা বিভিন্ন নির্মাণকাজে ব্যবহার বা বিক্রি করছে।
এলাকার একাধিক কৃষক জানান, “এই জমিই আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু দিনের পর দিন উর্বর মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উৎপাদনক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। প্রশাসনের কাছে মৌখিকভাবে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।”
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিজমির উপরের ৬ থেকে ১২ ইঞ্চি মাটির স্তর (টপ সয়েল) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই স্তরেই থাকে জৈব সার, পুষ্টি উপাদান ও অণুজীব, যা ফসলের বৃদ্ধি ও ফলনের জন্য অপরিহার্য। একবার এই স্তর অপসারণ হলে জমি অনুর্বর হয়ে পড়ে এবং আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল ব্যয় প্রয়োজন হয়। তাছাড়া অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার ফলে ভূমির স্বাভাবিক উচ্চতা কমে গিয়ে জলাবদ্ধতা, ভাঙন ও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাটি কাটার ফলে আশপাশের গ্রামীণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী যানবাহনের চলাচলে রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে ধুলাবালি ও শব্দদূষণ। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে এবং শিক্ষার্থীরাও সমস্যার মুখে পড়ছে।
সচেতন মহলের মতে, অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা না করলে এসব চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের চিহ্নিত করা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, “কৃষি নির্ভর এই জনপদে উর্বর জমি রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ খাদ্য সংকট ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি সুদৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

তানোরে উর্বর কৃষিজমির মাটি কেটে স্থানান্তর: প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্যে আতঙ্ক, প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি

আপডেট টাইম : ০৩:৩৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সোহেল রান,ভ্রাম্যমাণ,প্রতিনিধি :

রাজশাহীর রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের বাঘের মোড় এলাকায় প্রকাশ্যে উর্বর কৃষিজমির মাটি কেটে অন্যত্র স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে একটি প্রভাবশালী মাটি খেকো চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে এলাকায় উদ্বেগ, ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের বেলাতেই ট্রাক, ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে ফসলি জমির উপরের উর্বর স্তর—যা কৃষি উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কখনো গভীর রাতেও চলে এ মাটি কাটার মহড়া। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু সিন্ডিকেট চক্র কৃষকদের প্রলোভন দেখিয়ে বা চাপ প্রয়োগ করে জমির মাটি সংগ্রহ করছে এবং তা বিভিন্ন নির্মাণকাজে ব্যবহার বা বিক্রি করছে।
এলাকার একাধিক কৃষক জানান, “এই জমিই আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু দিনের পর দিন উর্বর মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উৎপাদনক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। প্রশাসনের কাছে মৌখিকভাবে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।”
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিজমির উপরের ৬ থেকে ১২ ইঞ্চি মাটির স্তর (টপ সয়েল) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই স্তরেই থাকে জৈব সার, পুষ্টি উপাদান ও অণুজীব, যা ফসলের বৃদ্ধি ও ফলনের জন্য অপরিহার্য। একবার এই স্তর অপসারণ হলে জমি অনুর্বর হয়ে পড়ে এবং আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল ব্যয় প্রয়োজন হয়। তাছাড়া অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার ফলে ভূমির স্বাভাবিক উচ্চতা কমে গিয়ে জলাবদ্ধতা, ভাঙন ও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাটি কাটার ফলে আশপাশের গ্রামীণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী যানবাহনের চলাচলে রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে ধুলাবালি ও শব্দদূষণ। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে এবং শিক্ষার্থীরাও সমস্যার মুখে পড়ছে।
সচেতন মহলের মতে, অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা না করলে এসব চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের চিহ্নিত করা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, “কৃষি নির্ভর এই জনপদে উর্বর জমি রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ খাদ্য সংকট ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি সুদৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।