০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কমলনগরে মেঘনায় জালের দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নৌকাডুবিতে আতঙ্কে জেলেপাড়া

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:৪৭:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯৭ বার

মাহমুদুর রহমান মনজু
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীতে অবৈধ জালের দখল ও মাছ ধরার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে একটি মাছ ধরার নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (সময় উল্লেখযোগ্য) দুপুরে উপজেলার পাটোয়ারীহাট চর ফলকন ও সাহেবেরহাট সংলগ্ন নাসিরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেঘনায় নিষিদ্ধ ‘ব্যাট জাল’সহ বিভিন্ন অবৈধ জালের অবস্থান ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় হেলাল মেম্বার গ্রুপ ও কবির গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে নাসিরগঞ্জ এলাকায় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে কবির গ্রুপের লোকজন হেলাল মেম্বার গ্রুপের একটি নৌকা ডুবিয়ে দেয়।
নদীতীরের বাসিন্দারা বলেন, মেঘনায় মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ জালের ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাই এ সংঘাতের মূল কারণ। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসব অপকর্ম চলায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সাহেবেরহাট ও পাটোয়ারীহাট সীমানায় ‘খেয়া’ ও জালের দখল নিয়ে প্রায়ই উত্তেজনা তৈরি হয়, যার ভুক্তভোগী হন সাধারণ জেলেরা।
সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও বিষয়টি এখনও আইনি প্রক্রিয়ায় গড়ায়নি। জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালীরা শালিসের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে হেলাল মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “জেলে-জেলে ঝগড়া হয়েছে, এটি নিয়ে নিউজের প্রয়োজন নেই।” অন্যদিকে কবির নদীতে অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল আলম বলেন, “নদীর এই ঘটনা নিয়ে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘর্ষের ভিডিও দেখেছি। দুই পক্ষকেই ডাকা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসী ও সাধারণ জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্রুপভিত্তিক প্রভাব ও আধিপত্যের কারণে তারা সবসময় আতঙ্কে থাকেন। তারা মেঘনা নদীকে দখলমুক্ত করা এবং সব ধরনের অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের স্থায়ী ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

কমলনগরে মেঘনায় জালের দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নৌকাডুবিতে আতঙ্কে জেলেপাড়া

আপডেট টাইম : ০৭:৪৭:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মাহমুদুর রহমান মনজু
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীতে অবৈধ জালের দখল ও মাছ ধরার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে একটি মাছ ধরার নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (সময় উল্লেখযোগ্য) দুপুরে উপজেলার পাটোয়ারীহাট চর ফলকন ও সাহেবেরহাট সংলগ্ন নাসিরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেঘনায় নিষিদ্ধ ‘ব্যাট জাল’সহ বিভিন্ন অবৈধ জালের অবস্থান ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় হেলাল মেম্বার গ্রুপ ও কবির গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে নাসিরগঞ্জ এলাকায় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে কবির গ্রুপের লোকজন হেলাল মেম্বার গ্রুপের একটি নৌকা ডুবিয়ে দেয়।
নদীতীরের বাসিন্দারা বলেন, মেঘনায় মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ জালের ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাই এ সংঘাতের মূল কারণ। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসব অপকর্ম চলায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সাহেবেরহাট ও পাটোয়ারীহাট সীমানায় ‘খেয়া’ ও জালের দখল নিয়ে প্রায়ই উত্তেজনা তৈরি হয়, যার ভুক্তভোগী হন সাধারণ জেলেরা।
সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও বিষয়টি এখনও আইনি প্রক্রিয়ায় গড়ায়নি। জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালীরা শালিসের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে হেলাল মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “জেলে-জেলে ঝগড়া হয়েছে, এটি নিয়ে নিউজের প্রয়োজন নেই।” অন্যদিকে কবির নদীতে অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল আলম বলেন, “নদীর এই ঘটনা নিয়ে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘর্ষের ভিডিও দেখেছি। দুই পক্ষকেই ডাকা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসী ও সাধারণ জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্রুপভিত্তিক প্রভাব ও আধিপত্যের কারণে তারা সবসময় আতঙ্কে থাকেন। তারা মেঘনা নদীকে দখলমুক্ত করা এবং সব ধরনের অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের স্থায়ী ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।