০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কমলনগরে সর্বনাশা অনলাইন জুয়া: ধ্বংসের পথে স্থানীয় যুবসমাজ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় বর্তমানে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়া ও গেমিং আসক্তি। একসময়ের শান্ত এই জনপদে এখন তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ স্মার্টফোনে ‘ক্যাসিনো’, ‘এরোপ্লেন’ (এভিয়েটর) এবং বিভিন্ন অনলাইন বাজি ধরার অ্যাপে বুঁদ হয়ে থাকছে। এর ফলে উপজেলার সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ও মানসিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়ছে শত শত পরিবার।

যেভাবে ছড়াচ্ছে এই মরণনেশা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, চায়ের দোকান এমনকি নির্জন এলাকাগুলোতেও দলবেঁধে তরুণদের স্মার্টফোনে মাথা নিচু করে থাকতে দেখা যায়। তারা মূলত নিম্নলিখিত মাধ্যমগুলোতে আসক্ত হচ্ছে:
অনলাইন ক্যাসিনো: বিদেশের বিভিন্ন সার্ভারের মাধ্যমে পরিচালিত জুয়া।
এরোপ্লেন গেম (এভিয়েটর): অল্প সময়ে টাকা দ্বিগুণ করার লোভে এই ঝুঁকিপূর্ণ খেলায় মেতে উঠছে কিশোর-যুবকরা।
বেটিং সাইট: ক্রিকেট বা ফুটবল ম্যাচ নিয়ে বিভিন্ন সাইটে বাজি ধরা।
সামাজিক ও পারিবারিক বিপর্যয়
স্থানীয় অভিভাবকদের ভাষ্যমতে, এই জুয়ার নেশায় পড়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে। জুয়ার টাকার যোগান দিতে গিয়ে অনেকেই পরিবারের সঞ্চয় চুরি করছে, এমনকি জড়িয়ে পড়ছে ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।
একজন ভুক্তভোগী বাবা আক্ষেপ করে বলেন, “আমার ছেলে দিন-রাত ফোনে কী যেন খেলে। ঘরে টাকা রাখা যাচ্ছে না। মানসিকভাবে সে দিন দিন উগ্র হয়ে উঠছে।”
সচেতন মহলের উদ্বেগ
কমল নগরের সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এখনই যদি এর লাগাম টেনে ধরা না যায়, তবে এই উপজেলার যুবশক্তি মেধাহীন ও অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠবে। তারা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন যেন:
দ্রুত এই সব অ্যাপ ও সাইট বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
চায়ের দোকান ও পাবলিক প্লেসে দীর্ঘক্ষণ আড্ডারতদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়।
অভিভাবকদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে সভা-সমাবেশ করা হয়।
সতর্কবার্তা: অনলাইন জুয়া শুধু আপনার অর্থই কেড়ে নেয় না, এটি একটি গুরুতর সাইবার অপরাধ এবং সামাজিক ব্যাধি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

কমলনগরে সর্বনাশা অনলাইন জুয়া: ধ্বংসের পথে স্থানীয় যুবসমাজ

আপডেট টাইম : ০৩:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় বর্তমানে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়া ও গেমিং আসক্তি। একসময়ের শান্ত এই জনপদে এখন তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ স্মার্টফোনে ‘ক্যাসিনো’, ‘এরোপ্লেন’ (এভিয়েটর) এবং বিভিন্ন অনলাইন বাজি ধরার অ্যাপে বুঁদ হয়ে থাকছে। এর ফলে উপজেলার সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ও মানসিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়ছে শত শত পরিবার।

যেভাবে ছড়াচ্ছে এই মরণনেশা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, চায়ের দোকান এমনকি নির্জন এলাকাগুলোতেও দলবেঁধে তরুণদের স্মার্টফোনে মাথা নিচু করে থাকতে দেখা যায়। তারা মূলত নিম্নলিখিত মাধ্যমগুলোতে আসক্ত হচ্ছে:
অনলাইন ক্যাসিনো: বিদেশের বিভিন্ন সার্ভারের মাধ্যমে পরিচালিত জুয়া।
এরোপ্লেন গেম (এভিয়েটর): অল্প সময়ে টাকা দ্বিগুণ করার লোভে এই ঝুঁকিপূর্ণ খেলায় মেতে উঠছে কিশোর-যুবকরা।
বেটিং সাইট: ক্রিকেট বা ফুটবল ম্যাচ নিয়ে বিভিন্ন সাইটে বাজি ধরা।
সামাজিক ও পারিবারিক বিপর্যয়
স্থানীয় অভিভাবকদের ভাষ্যমতে, এই জুয়ার নেশায় পড়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে। জুয়ার টাকার যোগান দিতে গিয়ে অনেকেই পরিবারের সঞ্চয় চুরি করছে, এমনকি জড়িয়ে পড়ছে ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।
একজন ভুক্তভোগী বাবা আক্ষেপ করে বলেন, “আমার ছেলে দিন-রাত ফোনে কী যেন খেলে। ঘরে টাকা রাখা যাচ্ছে না। মানসিকভাবে সে দিন দিন উগ্র হয়ে উঠছে।”
সচেতন মহলের উদ্বেগ
কমল নগরের সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এখনই যদি এর লাগাম টেনে ধরা না যায়, তবে এই উপজেলার যুবশক্তি মেধাহীন ও অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠবে। তারা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন যেন:
দ্রুত এই সব অ্যাপ ও সাইট বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
চায়ের দোকান ও পাবলিক প্লেসে দীর্ঘক্ষণ আড্ডারতদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়।
অভিভাবকদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে সভা-সমাবেশ করা হয়।
সতর্কবার্তা: অনলাইন জুয়া শুধু আপনার অর্থই কেড়ে নেয় না, এটি একটি গুরুতর সাইবার অপরাধ এবং সামাজিক ব্যাধি।