০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিখোঁজ ইলেকট্রিশিয়ানের লাশ উদ্ধারের ২ দিন পর পরিত্যক্ত অবস্থায় মোটরসাইকেল উদ্ধার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৫১:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০৯ বার

আরিফ শেখ, রংপুর প্রতিনিধিঃ

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মঞ্জুরুল হোসেন (৪৫) নামে এক ইলেকট্রিশিয়ানের আলু ক্ষেতে মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধারের দুই দিন পর তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ফায়ার সার্ভিস এলাকাসংলগ্ন একটি বাগান থেকে লাল রঙের বাজাজ প্ল্যাটিনা ১০০ মডেলের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে এক ধানচাষী তাঁর খেত পরিদর্শনে গিয়ে পাশের বাগানে পরিত্যক্ত অবস্থায় মোটরসাইকেলটি দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহত মঞ্জুরুলের পরিবার সদস্যরা এটি তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল বলে নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন মঞ্জুরুল হোসেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) তারাগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঝাকুয়াপাড়া এলাকায় রামপুরা মাজারসংলগ্ন আলুক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁকে হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে।
নিহত মঞ্জুরুল হোসেন কুর্শা ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের ফরিজ উদ্দিনের ছোট ছেলে। পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে তিনি ছয় সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। তাঁর স্ত্রী জান্নাতি বেগম, তিন সন্তান (মীম আক্তার ১৪, রাব্বি ১৩ ও জোবাইদ ৪), অসুস্থ বৃদ্ধ মা মানিজা বেগম (প্যারালাইসিস রোগী) এবং অন্যান্য সদস্যরা এখন চরম দুর্দশায় পড়েছেন। মেয়ে মীম কুর্শা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে, কিন্তু অর্থাভাবে ছেলে রাব্বি ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারেনি।

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরিবারের সদস্যরা এটি মঞ্জুরুলের বলে নিশ্চিত করেছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোনাব্বর হোসেন জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে নগদ অর্থ ও শুকনা খাবার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সন্তানদের পড়ালেখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ভাতা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পরিবারটিকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নিখোঁজ ইলেকট্রিশিয়ানের লাশ উদ্ধারের ২ দিন পর পরিত্যক্ত অবস্থায় মোটরসাইকেল উদ্ধার

আপডেট টাইম : ০২:৫১:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আরিফ শেখ, রংপুর প্রতিনিধিঃ

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মঞ্জুরুল হোসেন (৪৫) নামে এক ইলেকট্রিশিয়ানের আলু ক্ষেতে মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধারের দুই দিন পর তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ফায়ার সার্ভিস এলাকাসংলগ্ন একটি বাগান থেকে লাল রঙের বাজাজ প্ল্যাটিনা ১০০ মডেলের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে এক ধানচাষী তাঁর খেত পরিদর্শনে গিয়ে পাশের বাগানে পরিত্যক্ত অবস্থায় মোটরসাইকেলটি দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহত মঞ্জুরুলের পরিবার সদস্যরা এটি তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল বলে নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন মঞ্জুরুল হোসেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) তারাগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঝাকুয়াপাড়া এলাকায় রামপুরা মাজারসংলগ্ন আলুক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁকে হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে।
নিহত মঞ্জুরুল হোসেন কুর্শা ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের ফরিজ উদ্দিনের ছোট ছেলে। পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে তিনি ছয় সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। তাঁর স্ত্রী জান্নাতি বেগম, তিন সন্তান (মীম আক্তার ১৪, রাব্বি ১৩ ও জোবাইদ ৪), অসুস্থ বৃদ্ধ মা মানিজা বেগম (প্যারালাইসিস রোগী) এবং অন্যান্য সদস্যরা এখন চরম দুর্দশায় পড়েছেন। মেয়ে মীম কুর্শা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে, কিন্তু অর্থাভাবে ছেলে রাব্বি ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারেনি।

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরিবারের সদস্যরা এটি মঞ্জুরুলের বলে নিশ্চিত করেছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোনাব্বর হোসেন জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে নগদ অর্থ ও শুকনা খাবার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সন্তানদের পড়ালেখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ভাতা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পরিবারটিকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।