০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলছড়ি উপজেলা-তে গৃহবধূর মৃত্যু: মামলার বাদী নিয়ে বিতর্ক, ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:০৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭২ বার

মোঃ মিঠু মিয়া গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।

গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলা-তে গৃহবধূ রহিমা বেগম শিল্পী (৪৫)-এর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (বাবু) অভিযোগ করেছেন, হত্যা মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে তাঁকে বাদী হতে দেওয়া হয়নি। বরং তাঁর মামা মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন এবং এতে নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

আব্দুর রাজ্জাক বাবু জানান, তাঁর মা পারিবারিক কলহের কারণে অতীতেও একাধিকবার বাড়ি ছেড়ে চলে যেতেন। সর্বশেষ গত ডিসেম্বর মাসে তিনি আবারও নিখোঁজ হন। পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর বাবা জানতে পারেন, মা ঢাকার ডেমরা থানা এলাকায় অবস্থান করছেন। সেদিনই বাবা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরদিন ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মা-সহ তিনজন একসঙ্গে বাড়িতে ফেরেন।

তিনি আরও বলেন,মা বাড়িতে ফিরে সাধারণত কয়েকদিন কারও সঙ্গে কথা বলতেন না।এবারও তাই হয়েছিল। কিন্তু ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে দেখি।বাবা ও অন্যরা ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মায়ের মরদেহ নিচে নামাচ্ছেন। কান্নাকাটি করতে করতে বলছিলেন।তুই একি করলি। এরপর আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।

বাবু জানান, জ্ঞান ফেরার পর পুলিশ মরদেহ থানায় নেওয়ার প্রস্তুতি নেয় এবং তাকেও সঙ্গে যেতে বলে। থানায় গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ময়নাতদন্ত শেষে দাফন-কাফন সম্পন্ন করে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন এবং অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। দাফন শেষে তিনি জানতে পারেন,তাঁর মামা মোহাম্মদ আলী ইতোমধ্যে বাদী হয়ে মামলা করেছেন এবং সেখানে তিনজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

নিহতের ছেলে অভিযোগ করে বলেন, মা বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হলে সবসময় বাবা সিরাজুল মেম্বারের সহযোগিতায় খোঁজাখুঁজি করতেন। আমার দুই সৎ মা—সৎ হলেও,আমাকে মায়ের মতোই দেখেছেন। অথচ তিনজন নিরপরাধ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। প্রকৃত বাদী হয়েও আমাকে বাদ দিয়ে মামা যেভাবে মামলা দায়ের করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও সন্দেহজনক।

এদিকে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁদের দাবি, প্রকৃত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে মামলার বাদী ও আসামি নির্ধারণে পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে হবে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ফুলছড়ি উপজেলা-তে গৃহবধূর মৃত্যু: মামলার বাদী নিয়ে বিতর্ক, ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৩:০৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোঃ মিঠু মিয়া গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।

গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলা-তে গৃহবধূ রহিমা বেগম শিল্পী (৪৫)-এর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (বাবু) অভিযোগ করেছেন, হত্যা মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে তাঁকে বাদী হতে দেওয়া হয়নি। বরং তাঁর মামা মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন এবং এতে নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

আব্দুর রাজ্জাক বাবু জানান, তাঁর মা পারিবারিক কলহের কারণে অতীতেও একাধিকবার বাড়ি ছেড়ে চলে যেতেন। সর্বশেষ গত ডিসেম্বর মাসে তিনি আবারও নিখোঁজ হন। পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর বাবা জানতে পারেন, মা ঢাকার ডেমরা থানা এলাকায় অবস্থান করছেন। সেদিনই বাবা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরদিন ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মা-সহ তিনজন একসঙ্গে বাড়িতে ফেরেন।

তিনি আরও বলেন,মা বাড়িতে ফিরে সাধারণত কয়েকদিন কারও সঙ্গে কথা বলতেন না।এবারও তাই হয়েছিল। কিন্তু ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে দেখি।বাবা ও অন্যরা ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মায়ের মরদেহ নিচে নামাচ্ছেন। কান্নাকাটি করতে করতে বলছিলেন।তুই একি করলি। এরপর আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।

বাবু জানান, জ্ঞান ফেরার পর পুলিশ মরদেহ থানায় নেওয়ার প্রস্তুতি নেয় এবং তাকেও সঙ্গে যেতে বলে। থানায় গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ময়নাতদন্ত শেষে দাফন-কাফন সম্পন্ন করে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন এবং অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। দাফন শেষে তিনি জানতে পারেন,তাঁর মামা মোহাম্মদ আলী ইতোমধ্যে বাদী হয়ে মামলা করেছেন এবং সেখানে তিনজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

নিহতের ছেলে অভিযোগ করে বলেন, মা বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হলে সবসময় বাবা সিরাজুল মেম্বারের সহযোগিতায় খোঁজাখুঁজি করতেন। আমার দুই সৎ মা—সৎ হলেও,আমাকে মায়ের মতোই দেখেছেন। অথচ তিনজন নিরপরাধ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। প্রকৃত বাদী হয়েও আমাকে বাদ দিয়ে মামা যেভাবে মামলা দায়ের করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও সন্দেহজনক।

এদিকে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁদের দাবি, প্রকৃত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে মামলার বাদী ও আসামি নির্ধারণে পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে হবে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।