মোঃ ইকবাল মোরশেদ ::- স্টাফ রিপোর্টার।
কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপওেলায় ঈদ উপলক্ষে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিডি কর্মসূচির চালে পচন ও পোকা পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নে ভিজিডি কার্ডধারীদের মাঝে জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। তবে বিতরণের পরপরই চালের মান নিয়ে সুবিধাভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। অনেক কার্ডধারী বাড়িতে গিয়ে বস্তা খুলে দেখেন যে চাল কালচে-হলুদ হয়ে গেছে এবং তাতে পোকা কিলবিল করছে। নিরুপায় হয়ে অন্তত ১৬ জন সুবিধাভোগী নষ্ট চালের বস্তা নিয়ে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদে ফিরে আসেন।
বাতাঘাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাদেকুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান যে, প্লাস্টিকের বস্তায় মুখ বন্ধ থাকায় বিতরণের সময় চালের অভ্যন্তরীণ অবস্থা বোঝা সম্ভব হয়নি। তবে চাল নিয়ে অভিযোগ আসার পর তিনি নিজে সেগুলো পরীক্ষা করে অত্যন্ত নিম্নমানের ও পচা চাল দেখতে পান। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যরা উপজেলা খাদ্যগুদামের কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুদামের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই হয়তো সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ভালো চাল সরিয়ে এমন নষ্ট চাল সরবরাহ করা হয়েছে।
এদিকে উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাইমুল করিম টিটু দাবি করেছেন যে, গুদামের ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ায় কিছু চাল নষ্ট হয়েছে যা অসাবধানতাবশত সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে তার এই বক্তব্য নিয়ে জনমনে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, কারণ গত ছয় মাসেও এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো বৃষ্টি হয়নি এবং গুদামের নির্দিষ্ট ওই অংশে কোনো চালের বস্তাও পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত সুবিধাভোগীরা নষ্ট চাল ফেরত দিয়ে ভালো চালের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং একইসাথে এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
Reporter Name 



















