০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্যাগী ছাত্রনেতা আবুল হাশেম ইউসুফ: নীরবে হারিয়ে যাওয়া এক নিবেদিত সংগঠকের গল্প

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:২৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ১৬৯ বার

মাহমুদুর রহমান মনজু
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের ছাত্রছাত্রী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত এক নাম আবুল হাশেম ইউসুফ। তবে সবার কাছে তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন মোবারক কলোনির ‘ইউসুফ’ নামেই। নব্বইয়ের দশকে লক্ষ্মীপুর কলেজিয়েট স্কুলে অধ্যয়নকালীন সময়েই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তার পথচলা শুরু হয়।
পরবর্তীতে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজকে কেন্দ্র করেই বিকশিত হয় তার রাজনৈতিক প্রতিভা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু চড়াই-উৎরাই, হামলা-মামলা ও কারাবরণের মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও তিনি কখনোই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
সংগঠনে দক্ষতা, ত্যাগ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৪ সালে তিনি লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ইউসুফের নেতৃত্বে মোবারক কলোনির একঝাঁক অকুতোভয় মুজিব আদর্শের কর্মী লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের পতাকা মর্যাদার সঙ্গে উড্ডীন রেখেছিল।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও ভদ্র স্বভাবের। এ কারণে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কাছেও তিনি সমান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।
ইউসুফের দায়িত্বকালীন সময়েই লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ছাত্রলীগ পূর্ণ প্যানেলে বিজয় অর্জন করে। যা লক্ষ্মীপুরের ছাত্ররাজনীতিতে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। ইউসুফদের বীরত্বগাথা বাদ দিলে লক্ষ্মীপুর ছাত্রলীগের ইতিহাস যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
ইউসুফ সারাজীবন সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন। কিন্তু দলের সুসময়ে কখনো ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নেতাদের দ্বারস্থ হতে দেখা যায়নি তাকে। তার হাত ধরে গড়ে ওঠা অনেক নেতা আজ জনপ্রতিনিধি কিংবা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০০১ সালের পর দলের দুঃসময়েও তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, দলের সুসময়ে এসে জেলার নীতি-নির্ধারকরা নেতৃত্ব নির্বাচনে বিভিন্ন কোটার প্রাধান্য দেওয়ায় ইউসুফের মতো দক্ষ ও ত্যাগী সংগঠকেরা ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইলে ইউসুফদের মতো ত্যাগী নেতাদের সম্মানজনক স্থানে রেখে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে পারত। তাদের এই নীরব বিদায় শুধু দলকেই দুর্বল করেনি, তৃণমূল রাজনীতিকেও অনেকটাই শূন্য করে দিয়েছে—যার প্রভাব আজও অনুভূত হচ্ছে।
ইউসুফদের আত্মত্যাগের গল্প নতুন প্রজন্মের জানা জরুরি। কারণ ইতিহাস ভুলে গেলে রাজনীতির আদর্শও হারিয়ে যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ত্যাগী ছাত্রনেতা আবুল হাশেম ইউসুফ: নীরবে হারিয়ে যাওয়া এক নিবেদিত সংগঠকের গল্প

আপডেট টাইম : ০৭:২৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

মাহমুদুর রহমান মনজু
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের ছাত্রছাত্রী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত এক নাম আবুল হাশেম ইউসুফ। তবে সবার কাছে তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন মোবারক কলোনির ‘ইউসুফ’ নামেই। নব্বইয়ের দশকে লক্ষ্মীপুর কলেজিয়েট স্কুলে অধ্যয়নকালীন সময়েই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তার পথচলা শুরু হয়।
পরবর্তীতে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজকে কেন্দ্র করেই বিকশিত হয় তার রাজনৈতিক প্রতিভা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু চড়াই-উৎরাই, হামলা-মামলা ও কারাবরণের মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও তিনি কখনোই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
সংগঠনে দক্ষতা, ত্যাগ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৪ সালে তিনি লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ইউসুফের নেতৃত্বে মোবারক কলোনির একঝাঁক অকুতোভয় মুজিব আদর্শের কর্মী লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের পতাকা মর্যাদার সঙ্গে উড্ডীন রেখেছিল।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও ভদ্র স্বভাবের। এ কারণে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কাছেও তিনি সমান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।
ইউসুফের দায়িত্বকালীন সময়েই লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ছাত্রলীগ পূর্ণ প্যানেলে বিজয় অর্জন করে। যা লক্ষ্মীপুরের ছাত্ররাজনীতিতে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। ইউসুফদের বীরত্বগাথা বাদ দিলে লক্ষ্মীপুর ছাত্রলীগের ইতিহাস যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
ইউসুফ সারাজীবন সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন। কিন্তু দলের সুসময়ে কখনো ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নেতাদের দ্বারস্থ হতে দেখা যায়নি তাকে। তার হাত ধরে গড়ে ওঠা অনেক নেতা আজ জনপ্রতিনিধি কিংবা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০০১ সালের পর দলের দুঃসময়েও তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, দলের সুসময়ে এসে জেলার নীতি-নির্ধারকরা নেতৃত্ব নির্বাচনে বিভিন্ন কোটার প্রাধান্য দেওয়ায় ইউসুফের মতো দক্ষ ও ত্যাগী সংগঠকেরা ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইলে ইউসুফদের মতো ত্যাগী নেতাদের সম্মানজনক স্থানে রেখে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে পারত। তাদের এই নীরব বিদায় শুধু দলকেই দুর্বল করেনি, তৃণমূল রাজনীতিকেও অনেকটাই শূন্য করে দিয়েছে—যার প্রভাব আজও অনুভূত হচ্ছে।
ইউসুফদের আত্মত্যাগের গল্প নতুন প্রজন্মের জানা জরুরি। কারণ ইতিহাস ভুলে গেলে রাজনীতির আদর্শও হারিয়ে যায়।