০৮:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামগঞ্জে শ্বশুর বাড়ির সম্পত্তি নিয়ে দুই ভায়রা পরিবারের মাঝে সংঘর্ষ নিহত-১

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • ৩০ বার

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে শ্বশুর বাড়ির সম্পত্তি নিয়ে দুই ভায়রা পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে তাজুল ইসলাম(৬০) নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার(২৩ মার্চ) দুপুর ১১টায় উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দক্ষিন ভোলাকোট গ্রামের তোরাব আলী মিজি বাড়িতে। নিহত তাজুল ইসলামের বাড়ি পার্শবর্তি ভাটরা ইউনিয়নের হিরাপুর গ্রামে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে নুরুল আমিন (৭০) নামে একজনকে আটক করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তোরাব মিজি বাড়ির আবদুল গফুর স্ত্রী ও তিন মেয়ে রেখে ১০ বছর আগে মারা যান। মৃত্যুর পর তাঁর বড় মেয়ের জামাই নুরুল আমিন স্থায়ীভাবে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। মৃত গফুর মিয়ার স্ত্রী ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি নুরুল আমিনকে হেবা দলিল মূলে দান করে দেন। এ নিয়ে গফুর মিয়ার ছোট মেয়ের জামাই তাজুল ইসলামের পরিবারের সাথে ও বড় মেয়ের জামাই নুরুল আমিনের পরিবারের সাথে বিরোধ চলে আসছে। এবং আদালতে মামলা চলমান। সোমবার সকালে বিরোধপুর্ন জায়গায় নুরুল আমিনের ছেলে মাহফুজ হুজুর বসতঘর নির্মান কাজ করেন। খবর পেয়ে তাজুল ইসলাম ও তার ছেলেরা ঘটনা স্থলে আসলে উভয় পরিবারের মাঝে দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে নুরুল আমিনের ছেলে মাহফুজ হুজুরের লোহার রড দিয়ে তাজুল ইসলাম মাথায় আঘাত করে মারাত্নক আহত করে। পরে তাজুল ইসলামকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তরত ডাক্তার তাকে মৃত্যু ঘোষনা করেন। এ ছাড়াও সংঘর্ষে তামজিদ হোসেন, নুরুল আমিন, মনোয়ারা বেগম, মামুন,মাহফুজ হুজুরসহ ৭ জন আহত হয়।
নিহত তাজুল ইসলামের ছেলে মামুন জানান, তার খালু নুরুল আমিন ও খালাতো ভাই মাহফুজ হুজুর আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় জোর পূর্বক তাদের সম্পত্তি দখল করে বসতঘর নির্মান কাজ করে। তারা বাঁধা দিলে মাহফুজ হুজুর, নুরুল আমিন, তামজিদ হোসেন, লেদা ও মনোয়ারা বেগম দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা করে। এ সময় মাহফুজ হুজুর রড দিয়ে তার বাবা তাজুল ইসলামের মাথায় আঘাত করলে মাথা পেটে যায়, পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে ডাক্তার মৃত্যু ঘোষনা করেন।
ঘটনার সাথে জড়িত নুরুল আমিনের পরিবারের সদস্যরা পলাতক থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রামগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থল থেকে জড়িত সন্দেহে নুরুল আমিন নামে একজনকে আটক করেন। এবং নিহত তাজুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা মর্গে প্রেরন করেন। তিনি এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

রামগঞ্জে শ্বশুর বাড়ির সম্পত্তি নিয়ে দুই ভায়রা পরিবারের মাঝে সংঘর্ষ নিহত-১

আপডেট টাইম : ০৩:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে শ্বশুর বাড়ির সম্পত্তি নিয়ে দুই ভায়রা পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে তাজুল ইসলাম(৬০) নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার(২৩ মার্চ) দুপুর ১১টায় উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দক্ষিন ভোলাকোট গ্রামের তোরাব আলী মিজি বাড়িতে। নিহত তাজুল ইসলামের বাড়ি পার্শবর্তি ভাটরা ইউনিয়নের হিরাপুর গ্রামে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে নুরুল আমিন (৭০) নামে একজনকে আটক করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তোরাব মিজি বাড়ির আবদুল গফুর স্ত্রী ও তিন মেয়ে রেখে ১০ বছর আগে মারা যান। মৃত্যুর পর তাঁর বড় মেয়ের জামাই নুরুল আমিন স্থায়ীভাবে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। মৃত গফুর মিয়ার স্ত্রী ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি নুরুল আমিনকে হেবা দলিল মূলে দান করে দেন। এ নিয়ে গফুর মিয়ার ছোট মেয়ের জামাই তাজুল ইসলামের পরিবারের সাথে ও বড় মেয়ের জামাই নুরুল আমিনের পরিবারের সাথে বিরোধ চলে আসছে। এবং আদালতে মামলা চলমান। সোমবার সকালে বিরোধপুর্ন জায়গায় নুরুল আমিনের ছেলে মাহফুজ হুজুর বসতঘর নির্মান কাজ করেন। খবর পেয়ে তাজুল ইসলাম ও তার ছেলেরা ঘটনা স্থলে আসলে উভয় পরিবারের মাঝে দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে নুরুল আমিনের ছেলে মাহফুজ হুজুরের লোহার রড দিয়ে তাজুল ইসলাম মাথায় আঘাত করে মারাত্নক আহত করে। পরে তাজুল ইসলামকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তরত ডাক্তার তাকে মৃত্যু ঘোষনা করেন। এ ছাড়াও সংঘর্ষে তামজিদ হোসেন, নুরুল আমিন, মনোয়ারা বেগম, মামুন,মাহফুজ হুজুরসহ ৭ জন আহত হয়।
নিহত তাজুল ইসলামের ছেলে মামুন জানান, তার খালু নুরুল আমিন ও খালাতো ভাই মাহফুজ হুজুর আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় জোর পূর্বক তাদের সম্পত্তি দখল করে বসতঘর নির্মান কাজ করে। তারা বাঁধা দিলে মাহফুজ হুজুর, নুরুল আমিন, তামজিদ হোসেন, লেদা ও মনোয়ারা বেগম দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা করে। এ সময় মাহফুজ হুজুর রড দিয়ে তার বাবা তাজুল ইসলামের মাথায় আঘাত করলে মাথা পেটে যায়, পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে ডাক্তার মৃত্যু ঘোষনা করেন।
ঘটনার সাথে জড়িত নুরুল আমিনের পরিবারের সদস্যরা পলাতক থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রামগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থল থেকে জড়িত সন্দেহে নুরুল আমিন নামে একজনকে আটক করেন। এবং নিহত তাজুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা মর্গে প্রেরন করেন। তিনি এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান।