১০:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হারিয়ে যাচ্ছে তিতাস নদী

একসময় প্রমত্তা স্রোতে ভরা তিতাস নদী এখন দখল, দূষণ ও নাব্যতা সংকটে অস্তিত্ব হারানোর পথে। নদীর বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে খালে পরিণত হচ্ছে। এতে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশসংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

স্থানীয়রা জানান, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে তিতাস নদী পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে। অথচ একসময় এই নদী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও জনজীবনের প্রধান ভরসা ছিল। নদীকেন্দ্রিক গড়ে উঠেছিল হাটবাজার, চলত নৌযান, জীবিকা নির্বাহ করতেন হাজারো জেলে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর তলদেশে পলি জমে নাব্যতা কমে গেছে। কোথাও কোথাও জেগে উঠেছে ডুবোচর। অনেক স্থানে নদী সংকুচিত হয়ে খালের রূপ নিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে অধিকাংশ এলাকায় পানি থাকে না।

নদীপাড়ের জেলে আবদুল করিম বলেন, “আগে প্রতিদিন নদীতে জাল ফেললেই মাছ পাওয়া যেত। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলেও কিছু মেলে না।”

একই এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “নদীর দুই তীর দখল হয়ে গেছে। দেখার যেন কেউ নেই।”

তিতাস নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল সমৃদ্ধ সাহিত্য ও সংস্কৃতি। লেখক অদ্বৈত মল্লবর্মণের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসে যে প্রাণচঞ্চল নদীর চিত্র পাওয়া যায়, বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন।

প্রশাসন বলছে, “তিতাস নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নদী খননের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন খনন না হওয়া, অপরিকল্পিত দখল ও বর্জ্য ফেলার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, নদী রক্ষায় এখনই সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। তা না হলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই নদীটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

হারিয়ে যাচ্ছে তিতাস নদী

আপডেট টাইম : ০১:৪৪:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

একসময় প্রমত্তা স্রোতে ভরা তিতাস নদী এখন দখল, দূষণ ও নাব্যতা সংকটে অস্তিত্ব হারানোর পথে। নদীর বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে খালে পরিণত হচ্ছে। এতে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশসংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

স্থানীয়রা জানান, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে তিতাস নদী পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে। অথচ একসময় এই নদী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও জনজীবনের প্রধান ভরসা ছিল। নদীকেন্দ্রিক গড়ে উঠেছিল হাটবাজার, চলত নৌযান, জীবিকা নির্বাহ করতেন হাজারো জেলে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর তলদেশে পলি জমে নাব্যতা কমে গেছে। কোথাও কোথাও জেগে উঠেছে ডুবোচর। অনেক স্থানে নদী সংকুচিত হয়ে খালের রূপ নিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে অধিকাংশ এলাকায় পানি থাকে না।

নদীপাড়ের জেলে আবদুল করিম বলেন, “আগে প্রতিদিন নদীতে জাল ফেললেই মাছ পাওয়া যেত। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলেও কিছু মেলে না।”

একই এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “নদীর দুই তীর দখল হয়ে গেছে। দেখার যেন কেউ নেই।”

তিতাস নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল সমৃদ্ধ সাহিত্য ও সংস্কৃতি। লেখক অদ্বৈত মল্লবর্মণের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসে যে প্রাণচঞ্চল নদীর চিত্র পাওয়া যায়, বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন।

প্রশাসন বলছে, “তিতাস নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নদী খননের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন খনন না হওয়া, অপরিকল্পিত দখল ও বর্জ্য ফেলার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, নদী রক্ষায় এখনই সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। তা না হলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই নদীটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।