১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশাসনের নাকের ডগায় মেঘনা নদীতে মা ইলিশ শিকার, হুমকির মুখে রূপালি সোনা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:১৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • ১৪৮ বার

মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম,স্টাফ রিপোর্টার

সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীতে চলছে মা ইলিশ ও জাটকা নিধনের মহোৎসব। পহেলা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস ইলিশ ধরা, পরিবহন ও মজুদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। গত এক মাস ধরে এক শ্রেণির অসাধু জেলে ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালালেও প্রতি নিয়তো অভিযান চলোমান এর দোহাই দিয়ে অনেকটা ‘নির্বিকার’ মৎস্য বিভাগ।

শনিবার দুপুরে কমলনগর মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এক ভয়াবহ চিত্র। মতির হাট,সাহেবের হাট,কালকিনি নাজিরগঞ্জ,দক্ষিণে পাটোয়ারীর হাট,লুধুয়া ঘাটসহ পার্শ্ববর্তী মাতাব্বর হাট এলাকায় কয়েকশ নৌকা নিয়ে জেলেরা অবাধে জাল ফেলছেন। নিষিদ্ধ ‘কারেন্ট জাল’ দিয়ে ধরা হচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ ও জাটকা। এই রুপালি সম্পদ নদী থেকে তুলে সরাসরি বিক্রি করা হচ্ছে স্থানীয় বাজার ও অস্থায়ী আড়তগুলোতে। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় ক্রয়-বিক্রয় চলছে প্রকাশ্যেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,কমলনগর উপজেলায় মৎস্য বিভাগের কার্যক্রম বর্তমানে কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ।যেনো দেখেও না দেখার বাহানা তৈরি করে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, কোনো স্থায়ী কোস্টগার্ড কিংবা নৌ-পুলিশের ফাঁড়ি না থাকায় মেঘনার এই বিশাল এলাকায় কার্যত কোনো টহল নেই। ফলে জেলেরা কাউকেই তোয়াক্কা করছে না।
মতির হাট এলাকার জেলে সফিক মাঝি ও আক্তার হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার যে চাল দেয়, তা দিয়ে সংসার চলে না। উপরন্তু মহাজনদের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের কিস্তি ও ঋণের চাপে আমরা নদীতে নামতে বাধ্য হচ্ছি। পাটোয়ারী হাট এলাকার জেলে নাজিম উদ্দিন জানান, অনেক সময় বড় মাছের আশায় জাল ফেললে মা ইলিশ ও জাটকা ধরা পড়ে, যা তারা আর নদীতে ফেরত দেন না।

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মা ইলিশের এই প্রজনন মৌসুমে যদি এভাবে নিধন চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে নদীতে ইলিশের তীব্র সংকট দেখা দেবে। যার বিরূপ প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতি ও জেলেদের জীবনজীবিকার ওপর।

বিশিষ্টজনেরা মনে করেন এ ভাবে অবাধে ইলিশ নিধনের এই প্রক্রিয়া এখনই বন্ধ করা না গেলে ‘ইলিশের দেশ’ হিসেবে বাংলাদেশের বৈশ্বিক পরিচিতি হুমকির মুখে পড়বে আশঙ্কা করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

প্রশাসনের নাকের ডগায় মেঘনা নদীতে মা ইলিশ শিকার, হুমকির মুখে রূপালি সোনা

আপডেট টাইম : ০৩:১৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম,স্টাফ রিপোর্টার

সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীতে চলছে মা ইলিশ ও জাটকা নিধনের মহোৎসব। পহেলা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস ইলিশ ধরা, পরিবহন ও মজুদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। গত এক মাস ধরে এক শ্রেণির অসাধু জেলে ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালালেও প্রতি নিয়তো অভিযান চলোমান এর দোহাই দিয়ে অনেকটা ‘নির্বিকার’ মৎস্য বিভাগ।

শনিবার দুপুরে কমলনগর মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এক ভয়াবহ চিত্র। মতির হাট,সাহেবের হাট,কালকিনি নাজিরগঞ্জ,দক্ষিণে পাটোয়ারীর হাট,লুধুয়া ঘাটসহ পার্শ্ববর্তী মাতাব্বর হাট এলাকায় কয়েকশ নৌকা নিয়ে জেলেরা অবাধে জাল ফেলছেন। নিষিদ্ধ ‘কারেন্ট জাল’ দিয়ে ধরা হচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ ও জাটকা। এই রুপালি সম্পদ নদী থেকে তুলে সরাসরি বিক্রি করা হচ্ছে স্থানীয় বাজার ও অস্থায়ী আড়তগুলোতে। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় ক্রয়-বিক্রয় চলছে প্রকাশ্যেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,কমলনগর উপজেলায় মৎস্য বিভাগের কার্যক্রম বর্তমানে কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ।যেনো দেখেও না দেখার বাহানা তৈরি করে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, কোনো স্থায়ী কোস্টগার্ড কিংবা নৌ-পুলিশের ফাঁড়ি না থাকায় মেঘনার এই বিশাল এলাকায় কার্যত কোনো টহল নেই। ফলে জেলেরা কাউকেই তোয়াক্কা করছে না।
মতির হাট এলাকার জেলে সফিক মাঝি ও আক্তার হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার যে চাল দেয়, তা দিয়ে সংসার চলে না। উপরন্তু মহাজনদের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের কিস্তি ও ঋণের চাপে আমরা নদীতে নামতে বাধ্য হচ্ছি। পাটোয়ারী হাট এলাকার জেলে নাজিম উদ্দিন জানান, অনেক সময় বড় মাছের আশায় জাল ফেললে মা ইলিশ ও জাটকা ধরা পড়ে, যা তারা আর নদীতে ফেরত দেন না।

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মা ইলিশের এই প্রজনন মৌসুমে যদি এভাবে নিধন চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে নদীতে ইলিশের তীব্র সংকট দেখা দেবে। যার বিরূপ প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতি ও জেলেদের জীবনজীবিকার ওপর।

বিশিষ্টজনেরা মনে করেন এ ভাবে অবাধে ইলিশ নিধনের এই প্রক্রিয়া এখনই বন্ধ করা না গেলে ‘ইলিশের দেশ’ হিসেবে বাংলাদেশের বৈশ্বিক পরিচিতি হুমকির মুখে পড়বে আশঙ্কা করছেন।