০৩:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগমারায় অসময়ের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ, বিপাকে কৃষকরা

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় হঠাৎ করে নেমে আসা এক রাতের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে শত শত একর ফসলের মাঠ। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি জমে যায়। এতে আগাম মৌসুমের আলু, পেঁয়াজ, মরিচসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি পানবরজ ও পুকুরে চাষকৃত মাছও ভেসে গেছে।

কৃষকরা জানান, বছরের এই সময়টিতে এমন বৃষ্টি একেবারেই অস্বাভাবিক। অনেকেই আগাম ফসলের আশায় চাষাবাদ শুরু করেছিলেন— কিন্তু এক রাতের বৃষ্টিতেই সব শেষ।

এর পাশাপাশি স্থানীয়দের অভিযোগ, বাগমারার বিভিন্ন এলাকায় যেসব খাল ও ড্রেনেজ পথ দিয়ে পানি নিষ্কাশন হতো, সেগুলো এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওইসব জায়গায় মাছ চাষ করায় বর্ষার পানি আটকে থেকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পর পানি নামতে না পারায় ফসলের ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে।

মাধাইমুড়ি গ্রামের কৃষক শামসুদ্দিন মন্ডল বলেন, জমির ধান কেটে রাখা ছিল হঠাৎ রাতভর বৃষ্টি হওয়ার নষ্ট হয়ে গেছে ধান। আমার মতো অনেক কৃষক তাদের জমির ধান কেটে রেখেছে।

আরও কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, আমার পাম বরজ ভেঙে গেছে। ঝড় আর বৃষ্টিতে একাকার অবস্থা পান বরজের। অনেক ক্ষতি হয়েছে পান বরজ পড়ে গিয়ে।

বাগমারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, একরাতের বৃষ্টিতে শতশত হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। সারা বছর বৃষ্টি হলেও সেভাবে তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে এক রাতের বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে আমরা ক্ষতির তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরবর্তী ফসলের চাষবাস বিষয়ে পরামর্শ দেয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৪ জন গ্রেপ্তার

বাগমারায় অসময়ের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ, বিপাকে কৃষকরা

আপডেট টাইম : ১২:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় হঠাৎ করে নেমে আসা এক রাতের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে শত শত একর ফসলের মাঠ। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি জমে যায়। এতে আগাম মৌসুমের আলু, পেঁয়াজ, মরিচসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি পানবরজ ও পুকুরে চাষকৃত মাছও ভেসে গেছে।

কৃষকরা জানান, বছরের এই সময়টিতে এমন বৃষ্টি একেবারেই অস্বাভাবিক। অনেকেই আগাম ফসলের আশায় চাষাবাদ শুরু করেছিলেন— কিন্তু এক রাতের বৃষ্টিতেই সব শেষ।

এর পাশাপাশি স্থানীয়দের অভিযোগ, বাগমারার বিভিন্ন এলাকায় যেসব খাল ও ড্রেনেজ পথ দিয়ে পানি নিষ্কাশন হতো, সেগুলো এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওইসব জায়গায় মাছ চাষ করায় বর্ষার পানি আটকে থেকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পর পানি নামতে না পারায় ফসলের ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে।

মাধাইমুড়ি গ্রামের কৃষক শামসুদ্দিন মন্ডল বলেন, জমির ধান কেটে রাখা ছিল হঠাৎ রাতভর বৃষ্টি হওয়ার নষ্ট হয়ে গেছে ধান। আমার মতো অনেক কৃষক তাদের জমির ধান কেটে রেখেছে।

আরও কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, আমার পাম বরজ ভেঙে গেছে। ঝড় আর বৃষ্টিতে একাকার অবস্থা পান বরজের। অনেক ক্ষতি হয়েছে পান বরজ পড়ে গিয়ে।

বাগমারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, একরাতের বৃষ্টিতে শতশত হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। সারা বছর বৃষ্টি হলেও সেভাবে তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে এক রাতের বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে আমরা ক্ষতির তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরবর্তী ফসলের চাষবাস বিষয়ে পরামর্শ দেয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।