০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশাসনের তৎপরতায় শৃঙ্খলা ফিরল লক্ষ্মীপুরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে, ভোগান্তি কমেছে জনসাধারণের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৫৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৬৪ বার

মাহমুদুর রহমান মনজু
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
রমজান মাসজুড়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা এলাকায় যানজট ও জনভোগান্তি নিরসনে নিরলসভাবে কাজ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান। পহেলা রমজান থেকে চাঁদ রাত পর্যন্ত শহর ও গ্রাম থেকে আসা মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে তাঁর কার্যকর উদ্যোগ জনসাধারণের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ও ইরানের উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট দেখা দিলে তার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। আমদানি সীমিত হয়ে পড়লেও প্রশাসনের তদারকি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ফিলিং স্টেশন মালিকরা সীমিত জ্বালানি সুষমভাবে বণ্টনের চেষ্টা চালিয়ে যান।
লক্ষ্মীপুর জেলায় বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন থাকলেও সদর উপজেলায় মূলত মোজাম্মেল ফিলিং স্টেশন, ধরিত্রী ফিলিং স্টেশন ও ফিরোজ ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি পাম্প এবং কিছু ডিলার চাঁদপুর থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ করে থাকেন। সংকটকালীন এই পরিস্থিতিতে পাম্প মালিকদের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হলেও তারা প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধরিত্রী ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহের আগে প্রায় হাজারখানেক মোটরসাইকেল সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে ট্রাক, বাস ও পিকআপের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। তেল সরবরাহকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা ও হাতাহাতির ঘটনা এড়াতে পাম্প মালিকরা জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চান।
লক্ষ্মীপুর উত্তর স্টেশনের মোজাম্মেল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনের উপস্থিতি ছাড়া তেল বিতরণ শুরু করা হচ্ছিল না। পরবর্তীতে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান পুলিশের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শৃঙ্খলার সঙ্গে তেল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়ে তিনি যানবাহনগুলোকে আলাদা লাইনে বিভক্ত করেন—একদিকে মোটরসাইকেল এবং অন্যদিকে ভারী যানবাহন—ফলে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে তেল বিতরণ সম্ভব হয়।
ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা না থাকলে পাম্প মালিকদের পক্ষে তেল বিতরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ তেল নিতে আসা জনসাধারণের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তাই শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাম্প মালিক ও কর্মচারীরাও জানান, প্রশাসনের সহযোগিতা থাকায় তারা নির্বিঘ্নে তেল সরবরাহ করতে পারছেন। এতে একদিকে যেমন জনসাধারণের ভোগান্তি কমছে, অন্যদিকে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমও স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে।
তেল নিতে আসা ট্রাক চালক তারেক বলেন, প্রশাসনের উপস্থিতি থাকলে যানজট ও বিশৃঙ্খলা অনেকটাই কমে যায় এবং দ্রুত তেল নিয়ে গন্তব্যে যাওয়া সম্ভব হয়। অন্যদিকে মোটরসাইকেল আরোহী মোহাম্মদ আলী মনে করেন, প্রকৃতপক্ষে তেলের বড় কোনো সংকট নেই, বরং সমন্বয়ের অভাব ও মানুষের আচরণের কারণেই কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।
সার্বিকভাবে দেখা যায়, প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা, ফিলিং স্টেশন মালিকদের সহযোগিতা এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার ফলে লক্ষ্মীপুরে জ্বালানি বিতরণ পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও জনভোগান্তি আরও কমানো সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

প্রশাসনের তৎপরতায় শৃঙ্খলা ফিরল লক্ষ্মীপুরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে, ভোগান্তি কমেছে জনসাধারণের

আপডেট টাইম : ০৩:৫৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

মাহমুদুর রহমান মনজু
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
রমজান মাসজুড়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা এলাকায় যানজট ও জনভোগান্তি নিরসনে নিরলসভাবে কাজ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান। পহেলা রমজান থেকে চাঁদ রাত পর্যন্ত শহর ও গ্রাম থেকে আসা মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে তাঁর কার্যকর উদ্যোগ জনসাধারণের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ও ইরানের উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট দেখা দিলে তার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। আমদানি সীমিত হয়ে পড়লেও প্রশাসনের তদারকি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ফিলিং স্টেশন মালিকরা সীমিত জ্বালানি সুষমভাবে বণ্টনের চেষ্টা চালিয়ে যান।
লক্ষ্মীপুর জেলায় বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন থাকলেও সদর উপজেলায় মূলত মোজাম্মেল ফিলিং স্টেশন, ধরিত্রী ফিলিং স্টেশন ও ফিরোজ ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি পাম্প এবং কিছু ডিলার চাঁদপুর থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ করে থাকেন। সংকটকালীন এই পরিস্থিতিতে পাম্প মালিকদের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হলেও তারা প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধরিত্রী ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহের আগে প্রায় হাজারখানেক মোটরসাইকেল সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে ট্রাক, বাস ও পিকআপের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। তেল সরবরাহকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা ও হাতাহাতির ঘটনা এড়াতে পাম্প মালিকরা জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চান।
লক্ষ্মীপুর উত্তর স্টেশনের মোজাম্মেল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনের উপস্থিতি ছাড়া তেল বিতরণ শুরু করা হচ্ছিল না। পরবর্তীতে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান পুলিশের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শৃঙ্খলার সঙ্গে তেল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়ে তিনি যানবাহনগুলোকে আলাদা লাইনে বিভক্ত করেন—একদিকে মোটরসাইকেল এবং অন্যদিকে ভারী যানবাহন—ফলে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে তেল বিতরণ সম্ভব হয়।
ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা না থাকলে পাম্প মালিকদের পক্ষে তেল বিতরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ তেল নিতে আসা জনসাধারণের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তাই শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাম্প মালিক ও কর্মচারীরাও জানান, প্রশাসনের সহযোগিতা থাকায় তারা নির্বিঘ্নে তেল সরবরাহ করতে পারছেন। এতে একদিকে যেমন জনসাধারণের ভোগান্তি কমছে, অন্যদিকে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমও স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে।
তেল নিতে আসা ট্রাক চালক তারেক বলেন, প্রশাসনের উপস্থিতি থাকলে যানজট ও বিশৃঙ্খলা অনেকটাই কমে যায় এবং দ্রুত তেল নিয়ে গন্তব্যে যাওয়া সম্ভব হয়। অন্যদিকে মোটরসাইকেল আরোহী মোহাম্মদ আলী মনে করেন, প্রকৃতপক্ষে তেলের বড় কোনো সংকট নেই, বরং সমন্বয়ের অভাব ও মানুষের আচরণের কারণেই কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।
সার্বিকভাবে দেখা যায়, প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা, ফিলিং স্টেশন মালিকদের সহযোগিতা এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার ফলে লক্ষ্মীপুরে জ্বালানি বিতরণ পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও জনভোগান্তি আরও কমানো সম্ভব হবে।