০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদক ব্যবসায়ীদের নাম প্রকাশে কাঁপছে সিন্ডিকেট, হামলার আতঙ্কে নিরাপত্তাহীনতায় সাংবাদিক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৪৩ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এককভাবে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক প্রিয়া চৌধুরী। ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে একে একে উঠে আসছে মাদক কারবারিদের নাম, অবস্থান ও তাদের কার্যক্রম—যা ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে একই সঙ্গে বেড়েছে তার জীবনের ঝুঁকিও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মুগদা–মান্ডা–মানিকনগর এলাকায় একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত একাধিক চিহ্নিত ব্যক্তি—দেলোয়ার ওরফে বুদ্দা, লতা, খাস, মিলন, বৃষ্টি, মিন্টু, বড় সাকিল, রাজু, সবুজ, সহ আরও অনেকে—যারা প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া মান্ডা, মুড়িওলী গলি পঁচা শরীর সজিব হিজরা নয়ন রিতু রাজিব ও তার বৌ মিলন নাসিমা রাশেদ
রাতে ও দিনের বেলায় এসব মাদকের কার্যক্রম চালছে মানিকনগর আনন্দধারা ব্রীজে মাদক বিক্রি করে আসছে লোদা ও নিজুর স্পটের নামে পরিচিত মান্ডা প্রথম গলির মোশাররফ মিয়ার বাড়ির আসে পাশে যারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রি করছে তাসলিমা বেগম, শরিফুন বেগম, নাসির, সজিব, মনা, বেল্লাল, টুলু, মাইকেল, সাগর, রিনা, আবুল, রুমা, একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া মদিনাবাগে ময়লা দ্বীপে সামনে মাদক বিক্রি করে আসছে রিনা শাহ আলম মুন্নি জুয়েল আরো অনেকে
নাম প্রকাশেই আতঙ্ক সিন্ডিকেটে
সাংবাদিক প্রিয়া চৌধুরীর প্রতিবেদনে এসব নাম প্রকাশের পর সিন্ডিকেটের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, “যাদের নাম প্রকাশ হয়েছে, তারা এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং সাংবাদিককে টার্গেট করার চেষ্টা করছে।”
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকা এই সিন্ডিকেট সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো, হামলা ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে চুপ করিয়ে রাখার চেষ্টা করে থাকে। ইতোমধ্যে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যা নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিরাপত্তাহীনতায় সাংবাদিক
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রিয়া চৌধুরী বলেন,
“আমি শুধু আমার পেশাগত দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু এখন যেভাবে হুমকি বাড়ছে, তাতে নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, “যে সাহস করে মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তাকে যদি নিরাপত্তা না দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ আর সত্য তুলে ধরার সাহস পাবে না।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—
চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা এখনো প্রকাশ্যে কীভাবে সক্রিয়?
নাম প্রকাশের পরও কেন গ্রেপ্তার বা দৃশ্যমান অভিযান নেই?
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পদক্ষেপ কী?
সামাজিক নিরাপত্তায় বড় হুমকি
মুগদা–মান্ডা–মানিকনগর এলাকায় মাদক এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে। তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথে, বাড়ছে অপরাধ, কমছে নিরাপত্তা।
এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিক প্রিয়া চৌধুরীর একক লড়াই যেমন সাহসিকতার প্রতীক, তেমনি এটি রাষ্ট্র ও প্রশাসনের জন্যও এক কঠিন পরীক্ষা—
সত্য প্রকাশকারীরা নিরাপদ থাকবে, নাকি অপরাধীরাই নিয়ন্ত্রণ করবে এলাকা—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

মাদক ব্যবসায়ীদের নাম প্রকাশে কাঁপছে সিন্ডিকেট, হামলার আতঙ্কে নিরাপত্তাহীনতায় সাংবাদিক

আপডেট টাইম : ০৩:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এককভাবে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক প্রিয়া চৌধুরী। ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে একে একে উঠে আসছে মাদক কারবারিদের নাম, অবস্থান ও তাদের কার্যক্রম—যা ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে একই সঙ্গে বেড়েছে তার জীবনের ঝুঁকিও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মুগদা–মান্ডা–মানিকনগর এলাকায় একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত একাধিক চিহ্নিত ব্যক্তি—দেলোয়ার ওরফে বুদ্দা, লতা, খাস, মিলন, বৃষ্টি, মিন্টু, বড় সাকিল, রাজু, সবুজ, সহ আরও অনেকে—যারা প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া মান্ডা, মুড়িওলী গলি পঁচা শরীর সজিব হিজরা নয়ন রিতু রাজিব ও তার বৌ মিলন নাসিমা রাশেদ
রাতে ও দিনের বেলায় এসব মাদকের কার্যক্রম চালছে মানিকনগর আনন্দধারা ব্রীজে মাদক বিক্রি করে আসছে লোদা ও নিজুর স্পটের নামে পরিচিত মান্ডা প্রথম গলির মোশাররফ মিয়ার বাড়ির আসে পাশে যারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রি করছে তাসলিমা বেগম, শরিফুন বেগম, নাসির, সজিব, মনা, বেল্লাল, টুলু, মাইকেল, সাগর, রিনা, আবুল, রুমা, একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া মদিনাবাগে ময়লা দ্বীপে সামনে মাদক বিক্রি করে আসছে রিনা শাহ আলম মুন্নি জুয়েল আরো অনেকে
নাম প্রকাশেই আতঙ্ক সিন্ডিকেটে
সাংবাদিক প্রিয়া চৌধুরীর প্রতিবেদনে এসব নাম প্রকাশের পর সিন্ডিকেটের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, “যাদের নাম প্রকাশ হয়েছে, তারা এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং সাংবাদিককে টার্গেট করার চেষ্টা করছে।”
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকা এই সিন্ডিকেট সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো, হামলা ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে চুপ করিয়ে রাখার চেষ্টা করে থাকে। ইতোমধ্যে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যা নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিরাপত্তাহীনতায় সাংবাদিক
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রিয়া চৌধুরী বলেন,
“আমি শুধু আমার পেশাগত দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু এখন যেভাবে হুমকি বাড়ছে, তাতে নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, “যে সাহস করে মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তাকে যদি নিরাপত্তা না দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ আর সত্য তুলে ধরার সাহস পাবে না।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—
চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা এখনো প্রকাশ্যে কীভাবে সক্রিয়?
নাম প্রকাশের পরও কেন গ্রেপ্তার বা দৃশ্যমান অভিযান নেই?
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পদক্ষেপ কী?
সামাজিক নিরাপত্তায় বড় হুমকি
মুগদা–মান্ডা–মানিকনগর এলাকায় মাদক এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে। তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথে, বাড়ছে অপরাধ, কমছে নিরাপত্তা।
এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিক প্রিয়া চৌধুরীর একক লড়াই যেমন সাহসিকতার প্রতীক, তেমনি এটি রাষ্ট্র ও প্রশাসনের জন্যও এক কঠিন পরীক্ষা—
সত্য প্রকাশকারীরা নিরাপদ থাকবে, নাকি অপরাধীরাই নিয়ন্ত্রণ করবে এলাকা—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।