০৯:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানোরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে টাকা আদায়ের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:০২:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৬ বার

সোহেল রানা,ভ্রাম্যমাণ,প্রতিনিধি :

রাজশাহীর তানোরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে রেখে শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এঘটনায় রোববার (১৯এপ্রিল) বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা টাকা ফেরত ও প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে স্কুল চত্ত্বরে অবস্থান নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত ও বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এসময় কৌশলে প্রধান শিক্ষক স্কুল থেকে সটকে পড়েন। পরে সাবেক সভাপতি মনিরুল ইসলামের আহবানে প্রধান শিক্ষক স্কুলে আসেন। এ সময় স্কুলের অফিস কক্ষে ব্যাপক হট্রগোলের সৃস্টি হয়।

জানা গেছে, উপজেলার কলমা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর নিয়মিত মোট ২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা করে আদায় করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। টাকা না দিলে তাদের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকে রাখা হচ্ছে।

পরীক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম বলেন,ফরম পুরণে ২৭০০ টাকা,কোচিং ক্লাসের জন্য ২০০০ টাকা ও প্রবেশপত্র নিতে ৪০০ টাকা নেয়া হয়েছে। আনোয়ার হোসেন বলেন, ফরম পুরণে ২৭০০ টাকা ও কোচিং ক্লাসের জন্য ২০০০ টাকা নেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রবেশপত্র নিতে আরো ৫০০ টাকা চেয়েছে,না দেয়ায় তাকে প্রবেশপত্র দেয়া হয়নি।মিনহাজুল ইসলাম বলেন, রবিবার সকালে প্রবেশপত্র আনার জন্য স্কুলে যাই। আমাদের সহকারী শিক্ষক স্যার এ সময় ৫০০ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় আমার প্রবেশপত্র আটকে রাখেন। তিনি আরও বলেন, ৫০০ টাকা না দিলে কাউকে এবার প্রবেশপত্র দেওয়া হবে না। আমার পিতা একজন কৃষক মানুষ। এর আগে অনেক কষ্ট করে ৭ হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে ফরম ফিলাপ এবং

কোচিং ক্লাসের জন্য ২০০০ টাকা দিয়েছেন। এখন ৫০০ টাকা দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। তাই খালি হাতে চলে আসছি। পরীক্ষা দিতে পারবো কি না এটা ভেবে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

এবিষয়ে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ,ন,ম মোফাখখারুল বলেন,প্রবেশপত্র দিতে টাকা নেয়ার কোনো সুযোগ নাই। তিনি বলেন,কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এবিষয়ে মোহনপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও তানোর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসার এসএম মাহমুদ হাসান বলেন, কোথায় কত ফি নিতে হবে তা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত। বোর্ডের নির্দেশনার বাইরে কোনো ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। পরীক্ষার খরচ, কেন্দ্র ফি বোর্ড যা নির্ধারণ করে দেবে এর বাইরে বাড়তি অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই।

এবিষয়ে কলমা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন,কোচিং ক্লাসের টাকা অভিভাবকগণের সঙ্গে আলোচনা করে নেয়া হয়েছে।তিনি বলেন, কোচিং ক্লাসের এক হাজার টাকা ও প্রবেশপত্র বাবদ নেয়া টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। এবিষয়ে স্কুলের সাবেক সভাপতি মানিরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংসা করে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

তানোরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে টাকা আদায়ের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৫:০২:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

সোহেল রানা,ভ্রাম্যমাণ,প্রতিনিধি :

রাজশাহীর তানোরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে রেখে শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এঘটনায় রোববার (১৯এপ্রিল) বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা টাকা ফেরত ও প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে স্কুল চত্ত্বরে অবস্থান নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত ও বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এসময় কৌশলে প্রধান শিক্ষক স্কুল থেকে সটকে পড়েন। পরে সাবেক সভাপতি মনিরুল ইসলামের আহবানে প্রধান শিক্ষক স্কুলে আসেন। এ সময় স্কুলের অফিস কক্ষে ব্যাপক হট্রগোলের সৃস্টি হয়।

জানা গেছে, উপজেলার কলমা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর নিয়মিত মোট ২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা করে আদায় করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। টাকা না দিলে তাদের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকে রাখা হচ্ছে।

পরীক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম বলেন,ফরম পুরণে ২৭০০ টাকা,কোচিং ক্লাসের জন্য ২০০০ টাকা ও প্রবেশপত্র নিতে ৪০০ টাকা নেয়া হয়েছে। আনোয়ার হোসেন বলেন, ফরম পুরণে ২৭০০ টাকা ও কোচিং ক্লাসের জন্য ২০০০ টাকা নেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রবেশপত্র নিতে আরো ৫০০ টাকা চেয়েছে,না দেয়ায় তাকে প্রবেশপত্র দেয়া হয়নি।মিনহাজুল ইসলাম বলেন, রবিবার সকালে প্রবেশপত্র আনার জন্য স্কুলে যাই। আমাদের সহকারী শিক্ষক স্যার এ সময় ৫০০ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় আমার প্রবেশপত্র আটকে রাখেন। তিনি আরও বলেন, ৫০০ টাকা না দিলে কাউকে এবার প্রবেশপত্র দেওয়া হবে না। আমার পিতা একজন কৃষক মানুষ। এর আগে অনেক কষ্ট করে ৭ হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে ফরম ফিলাপ এবং

কোচিং ক্লাসের জন্য ২০০০ টাকা দিয়েছেন। এখন ৫০০ টাকা দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। তাই খালি হাতে চলে আসছি। পরীক্ষা দিতে পারবো কি না এটা ভেবে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

এবিষয়ে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ,ন,ম মোফাখখারুল বলেন,প্রবেশপত্র দিতে টাকা নেয়ার কোনো সুযোগ নাই। তিনি বলেন,কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এবিষয়ে মোহনপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও তানোর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসার এসএম মাহমুদ হাসান বলেন, কোথায় কত ফি নিতে হবে তা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত। বোর্ডের নির্দেশনার বাইরে কোনো ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। পরীক্ষার খরচ, কেন্দ্র ফি বোর্ড যা নির্ধারণ করে দেবে এর বাইরে বাড়তি অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই।

এবিষয়ে কলমা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন,কোচিং ক্লাসের টাকা অভিভাবকগণের সঙ্গে আলোচনা করে নেয়া হয়েছে।তিনি বলেন, কোচিং ক্লাসের এক হাজার টাকা ও প্রবেশপত্র বাবদ নেয়া টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। এবিষয়ে স্কুলের সাবেক সভাপতি মানিরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংসা করে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।