বৈশাখের প্রখর রোদ আর গ্রীষ্মের উষ্ণতার মাঝেও প্রকৃতি যেন নতুন সাজে সেজে ওঠে কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরজুড়ে এখন সেই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য—রাস্তার মোড়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস প্রাঙ্গণ কিংবা গ্রামীণ পথ—সবখানেই চোখে পড়ে লাল ফুলে ভরা কৃষ্ণচূড়া গাছ।
বাংলা সাহিত্য ও গানে কৃষ্ণচূড়া এক অনন্য উপমা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতায় লিখেছিলেন, “গন্ধে উদাস হাওয়ার মতো উড়ে তোমার উত্তরী, কর্ণে তোমার কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরি”—যা এই ফুলের নান্দনিকতা ও আবেগকে চিরকালীন করে তুলেছে।
নবীনগরের পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক, লঞ্চঘাট, সরকারি কলেজের শহীদ মিনার এলাকা, বুড়ি নদীর তীর, আদালত প্রাঙ্গণ, জমিদার বাড়ি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনা—সবখানেই কৃষ্ণচূড়ার লাল ফুলে তৈরি হয়েছে এক বর্ণিল আবহ। যেন সবুজ প্রকৃতির বুক জুড়ে জ্বলে উঠেছে আগুনের শিখা।
কৃষ্ণচূড়ার আদি নিবাস পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কার হলেও, সময়ের সঙ্গে এটি বাঙালির আবেগ-সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। অনেকের মতে, শ্রীকৃষ্ণের নাম থেকেই এসেছে ‘কৃষ্ণচূড়া’ নামটি। ভারত ও পাকিস্তানে এটি ‘গুলমোহর’ নামে পরিচিত হলেও বাংলাদেশে কৃষ্ণচূড়াই তার আপন পরিচয়।
এই গাছ সাধারণত খুব বেশি উঁচু হয় না—সর্বোচ্চ প্রায় ১২ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, তবে এর ডালপালা বিস্তৃত হয়ে বড় এলাকা জুড়ে ছায়া দেয়। এপ্রিল থেকে জুন—এই সময়জুড়েই ফুলে ভরে ওঠে কৃষ্ণচূড়া, আর গ্রীষ্মের শুরুতেই সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে ওঠা লাল ফুল যেন প্রকৃতিকে নতুন প্রাণ দেয়।
গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই কৃষ্ণচূড়ার এই রক্তিম সৌন্দর্য পথচারীদের মনে এক মুহূর্তের জন্য হলেও শিহরণ জাগায়। তপ্ত দুপুরে এর ছায়া যেমন প্রশান্তি দেয়, তেমনি এর রূপ চোখ জুড়িয়ে দেয় বারবার।
নবীনগরের বর্তমান দৃশ্যপট তাই এক কথায় অপূর্ব—প্রকৃতির ক্যানভাসে কৃষ্ণচূড়ার তুলির আঁচড়ে আঁকা এক জীবন্ত ছবি।
ফরিদ আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি 



















