০৯:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার চিরচেনা দৃশ্য—গরু দিয়ে ধান মাড়াই

আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে গ্রামবাংলার চিরচেনা কৃষিচিত্র। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এক সময়ের বহুল প্রচলিত ঐতিহ্য—গরু দিয়ে ধান মাড়াই—আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। কৃষিক্ষেত্রে যান্ত্রিকতার ব্যাপক বিস্তারে ধান বপন, রোপণ, কাটা, মাড়াই এমনকি ধান থেকে চাল তৈরির কাজও এখন সম্পন্ন হচ্ছে আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে।

একসময় মাঠে লাঙ্গল টানা গরু আর কাঁধে কোদাল নিয়ে কৃষকের ঘামঝরা পরিশ্রম ছিল গ্রামবাংলার পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই অতীত। কৃষকরা হালের গরুর পরিবর্তে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
বাংলাদেশের প্রকৃতি যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি ছিল এর কৃষি সংস্কৃতিও। শস্যশ্যামল মাঠ, ভাটিয়ালী সুর, রাখালের বাঁশি আর কৃষকের প্রাণখোলা হাসি মিলেই গড়ে উঠেছিল এক অপূর্ব গ্রামীণ জীবনচিত্র। হেমন্তের আগমনে ধান কাটার উৎসবে মুখর হয়ে উঠত গ্রাম। সারাদিন ধান কাটার পর সন্ধ্যা নামতেই শুরু হতো গরু দিয়ে ধান মাড়াইয়ের কাজ। রাতভর চলত সেই কর্মযজ্ঞ, যার মাঝে ক্লান্তি থাকলেও কৃষক-কৃষাণীর মুখে ফুটে উঠত আনন্দের হাসি।
ধান মাড়াই শেষে প্রতিটি কৃষক পরিবার মেতে উঠত নবান্ন উৎসবে। নতুন চালের ভাত, পিঠা-পুলি ও পায়েসের ঘ্রাণে ভরে উঠত চারপাশ।
বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষিকাজ অনেক সহজ ও দ্রুততর হয়েছে। পাওয়ার টিলার দিয়ে দ্রুত জমি প্রস্তুত করা, পাম্পের মাধ্যমে সেচ দেওয়া এবং উন্নত যন্ত্র দিয়ে ধান কাটা—সবই এখন সময় ও শ্রম সাশ্রয়ী। ফলে গরু দিয়ে ধান মাড়াইয়ের সেই ঐতিহ্যবাহী দৃশ্য আজ আর তেমন দেখা যায় না।
স্থানীয় কৃষক আবু রহমান জানান, “এখন সব কাজই মেশিনে হয়। তবে মাঝে মাঝে শখের বশে গরু দিয়ে ধান মাড়াই করি, যাতে পুরনো ঐতিহ্যটা একেবারে হারিয়ে না যায়।”
আরেক কৃষক মনির হোসেন বলেন, “বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এতে আমাদের কাজ সহজ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত রাখার পাশাপাশি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী কৃষি সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে সচেতন উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তা না হলে সময়ের প্রবাহে হারিয়ে যাবে আমাদের শিকড়ের সাথে জড়িয়ে থাকা মূল্যবান স্মৃতিগুলো।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার চিরচেনা দৃশ্য—গরু দিয়ে ধান মাড়াই

আপডেট টাইম : ১০:১৬:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে গ্রামবাংলার চিরচেনা কৃষিচিত্র। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এক সময়ের বহুল প্রচলিত ঐতিহ্য—গরু দিয়ে ধান মাড়াই—আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। কৃষিক্ষেত্রে যান্ত্রিকতার ব্যাপক বিস্তারে ধান বপন, রোপণ, কাটা, মাড়াই এমনকি ধান থেকে চাল তৈরির কাজও এখন সম্পন্ন হচ্ছে আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে।

একসময় মাঠে লাঙ্গল টানা গরু আর কাঁধে কোদাল নিয়ে কৃষকের ঘামঝরা পরিশ্রম ছিল গ্রামবাংলার পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই অতীত। কৃষকরা হালের গরুর পরিবর্তে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
বাংলাদেশের প্রকৃতি যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি ছিল এর কৃষি সংস্কৃতিও। শস্যশ্যামল মাঠ, ভাটিয়ালী সুর, রাখালের বাঁশি আর কৃষকের প্রাণখোলা হাসি মিলেই গড়ে উঠেছিল এক অপূর্ব গ্রামীণ জীবনচিত্র। হেমন্তের আগমনে ধান কাটার উৎসবে মুখর হয়ে উঠত গ্রাম। সারাদিন ধান কাটার পর সন্ধ্যা নামতেই শুরু হতো গরু দিয়ে ধান মাড়াইয়ের কাজ। রাতভর চলত সেই কর্মযজ্ঞ, যার মাঝে ক্লান্তি থাকলেও কৃষক-কৃষাণীর মুখে ফুটে উঠত আনন্দের হাসি।
ধান মাড়াই শেষে প্রতিটি কৃষক পরিবার মেতে উঠত নবান্ন উৎসবে। নতুন চালের ভাত, পিঠা-পুলি ও পায়েসের ঘ্রাণে ভরে উঠত চারপাশ।
বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষিকাজ অনেক সহজ ও দ্রুততর হয়েছে। পাওয়ার টিলার দিয়ে দ্রুত জমি প্রস্তুত করা, পাম্পের মাধ্যমে সেচ দেওয়া এবং উন্নত যন্ত্র দিয়ে ধান কাটা—সবই এখন সময় ও শ্রম সাশ্রয়ী। ফলে গরু দিয়ে ধান মাড়াইয়ের সেই ঐতিহ্যবাহী দৃশ্য আজ আর তেমন দেখা যায় না।
স্থানীয় কৃষক আবু রহমান জানান, “এখন সব কাজই মেশিনে হয়। তবে মাঝে মাঝে শখের বশে গরু দিয়ে ধান মাড়াই করি, যাতে পুরনো ঐতিহ্যটা একেবারে হারিয়ে না যায়।”
আরেক কৃষক মনির হোসেন বলেন, “বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এতে আমাদের কাজ সহজ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত রাখার পাশাপাশি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী কৃষি সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে সচেতন উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তা না হলে সময়ের প্রবাহে হারিয়ে যাবে আমাদের শিকড়ের সাথে জড়িয়ে থাকা মূল্যবান স্মৃতিগুলো।