০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“দুই ভূঁইয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উত্তাপ, নিষ্ক্রিয় থাকছে এনসিপি”

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের ৯টি ইউনিয়ন) আসনকে বহুদিন ধরেই বলা হয় বিএনপির ঘাঁটি এবং ‘খালেদা জিয়ার আসন’। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে দুইবার এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এখানেও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তৎপরতা। মাঠে সবচেয়ে সক্রিয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।

আসনটিতে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বিএনপি ও জামায়াতের দুই ‘ভূঁইয়া’—আবুল খায়ের ভূঁইয়া, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও তিনবারের সাবেক এমপি, এবং এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী।

দুই পক্ষের নেতাকর্মীরাই নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। রুহুল আমিন ভূঁইয়া অসুস্থ থাকায় তার দলের নেতাকর্মীরাই সংগঠন ও নির্বাচনি কর্মকাণ্ড সামলাচ্ছেন। অন্যদিকে আবুল খায়ের ভূঁইয়া নিয়মিত এলাকায় আসছেন, সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন এবং দলের কর্মীদের মাঠে সংগঠিত রাখছেন।

বিএনপি ও জামায়াত সক্রিয় থাকলেও জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদের খুব একটা তৎপরতা নেই। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও এবি পার্টির কার্যক্রম নেই বললেই চলে।

এদিকে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে বিএনপির আরও কয়েকজন মনোনয়ন চাইবেন—ভিপি হারুনুর রশিদ এবং যুবদলের সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ হিরো। হিরো বলেছেন, “দল মনে করলে তরুণদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করবো।”

তবে দলের দায়িত্বশীলরা বলছেন—সবকিছু ঠিক থাকলে মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত আবুল খায়ের ভূঁইয়ার। কারণ ঐতিহাসিকভাবে এ আসনে বিএনপির প্রধান ভরসা তিনিই।

বিএনপির ভেতরে দ্বন্দ্ব

রায়পুর উপজেলা ও পৌর যুবদলের সাম্প্রতিক কমিটি নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও তার অনুসারীরা আরমান-মামুন কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে আন্দোলন করেন। জেলা নেতারা পরে বৈঠক করে ভেদাভেদ ভুলে এক হয়ে কাজ করার নির্দেশ দিলেও তৃণমূলে এখনো বিভক্তি রয়েই গেছে।

উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল—সব অঙ্গসংগঠনের মধ্যেই রয়েছে দুই-তিন ভাগে বিভাজন। তবে খায়ের ভূঁইয়ার প্রশ্নে তারা ‘ওপরে ওপরে’ ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

অতীতের ভোট ইতিহাস

লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৯ হাজার ৭১৭। ১৯৮৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ১৩ বার এখানে নির্বাচন হয়েছে—বিএনপি জয়ী হয়েছে ৬ বার, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ ৩ বার করে,স্বতন্ত্র প্রার্থী ১ বার।

২০০১ ও ২০০৮ সালে বিজয়ী হয়েছিলেন আবুল খায়ের ভূঁইয়া। ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী শহিদুল ইসলাম পাপুল নির্বাচিত হন। মানবপাচারের মামলায় গ্রেফতারের পর আসনটি শূন্য হলে উপ-নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন। একইভাবে ২০২৪ সালেও তিনি নির্বাচিত হন।

কাদের মধ্যে মূল লড়াই?

এবার মূল লড়াই ধরে নেওয়া হচ্ছে— বিএনপির আবুল খায়ের ভূঁইয়া বনাম জামায়াতের এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া।

দুই ভূঁইয়ার তৎপরতা, মাঠে তাদের প্রভাব ও ঐতিহাসিক ভোট প্রবাহ—সব মিলিয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে এবারও দেখা যাবে উত্তাপপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

“দুই ভূঁইয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উত্তাপ, নিষ্ক্রিয় থাকছে এনসিপি”

আপডেট টাইম : ১০:২১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের ৯টি ইউনিয়ন) আসনকে বহুদিন ধরেই বলা হয় বিএনপির ঘাঁটি এবং ‘খালেদা জিয়ার আসন’। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে দুইবার এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এখানেও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তৎপরতা। মাঠে সবচেয়ে সক্রিয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।

আসনটিতে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বিএনপি ও জামায়াতের দুই ‘ভূঁইয়া’—আবুল খায়ের ভূঁইয়া, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও তিনবারের সাবেক এমপি, এবং এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী।

দুই পক্ষের নেতাকর্মীরাই নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। রুহুল আমিন ভূঁইয়া অসুস্থ থাকায় তার দলের নেতাকর্মীরাই সংগঠন ও নির্বাচনি কর্মকাণ্ড সামলাচ্ছেন। অন্যদিকে আবুল খায়ের ভূঁইয়া নিয়মিত এলাকায় আসছেন, সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন এবং দলের কর্মীদের মাঠে সংগঠিত রাখছেন।

বিএনপি ও জামায়াত সক্রিয় থাকলেও জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদের খুব একটা তৎপরতা নেই। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও এবি পার্টির কার্যক্রম নেই বললেই চলে।

এদিকে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে বিএনপির আরও কয়েকজন মনোনয়ন চাইবেন—ভিপি হারুনুর রশিদ এবং যুবদলের সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ হিরো। হিরো বলেছেন, “দল মনে করলে তরুণদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করবো।”

তবে দলের দায়িত্বশীলরা বলছেন—সবকিছু ঠিক থাকলে মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত আবুল খায়ের ভূঁইয়ার। কারণ ঐতিহাসিকভাবে এ আসনে বিএনপির প্রধান ভরসা তিনিই।

বিএনপির ভেতরে দ্বন্দ্ব

রায়পুর উপজেলা ও পৌর যুবদলের সাম্প্রতিক কমিটি নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও তার অনুসারীরা আরমান-মামুন কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে আন্দোলন করেন। জেলা নেতারা পরে বৈঠক করে ভেদাভেদ ভুলে এক হয়ে কাজ করার নির্দেশ দিলেও তৃণমূলে এখনো বিভক্তি রয়েই গেছে।

উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল—সব অঙ্গসংগঠনের মধ্যেই রয়েছে দুই-তিন ভাগে বিভাজন। তবে খায়ের ভূঁইয়ার প্রশ্নে তারা ‘ওপরে ওপরে’ ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

অতীতের ভোট ইতিহাস

লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৯ হাজার ৭১৭। ১৯৮৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ১৩ বার এখানে নির্বাচন হয়েছে—বিএনপি জয়ী হয়েছে ৬ বার, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ ৩ বার করে,স্বতন্ত্র প্রার্থী ১ বার।

২০০১ ও ২০০৮ সালে বিজয়ী হয়েছিলেন আবুল খায়ের ভূঁইয়া। ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী শহিদুল ইসলাম পাপুল নির্বাচিত হন। মানবপাচারের মামলায় গ্রেফতারের পর আসনটি শূন্য হলে উপ-নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন। একইভাবে ২০২৪ সালেও তিনি নির্বাচিত হন।

কাদের মধ্যে মূল লড়াই?

এবার মূল লড়াই ধরে নেওয়া হচ্ছে— বিএনপির আবুল খায়ের ভূঁইয়া বনাম জামায়াতের এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া।

দুই ভূঁইয়ার তৎপরতা, মাঠে তাদের প্রভাব ও ঐতিহাসিক ভোট প্রবাহ—সব মিলিয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে এবারও দেখা যাবে উত্তাপপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা।