ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা জুড়ে এ বছর জাতীয় ফল কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার গ্রামগঞ্জ, হাট-বাজার ও সড়কের পাশের গাছগুলোতে প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অনেকেই বিক্রি করেও লাভবান হচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় পার্বত্য অঞ্চল ও পাশের উপজেলা থেকে কাঁঠাল আনতে হলেও এখন আর সেই প্রয়োজন হচ্ছে না। উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাজারেই পর্যাপ্ত কাঁঠাল পাওয়া যাচ্ছে। সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দামও আগের বছরের তুলনায় কমেছে।
নবীনগরের বিভিন্ন এলাকায় বাগানের পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা ও রাস্তার ধারে ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো গাছগুলোতেও এবার প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে। গাছে গাছে ঝুলে থাকা কাঁঠাল উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও বাড়িয়ে তুলেছে।
স্থানীয় মিনা আক্তার জানান, কাঁচা কাঁঠাল সবজি হিসেবে রান্না করা হয়। আমরা আলুর বিকল্প হিসেবেও মাংসের তরকারিতে কাঁচা কাঁঠাল ব্যবহার করেন। এ ছাড়া কাঁঠালের বীজ তরকারিতে দেওয়া, ভেজে খাওয়া কিংবা ভর্তা তৈরিরও প্রচলন রয়েছে।
নবীনগর সদর বাজারের ব্যবসায়ী মোমেন মিয়া বলেন, “আগের তুলনায় বাজারে কাঁঠালের সরবরাহ অনেক বেশি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন কাঁঠাল আসছে।”
ক্রেতা তারেক মিয়া বলেন, “বাজারে এখন প্রচুর কাঁঠাল পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য ফলের তুলনায় কাঁঠাল সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। তবে অতিরিক্ত গরমে অনেকেই খাওয়ার বিষয়ে কিছুটা সতর্ক থাকেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়া বলেন, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি থেকে অনেক কাঁঠাল পেয়েছি। এ বছর নবীনগরের বিভিন্ন এলাকার কয়েক ধরনের কাঁঠাল দেখেছি, যার স্বাদ ও গুণগত মান বেশ ভালো।
উপজেলার কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর লিটন বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর নবীনগরে কাঁঠালের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নিজেদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অনেক পরিবার কাঁঠাল বিক্রি করে অতিরিক্ত আয়ও করছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও গাছের যথাযথ পরিচর্যার কারণে এ বছর কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে নবীনগর অঞ্চলে কাঁঠাল অর্থকরী ফল হিসেবেও আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ফরিদ আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি 



















