০৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদ রানার নেতৃত্বে মুগদা-মানিকনগরে কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের দুই সদস্য আটক, পুলিশের কাছে হস্তান্তর

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:০৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • ৬২ বার

প্রিয়া চৌধুরী

রাজধানীর মুগদা-মানিকনগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ এবং গণমাধ্যমে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর অবশেষে চক্রটির দুই সদস্যকে আটক করে মুগদা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বিভিন্ন গণমাধ্যমে চক্রটির কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সাংবাদিক প্রিয়া চৌধুরী ও আল আমিন আবিরের সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজন সাংবাদিক বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এর ধারাবাহিকতায় গতকাল রাত আনুমানিক ১টার দিকে মুগদা-মানিকনগর এলাকায় স্থানীয় জনতা ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদ রানার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে হিজরা মৌসুমি ওরফে পাপ্পি (৫০) ও মুক্তা (৪০) নামে দুই নারীকে আটক করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৭ নং ওয়ার্ডে সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল ইসলাম অপু। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলামিন সিকদার ৭১ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দল যুগ্ম আহ্বায়ক তৌয়ব আলী ও আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন
এলাকাবাসীর অভিযোগ,হিজরা মৌসুমি ওরফে পাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্ল্যাকমেইলের মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আটক ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আটকের পরপরই তাদের মুগদা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রের কারণে সাধারণ মানুষ হয়রানি ও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছিলেন।
মুগদা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং এলাকাবাসীর সক্রিয় ভূমিকার ফলে আলোচিত এই চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তারা চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করে পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচনের দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদ রানার নেতৃত্বে মুগদা-মানিকনগরে কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের দুই সদস্য আটক, পুলিশের কাছে হস্তান্তর

আপডেট টাইম : ০৩:০৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

প্রিয়া চৌধুরী

রাজধানীর মুগদা-মানিকনগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ এবং গণমাধ্যমে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর অবশেষে চক্রটির দুই সদস্যকে আটক করে মুগদা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বিভিন্ন গণমাধ্যমে চক্রটির কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সাংবাদিক প্রিয়া চৌধুরী ও আল আমিন আবিরের সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজন সাংবাদিক বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এর ধারাবাহিকতায় গতকাল রাত আনুমানিক ১টার দিকে মুগদা-মানিকনগর এলাকায় স্থানীয় জনতা ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদ রানার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে হিজরা মৌসুমি ওরফে পাপ্পি (৫০) ও মুক্তা (৪০) নামে দুই নারীকে আটক করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৭ নং ওয়ার্ডে সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল ইসলাম অপু। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলামিন সিকদার ৭১ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দল যুগ্ম আহ্বায়ক তৌয়ব আলী ও আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন
এলাকাবাসীর অভিযোগ,হিজরা মৌসুমি ওরফে পাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্ল্যাকমেইলের মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আটক ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আটকের পরপরই তাদের মুগদা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রের কারণে সাধারণ মানুষ হয়রানি ও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছিলেন।
মুগদা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং এলাকাবাসীর সক্রিয় ভূমিকার ফলে আলোচিত এই চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তারা চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করে পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচনের দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও জরুরি।