০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামগঞ্জে শিক্ষার্থী মেহেদীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনার দুই দিন পর মামলা: অধ্যক্ষসহ অভিযুক্ত ৮জন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:০৫:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ১৫৬ বার

মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম, স্টাফ রিপোর্টার ঃ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূইয়া একাডেমির আবাসিক হলের ৬১৪ নং কক্ষ থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান (১৪) এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নানসহ ৭ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৯/১০জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছে মেহেদী হাসানের পিতা জিয়াউদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (১৮জুন) সন্ধায় জিয়া উদ্দিন রামগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দাখিল করলে রাত সাড়ে ৮টায় মামলাটি রুজু করা হয়।
অধ্যক্ষ ছাড়া মামলার অপর অভিযুক্তরা হলেন একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্বাদশ শ্রেণির ৭জন শিক্ষার্থী। তারা সবাই এবারের এইচ.এস.সি পরিক্ষার্থী। এছাড়া উক্ত মামলা আরো ৯/১০জনেক অজ্ঞাত হিসাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার বাদী জিয়া উদ্দিনের দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায় ঘটনার দিন গত ১৬ জুন সন্ধা ৭টা ৪০ মিনিটে অজ্ঞাত ফোন থেকে মেহেদী হাসানের পিতা জিয়া উদ্দিনের মোবাইল নম্বরে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে কল দিয়ে জানানো হয় আমার ছেলে মারাত্মক অসুস্থ্য। দ্রুত বিদ্যালয়ে আসতে হবে। আমি ঢাকায় থাকায় আমার স্ত্রী শারমিন আক্তার, ভাই, ভাগিনা ও কন্যাকে দ্রুত স্কুলে যেতে বলি। আমার স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়রা স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন আমার ছেলে চাটখিল সরকারি হসপিটালে চিকিৎসাধীন। তারা বিষয়টি আমাকে জানালে আমার অন্য নিকটাত্মীয়দের বিষয়টি জানালে তারা চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখে আমার ছেলে মৃত্যুবরন করিয়াছে।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয় মেহেদী হাসান ২০১৪ইং সনে অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে আবাসিক হলেই অবস্থান করতো। পূর্ব থেকে বিদ্যালয়ের আবাসিক হলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা তাকেসহ কনিষ্ট শিক্ষার্থীদের কারনে অকারনে শারিরীক, মানসিকভাবে নির্যাতন ও হয়রানি করতো। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগও করা হয়েছে। আমার ছেলে মারা যাওয়ার কয়েকদিন আগে দ্বাদশ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর আই ফোন চুরি হওয়ার ঘটনায় মেহেদী হাসানসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে বেধম শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করে মামলায় অভিযুক্তরা। এ বিষয়ে মেহেদী হাসান একাডেমির অধ্যক্ষকে লিখিতভাবে জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উপরুন্ত অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ দেয়ার অপরাধে তাকে দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী আবারও বেধম মারধর করে এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করলে সে মারা যায়। পরে কে বা কাহারা তার ছেলের লাশ চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি আরো বলেন আমরা ঘটনার দিন রাতে চাটখিল থানা পুলিশের সহযোগিতায় লাশ নিয়ে আসি। ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হসপিটাল মর্গে প্রেরণ করি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছি।
বৃহস্পতিবার সন্ধায় মেহেদী হাসানের পিতা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নানসহ আরো ৭জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৯/১০জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ তাদের কাজ করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

রামগঞ্জে শিক্ষার্থী মেহেদীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনার দুই দিন পর মামলা: অধ্যক্ষসহ অভিযুক্ত ৮জন

আপডেট টাইম : ০১:০৫:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম, স্টাফ রিপোর্টার ঃ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূইয়া একাডেমির আবাসিক হলের ৬১৪ নং কক্ষ থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান (১৪) এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নানসহ ৭ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৯/১০জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছে মেহেদী হাসানের পিতা জিয়াউদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (১৮জুন) সন্ধায় জিয়া উদ্দিন রামগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দাখিল করলে রাত সাড়ে ৮টায় মামলাটি রুজু করা হয়।
অধ্যক্ষ ছাড়া মামলার অপর অভিযুক্তরা হলেন একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্বাদশ শ্রেণির ৭জন শিক্ষার্থী। তারা সবাই এবারের এইচ.এস.সি পরিক্ষার্থী। এছাড়া উক্ত মামলা আরো ৯/১০জনেক অজ্ঞাত হিসাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার বাদী জিয়া উদ্দিনের দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায় ঘটনার দিন গত ১৬ জুন সন্ধা ৭টা ৪০ মিনিটে অজ্ঞাত ফোন থেকে মেহেদী হাসানের পিতা জিয়া উদ্দিনের মোবাইল নম্বরে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে কল দিয়ে জানানো হয় আমার ছেলে মারাত্মক অসুস্থ্য। দ্রুত বিদ্যালয়ে আসতে হবে। আমি ঢাকায় থাকায় আমার স্ত্রী শারমিন আক্তার, ভাই, ভাগিনা ও কন্যাকে দ্রুত স্কুলে যেতে বলি। আমার স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়রা স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন আমার ছেলে চাটখিল সরকারি হসপিটালে চিকিৎসাধীন। তারা বিষয়টি আমাকে জানালে আমার অন্য নিকটাত্মীয়দের বিষয়টি জানালে তারা চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখে আমার ছেলে মৃত্যুবরন করিয়াছে।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয় মেহেদী হাসান ২০১৪ইং সনে অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে আবাসিক হলেই অবস্থান করতো। পূর্ব থেকে বিদ্যালয়ের আবাসিক হলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা তাকেসহ কনিষ্ট শিক্ষার্থীদের কারনে অকারনে শারিরীক, মানসিকভাবে নির্যাতন ও হয়রানি করতো। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগও করা হয়েছে। আমার ছেলে মারা যাওয়ার কয়েকদিন আগে দ্বাদশ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর আই ফোন চুরি হওয়ার ঘটনায় মেহেদী হাসানসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে বেধম শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করে মামলায় অভিযুক্তরা। এ বিষয়ে মেহেদী হাসান একাডেমির অধ্যক্ষকে লিখিতভাবে জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উপরুন্ত অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ দেয়ার অপরাধে তাকে দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী আবারও বেধম মারধর করে এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করলে সে মারা যায়। পরে কে বা কাহারা তার ছেলের লাশ চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি আরো বলেন আমরা ঘটনার দিন রাতে চাটখিল থানা পুলিশের সহযোগিতায় লাশ নিয়ে আসি। ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হসপিটাল মর্গে প্রেরণ করি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছি।
বৃহস্পতিবার সন্ধায় মেহেদী হাসানের পিতা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নানসহ আরো ৭জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৯/১০জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ তাদের কাজ করছে।