০৫:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামগতিতে গভীর রাতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে ডাকাতি: স্বামী-স্ত্রীকে বেঁধে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম, মালামাল লুট

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নে গভীর রাতে এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দল ঘরের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে গৃহকর্তা ও তাঁর স্ত্রীকে হাত-পাও চোখ বেঁধে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে। এ সময় ঘর থেকে সাড়ে চার ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ এক লাখ টাকা লুটে নেয় ডাকাতরা।

​গত রবিবার (১৩ জুলাই, ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪ নং আলেকজান্ডার ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের নুর উদ্দিন সাহেবের বাড়িতে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
​আহতরা হলেন—গৃহকর্তা নুর উদ্দিন (৪৫) ও তাঁর স্ত্রী রহিমা বেগম (৪৩)। বর্তমানে নুর উদ্দিন গুরুতর অবস্থায় নোয়াখালী সদর হাসপাতালে এবং রহিমা বেগম রামগতি (আলেকজান্ডার) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
​ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ৫ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল নুর উদ্দিনের বসত ঘরের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকেই ডাকাতরা নুর উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী রহিমা বেগমের হাত, পা ও চোখ বেঁধে ফেলে। এ সময় নুর উদ্দিনকে “তোকে মেরে ফেলব” বলে হুমকি দিয়ে ডাকাতরা দুজনকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
​একপর্যায়ে আলমারি ও ঘরের আসবাবপত্র ভেঙে সাড়ে ৪ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ ১ লক্ষ টাকা লুটে নিয়ে ডাকাত দল পালিয়ে যায়। ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর নুর উদ্দিনের জ্ঞান ফিরলে তিনি চিৎকার করে পাশের ঘরের লোকজনকে ডাকেন। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে রহিমা বেগমকে ভর্তি রাখা হলেও নুর উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে রেফার করেন।
​এদিকে ঘটনার পর পরই থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে রামগতি থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। খবর পেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও (ওসি) সশরীরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দেন।
​এ বিষয়ে রামগতি থানার ওসি জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং ডাকাত দলকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

রামগতিতে গভীর রাতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে ডাকাতি: স্বামী-স্ত্রীকে বেঁধে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম, মালামাল লুট

আপডেট টাইম : ০৪:২১:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নে গভীর রাতে এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দল ঘরের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে গৃহকর্তা ও তাঁর স্ত্রীকে হাত-পাও চোখ বেঁধে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে। এ সময় ঘর থেকে সাড়ে চার ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ এক লাখ টাকা লুটে নেয় ডাকাতরা।

​গত রবিবার (১৩ জুলাই, ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪ নং আলেকজান্ডার ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের নুর উদ্দিন সাহেবের বাড়িতে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
​আহতরা হলেন—গৃহকর্তা নুর উদ্দিন (৪৫) ও তাঁর স্ত্রী রহিমা বেগম (৪৩)। বর্তমানে নুর উদ্দিন গুরুতর অবস্থায় নোয়াখালী সদর হাসপাতালে এবং রহিমা বেগম রামগতি (আলেকজান্ডার) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
​ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ৫ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল নুর উদ্দিনের বসত ঘরের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকেই ডাকাতরা নুর উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী রহিমা বেগমের হাত, পা ও চোখ বেঁধে ফেলে। এ সময় নুর উদ্দিনকে “তোকে মেরে ফেলব” বলে হুমকি দিয়ে ডাকাতরা দুজনকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
​একপর্যায়ে আলমারি ও ঘরের আসবাবপত্র ভেঙে সাড়ে ৪ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ ১ লক্ষ টাকা লুটে নিয়ে ডাকাত দল পালিয়ে যায়। ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর নুর উদ্দিনের জ্ঞান ফিরলে তিনি চিৎকার করে পাশের ঘরের লোকজনকে ডাকেন। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে রহিমা বেগমকে ভর্তি রাখা হলেও নুর উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে রেফার করেন।
​এদিকে ঘটনার পর পরই থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে রামগতি থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। খবর পেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও (ওসি) সশরীরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দেন।
​এ বিষয়ে রামগতি থানার ওসি জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং ডাকাত দলকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।