০৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগমারায় পরীক্ষা দিতে পারলো না দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী

রাজশাহীর বাগমারায় কাঁদতে কাঁদতে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ফিরে গেছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তাওসিফ রহমান রিহান (১৫)। শ্রুতি লেখকের অনুমতি না পাওয়ায় তাকে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়নি।

পরীক্ষার্থীর মা দিলরুবা আফরোজ শিরিন অভিযোগ করেছেন, শ্রুতি লেখক চেয়ে আবেদন করা হলেও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার থেকে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে নবম শ্রেণির ভোকেশনাল পরীক্ষা শুরু হয়েছে, যেখানে তাওসিফের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।

দিলরুবা আফরোজ শিরিন জানান, তার ছেলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হলেও লেখাপড়ায় মন দিয়ে এগিয়ে চলছিল। স্থানীয় বাগমারা টেকনিক্যাল ভোকেশনাল স্কুলে ভর্তি করা হয়েছিল। এবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নবম শ্রেণিতে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়। শিক্ষাবোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী এবং সুপারিন্টেনডেন্টের পরামর্শে কেন্দ্র সচিবের মাধ্যমে শ্রুতিলেখকের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রকে মনোনীত করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দেওয়া হয়।

পরীক্ষার দিন সকালে শ্রুতিলেখক তামিম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হন তাওসিফ রহমান। কিন্তু পরীক্ষা প্রবেশের সময় শ্রুতিলেখককে কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ প্রবেশ করতে দেননি। শ্রুতি লেখকের অনুমতি না পাওয়ায় পরীক্ষা থেকে তাকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ছিল বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা।

পরীক্ষার্থীর বাবা তৌহিদুর রহমান ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, পরীক্ষা থেকে বের হওয়ার সময় তাওসিফের কান্না ও মানসিক ভাঙনের দৃশ্য হৃদয় নাড়া দিয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টায় পরীক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে কান্নাকাটি করছিল এবং কোনো কথা বলতে পারেনি।ভবানীগঞ্জ কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা কলেজের সচিব অধ্যক্ষ আতাউর রহমান শিবলী বলেন, “শিক্ষাবোর্ড থেকে মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা পরীক্ষার্থীর শ্রুতি লেখকের অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। অনুমতি না থাকায় পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।”

তবে শিক্ষার্থীর মা অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্র সচিব এ সংক্রান্ত সব দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং তিন দিন আগেও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু বাগমারা টেকনিক্যাল ভোকেশনাল স্কুলের সুপারিন্টেনডেন্ট এস এম মজিবর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৪ জন গ্রেপ্তার

বাগমারায় পরীক্ষা দিতে পারলো না দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী

আপডেট টাইম : ০৪:৫০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর বাগমারায় কাঁদতে কাঁদতে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ফিরে গেছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তাওসিফ রহমান রিহান (১৫)। শ্রুতি লেখকের অনুমতি না পাওয়ায় তাকে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়নি।

পরীক্ষার্থীর মা দিলরুবা আফরোজ শিরিন অভিযোগ করেছেন, শ্রুতি লেখক চেয়ে আবেদন করা হলেও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার থেকে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে নবম শ্রেণির ভোকেশনাল পরীক্ষা শুরু হয়েছে, যেখানে তাওসিফের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।

দিলরুবা আফরোজ শিরিন জানান, তার ছেলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হলেও লেখাপড়ায় মন দিয়ে এগিয়ে চলছিল। স্থানীয় বাগমারা টেকনিক্যাল ভোকেশনাল স্কুলে ভর্তি করা হয়েছিল। এবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নবম শ্রেণিতে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়। শিক্ষাবোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী এবং সুপারিন্টেনডেন্টের পরামর্শে কেন্দ্র সচিবের মাধ্যমে শ্রুতিলেখকের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রকে মনোনীত করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দেওয়া হয়।

পরীক্ষার দিন সকালে শ্রুতিলেখক তামিম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হন তাওসিফ রহমান। কিন্তু পরীক্ষা প্রবেশের সময় শ্রুতিলেখককে কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ প্রবেশ করতে দেননি। শ্রুতি লেখকের অনুমতি না পাওয়ায় পরীক্ষা থেকে তাকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ছিল বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা।

পরীক্ষার্থীর বাবা তৌহিদুর রহমান ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, পরীক্ষা থেকে বের হওয়ার সময় তাওসিফের কান্না ও মানসিক ভাঙনের দৃশ্য হৃদয় নাড়া দিয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টায় পরীক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে কান্নাকাটি করছিল এবং কোনো কথা বলতে পারেনি।ভবানীগঞ্জ কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা কলেজের সচিব অধ্যক্ষ আতাউর রহমান শিবলী বলেন, “শিক্ষাবোর্ড থেকে মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা পরীক্ষার্থীর শ্রুতি লেখকের অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। অনুমতি না থাকায় পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।”

তবে শিক্ষার্থীর মা অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্র সচিব এ সংক্রান্ত সব দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং তিন দিন আগেও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু বাগমারা টেকনিক্যাল ভোকেশনাল স্কুলের সুপারিন্টেনডেন্ট এস এম মজিবর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।