নিজের ৫৮তম বিবাহবার্ষিকীতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি—মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে রাজসাক্ষী হওয়ায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলায় তিনটি অভিযোগের মধ্যে দুটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসাদুজ্জামান খান কামালের তিনটি অভিযোগেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। এই মামলায় মোট ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় এবং বিভিন্ন অডিও, ভিডিও ও প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
মামলার প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:
২০২৪ সালের জুলাই–অগাস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ মন্তব্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান।
হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের উপর হামলার নির্দেশ।
রংপুরের ছাত্র আবু সাঈদসহ বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে হত্যা এবং ঘটনার তথ্য গোপন করা।
ঢাকায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পুড়িয়ে ধ্বংস করার নির্দেশ।
আদালত উল্লেখ করে, এই ঘটনার সুপিরিয়র কমান্ডার হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের সর্বোচ্চ দায় শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের ওপর বর্তায়। রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাটর্নি জেনারেল ও চিফ প্রসিকিউটর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী খালাস চেয়ে যুক্তি তোলেন।
মামলার কার্যক্রম চলাকালে দেশের বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সম্প্রচার ও সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া সর্বজনীনভাবে পরিচালিত হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















