০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চারঘাটে ভাতিজার হাতে চাচা খুনের ঘটনায় মামলা,আসামীরা পলাতক থাকায় ঘরবাড়ী লুটপাটের অভিযোগ

রাজশাহীর চারঘাটে ভাতিজার হাতে চাচা খুনের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহত মোস্তফার ছেলে ওমর ফারুক। শামিম আহম্মেদ নামের একজনকে প্রধান আসামী করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে চারঘাট মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। ঘটনার পর পরই গভীর রাতে রহমত উল্লাহ (৭০) ও দেলোয়ার হোসেন (৪৫) নামের দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ দিকে হত্যাকান্ডের পর পরই আসামীরাসহ তাদের পরিবার পরিজন সকলেই বাড়ী ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। ফলে বাড়ীতে কোন মানুষ না থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কে বা কাহারা আসামীদের ঘরবাড়ীতে লৃটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে বাদী পক্ষের লোকজনের দাবি আমরা লাশ দাফনসহ আহতদের চিকিৎসা কাজে ব্যাস্তি থাকায় আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না।
গতকাল শুক্রবার সকালে সাংবাদিকরা সরজমিনে ঘটনাস্থলে বালাদিয়াড় ওই গ্রামে গেলে দেখা যায়, আসামীদের বাড়ী ঘর ফাকা। কেউ নেই বাড়ীতে। একটি বাড়ীতে ব্যাটারি চালিত নতুন অটো পড়ে আছে। তবে অটোটির ৫টি ব্যাপারী কে বা কাহারা খুলে নিয়ে গেছে। অন্য বাড়ীতে ছাগল থাকার সত্যতা থাকলে ছাগল গুলো নেই। শামিম নামের আসামীর বাড়ীতে বড় গরুটি না থাকলেও ছোট গরুটি রয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মৃত-সমোতুল্লাহর দুই পক্ষের সন্তানদের মধ্যে জমির ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তারই প্রেক্ষিতে দেড় বিঘা পুকুর পাড়ে কয়েকটি খেজুর গাছ রয়েছে। সামনে শীত মৌসুমে খেজুর রহস সংগ্রহের জন্য দুটি খেজুর গাছ কেটে প্রস্তুত করছিল রহমতউল্লাহর ছেলে রফিকুল ইসলাম রফিক। এ খবর জানতে পেরে অন্য পক্ষের সন্তান মোস্তফা শেখ প্রতিবাদ করলে শুরু হয় বিরোধ। স্থানীয়রা বিরোধ নিশ্বপত্তি করার জন্য সকলকে বসে বিরোধ মিটানোর জন্য থামিয়ে দেয়। পরে পাশ্ববর্তি স্কুল মোড়ে মোস্তফার ভাই মসলেম উদ্দিন গেলে রফিক শফিকসহ অন্যরা মারপিট করে। মসলেম উদ্দিন বাড়ী এসে তার আত্মীয়স্বজনকে জানালে বিরোধ তুঙ্গে উঠে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন মারামারিসহ সংঘর্ষের জড়িয়ে পড়ে। পরে মোস্তফাসহ উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পুঠিয়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোস্তফাকে মৃত ঘোষনা করেন। অন্যদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এ দিকে সরজমিনে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি বলেন, মাত্র দুটি খেজুর গাছ রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত করাকে কেন্দ্র ১জন ব্যাক্তি মারা গেলেন। গাছ গাছের জায়গাতে থাকলো কিন্তু মোস্তফা আজ চলে গেলেন।

প্রসঙ্গগত, মঙ্গলবার চারঘাটে ভাতিজার হাতে মোস্তফা মারা যান। আহত হয়েছেন ৯ জন। উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বালাদিয়াড় গ্রামের শমোতুল্লার ২ বউ। এক পক্ষের ছেলে গোলাম মোস্তফা,ফজেল উদ্দিন, নেকশাদ আলী,মঞ্জিল আলী ও মহসিন আলী। অন্য পক্ষের সন্তান রহমতুল্লাহ। পিতার রেখে যাওয়া জমি ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে দুপক্ষের সন্তানদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের ৯ জন আহত হয়। আহতরা হলেন, গোলাম মোস্তফা (৬০), জাদু (৫০),লিটন আলী (৩৫ ),রিপন আলী (৩০), এনামুল হক (১৮), এজাজুল হক (২২), নাঈম আলী (১৮), আব্দুল কুদ্দুস আলী (৩৪),রফিকুল ইসলাম (৩৮),ফায়সাল হক(১৯)। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তি পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে গোলাম মোস্তফা (৬০)মারা যান। আহত অন্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন।

চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন,লুটপাটের কোন খবর আমার জানা নেই। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

চারঘাটে ভাতিজার হাতে চাচা খুনের ঘটনায় মামলা,আসামীরা পলাতক থাকায় ঘরবাড়ী লুটপাটের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৮:৪৯:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

রাজশাহীর চারঘাটে ভাতিজার হাতে চাচা খুনের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহত মোস্তফার ছেলে ওমর ফারুক। শামিম আহম্মেদ নামের একজনকে প্রধান আসামী করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে চারঘাট মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। ঘটনার পর পরই গভীর রাতে রহমত উল্লাহ (৭০) ও দেলোয়ার হোসেন (৪৫) নামের দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ দিকে হত্যাকান্ডের পর পরই আসামীরাসহ তাদের পরিবার পরিজন সকলেই বাড়ী ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। ফলে বাড়ীতে কোন মানুষ না থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কে বা কাহারা আসামীদের ঘরবাড়ীতে লৃটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে বাদী পক্ষের লোকজনের দাবি আমরা লাশ দাফনসহ আহতদের চিকিৎসা কাজে ব্যাস্তি থাকায় আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না।
গতকাল শুক্রবার সকালে সাংবাদিকরা সরজমিনে ঘটনাস্থলে বালাদিয়াড় ওই গ্রামে গেলে দেখা যায়, আসামীদের বাড়ী ঘর ফাকা। কেউ নেই বাড়ীতে। একটি বাড়ীতে ব্যাটারি চালিত নতুন অটো পড়ে আছে। তবে অটোটির ৫টি ব্যাপারী কে বা কাহারা খুলে নিয়ে গেছে। অন্য বাড়ীতে ছাগল থাকার সত্যতা থাকলে ছাগল গুলো নেই। শামিম নামের আসামীর বাড়ীতে বড় গরুটি না থাকলেও ছোট গরুটি রয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মৃত-সমোতুল্লাহর দুই পক্ষের সন্তানদের মধ্যে জমির ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তারই প্রেক্ষিতে দেড় বিঘা পুকুর পাড়ে কয়েকটি খেজুর গাছ রয়েছে। সামনে শীত মৌসুমে খেজুর রহস সংগ্রহের জন্য দুটি খেজুর গাছ কেটে প্রস্তুত করছিল রহমতউল্লাহর ছেলে রফিকুল ইসলাম রফিক। এ খবর জানতে পেরে অন্য পক্ষের সন্তান মোস্তফা শেখ প্রতিবাদ করলে শুরু হয় বিরোধ। স্থানীয়রা বিরোধ নিশ্বপত্তি করার জন্য সকলকে বসে বিরোধ মিটানোর জন্য থামিয়ে দেয়। পরে পাশ্ববর্তি স্কুল মোড়ে মোস্তফার ভাই মসলেম উদ্দিন গেলে রফিক শফিকসহ অন্যরা মারপিট করে। মসলেম উদ্দিন বাড়ী এসে তার আত্মীয়স্বজনকে জানালে বিরোধ তুঙ্গে উঠে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন মারামারিসহ সংঘর্ষের জড়িয়ে পড়ে। পরে মোস্তফাসহ উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পুঠিয়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোস্তফাকে মৃত ঘোষনা করেন। অন্যদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এ দিকে সরজমিনে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি বলেন, মাত্র দুটি খেজুর গাছ রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত করাকে কেন্দ্র ১জন ব্যাক্তি মারা গেলেন। গাছ গাছের জায়গাতে থাকলো কিন্তু মোস্তফা আজ চলে গেলেন।

প্রসঙ্গগত, মঙ্গলবার চারঘাটে ভাতিজার হাতে মোস্তফা মারা যান। আহত হয়েছেন ৯ জন। উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বালাদিয়াড় গ্রামের শমোতুল্লার ২ বউ। এক পক্ষের ছেলে গোলাম মোস্তফা,ফজেল উদ্দিন, নেকশাদ আলী,মঞ্জিল আলী ও মহসিন আলী। অন্য পক্ষের সন্তান রহমতুল্লাহ। পিতার রেখে যাওয়া জমি ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে দুপক্ষের সন্তানদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের ৯ জন আহত হয়। আহতরা হলেন, গোলাম মোস্তফা (৬০), জাদু (৫০),লিটন আলী (৩৫ ),রিপন আলী (৩০), এনামুল হক (১৮), এজাজুল হক (২২), নাঈম আলী (১৮), আব্দুল কুদ্দুস আলী (৩৪),রফিকুল ইসলাম (৩৮),ফায়সাল হক(১৯)। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তি পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে গোলাম মোস্তফা (৬০)মারা যান। আহত অন্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন।

চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন,লুটপাটের কোন খবর আমার জানা নেই। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।