০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রী মারা যাওয়ার ১১ ঘন্টা পর মারা গেলেন স্বামী; হৃদয়ছোঁয়া ঘটনায় শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রাম

স্বামী-স্ত্রী দুজনই একে অপরের ছায়া ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ভালোবাসার ছিলনা কোন কমতি। তাঁরা সাংসারিক অবসর সময়ে নিজেরাই খুনসুঁটিতে মেতে থাকতেন। একসঙ্গে বেঁচেছিলেন। আবার দুই জনই ১১ ঘন্টার ব্যবধানে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেলেন। স্বামী-স্ত্রীর এমন ভালোবাসার বন্ধন আর জীবনের শেষ পর্যন্ত পাশে থাকার প্রতিশ্রুতির এমন উদাহরণ পৃথিবীতে খুবই বিরলই বটে।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কাদিবাড়ী মধ্যেপাড়া গ্রামে এমন হৃদয়ছোঁয়া ঘটনাটি ঘটেছে। ওই গ্রামের দম্পতি জলিলুর রহমান ওরফে জলিল মাষ্টার (৭০) ও আঞ্জুয়ারা বেগম (৬০)। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী প্রায় ১১ ঘন্টার ব্যবধানে মারা গেছেন। আঞ্জুয়ারা বেগম শুক্রবার দুপুর প্রায় ১ টা ৩০ মিনিটে নিজ বাড়িতে মারা যান আর স্বামী জলিল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২ টা ২৫ মিনিটে নওগাঁ সদর মেডিকেল হাসপাতালে মারা যান। ওই দম্পতির দুই ছেলে এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।

গ্রামবাসী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জলিলুর রহমান একটু অসুস্থ ছিলেন। তাঁর স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম শুক্রবার দুপুর একটা ৩০ মিনিটে মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যু শোক সহ্য করতে না পেয়ে জলিলুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনেরা তাঁকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনেই গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।

শনিবার সকাল ১১ টায় নিজ গ্রামে তাঁদের জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।

১১ ঘন্টার ব্যবধানে মারা যাওয়া স্বামী-স্ত্রীর একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে । ওই ছবিতে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় লুডু খেলছিলেন।

মৃত দম্পতির ছোট ছেলে রাকিবুল হাসান রকি বলেন, আমার বাবা হালকা অসুস্থ ছিলেন। শুক্রবার দুপুুরে আমার মা মারা যান। এতে আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত বারোটা পর মারা যান। মা-বাবাকে হারিয়ে আমরা এতিম হয়ে গেলাম।

বদলগাছী ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ঐ গ্রামের বাসিন্দা মন্টু মৃধা বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জলিলুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী ১১ ঘন্টার ব্যবধানে মারা গেছেন। এমন হৃদয়ছোঁয়া ঘটনায় আমাদের গ্রামের শোকে স্তব্ধ। তাঁরা দুজন একে অপরের ছায়া ছিলেন, তাই আলাদা থাকতে পারেননি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

স্ত্রী মারা যাওয়ার ১১ ঘন্টা পর মারা গেলেন স্বামী; হৃদয়ছোঁয়া ঘটনায় শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রাম

আপডেট টাইম : ১০:২৮:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

স্বামী-স্ত্রী দুজনই একে অপরের ছায়া ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ভালোবাসার ছিলনা কোন কমতি। তাঁরা সাংসারিক অবসর সময়ে নিজেরাই খুনসুঁটিতে মেতে থাকতেন। একসঙ্গে বেঁচেছিলেন। আবার দুই জনই ১১ ঘন্টার ব্যবধানে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেলেন। স্বামী-স্ত্রীর এমন ভালোবাসার বন্ধন আর জীবনের শেষ পর্যন্ত পাশে থাকার প্রতিশ্রুতির এমন উদাহরণ পৃথিবীতে খুবই বিরলই বটে।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কাদিবাড়ী মধ্যেপাড়া গ্রামে এমন হৃদয়ছোঁয়া ঘটনাটি ঘটেছে। ওই গ্রামের দম্পতি জলিলুর রহমান ওরফে জলিল মাষ্টার (৭০) ও আঞ্জুয়ারা বেগম (৬০)। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী প্রায় ১১ ঘন্টার ব্যবধানে মারা গেছেন। আঞ্জুয়ারা বেগম শুক্রবার দুপুর প্রায় ১ টা ৩০ মিনিটে নিজ বাড়িতে মারা যান আর স্বামী জলিল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২ টা ২৫ মিনিটে নওগাঁ সদর মেডিকেল হাসপাতালে মারা যান। ওই দম্পতির দুই ছেলে এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।

গ্রামবাসী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জলিলুর রহমান একটু অসুস্থ ছিলেন। তাঁর স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম শুক্রবার দুপুর একটা ৩০ মিনিটে মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যু শোক সহ্য করতে না পেয়ে জলিলুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনেরা তাঁকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনেই গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।

শনিবার সকাল ১১ টায় নিজ গ্রামে তাঁদের জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।

১১ ঘন্টার ব্যবধানে মারা যাওয়া স্বামী-স্ত্রীর একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে । ওই ছবিতে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় লুডু খেলছিলেন।

মৃত দম্পতির ছোট ছেলে রাকিবুল হাসান রকি বলেন, আমার বাবা হালকা অসুস্থ ছিলেন। শুক্রবার দুপুুরে আমার মা মারা যান। এতে আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত বারোটা পর মারা যান। মা-বাবাকে হারিয়ে আমরা এতিম হয়ে গেলাম।

বদলগাছী ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ঐ গ্রামের বাসিন্দা মন্টু মৃধা বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জলিলুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী ১১ ঘন্টার ব্যবধানে মারা গেছেন। এমন হৃদয়ছোঁয়া ঘটনায় আমাদের গ্রামের শোকে স্তব্ধ। তাঁরা দুজন একে অপরের ছায়া ছিলেন, তাই আলাদা থাকতে পারেননি।