০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুরে নিখোঁজের ৭ দিন পর সেফটি ট্যাংকি থেকে ছাত্রলীগ কর্মীর লাশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক আসামি গ্রেপ্তার, উদ্ধার মুগুর ও মোটরসাইকেল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:২৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০৬ বার

মাহমুদুর রহমান মনজু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নিখোঁজের সাত দিন পর ফজলে রাব্বি বাবু (২১) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. শাহেদ (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মুগুর ও নিহতের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ জানুয়ারি ফজলে রাব্বি বাবু নিখোঁজ হন। পরদিন ১৮ জানুয়ারি তার বাবা বেল্লাল হোসেন চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি নং–৭৩১) করেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী, পিপিএম-সেবা’র প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে।
তদন্তের এক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. শাহেদ এবং মাহফুজুর রহমান ওরফে কানা মাহফুজ নামে দুইজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে ছিলেন। ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৩ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ঢাকা জেলার দোহার এলাকা থেকে মো. শাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরই মধ্যে স্থানীয়দের সহায়তায় একটি দীঘির উত্তর পাশে কিরণ নামে এক ব্যক্তির টয়লেটের সেফটি ট্যাংকি থেকে নিখোঁজ বাবুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার শাহেদ হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জানায়, পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ফজলে রাব্বি বাবুকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে সেফটি ট্যাংকিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং তার মোটরসাইকেল আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর নিহতের মোটরসাইকেলটি ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাকে গ্রেপ্তার করার পর জানা যায়, তিনি মোটরসাইকেলটি ৬৫ হাজার টাকায় রাকিব নামে আরেকজনের কাছে বিক্রি করেন। পরে রাকিবকে গ্রেপ্তার করে তার হেফাজত থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার শাহেদের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মুগুর ও আংশিক পোড়ানো একটি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত মাহফুজুর রহমান ওরফে কানা মাহফুজকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

লক্ষ্মীপুরে নিখোঁজের ৭ দিন পর সেফটি ট্যাংকি থেকে ছাত্রলীগ কর্মীর লাশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক আসামি গ্রেপ্তার, উদ্ধার মুগুর ও মোটরসাইকেল

আপডেট টাইম : ০৩:২৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

মাহমুদুর রহমান মনজু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নিখোঁজের সাত দিন পর ফজলে রাব্বি বাবু (২১) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. শাহেদ (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মুগুর ও নিহতের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ জানুয়ারি ফজলে রাব্বি বাবু নিখোঁজ হন। পরদিন ১৮ জানুয়ারি তার বাবা বেল্লাল হোসেন চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি নং–৭৩১) করেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী, পিপিএম-সেবা’র প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে।
তদন্তের এক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. শাহেদ এবং মাহফুজুর রহমান ওরফে কানা মাহফুজ নামে দুইজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে ছিলেন। ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৩ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ঢাকা জেলার দোহার এলাকা থেকে মো. শাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরই মধ্যে স্থানীয়দের সহায়তায় একটি দীঘির উত্তর পাশে কিরণ নামে এক ব্যক্তির টয়লেটের সেফটি ট্যাংকি থেকে নিখোঁজ বাবুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার শাহেদ হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জানায়, পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ফজলে রাব্বি বাবুকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে সেফটি ট্যাংকিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং তার মোটরসাইকেল আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর নিহতের মোটরসাইকেলটি ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাকে গ্রেপ্তার করার পর জানা যায়, তিনি মোটরসাইকেলটি ৬৫ হাজার টাকায় রাকিব নামে আরেকজনের কাছে বিক্রি করেন। পরে রাকিবকে গ্রেপ্তার করে তার হেফাজত থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার শাহেদের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মুগুর ও আংশিক পোড়ানো একটি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত মাহফুজুর রহমান ওরফে কানা মাহফুজকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।