০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে সংরক্ষিত অঞ্চল মান্দার বাড়িয়া স্টেশনে চলছে রমরমা উৎকোচ বাণিজ্য।রক্ষক যখন ভক্ষক ? ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৫৪:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৩৬ বার

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি, সুন্দরবন থেকে ফিরে।

খুলনা পশ্চিম বন বিভাগের অন্যতম রেঞ্জ সাতক্ষীরা।বিস্তৃত জনপদ শ্যামনগর সাতক্ষীরা রেঞ্জের মান্দারবাড়ীয়া স্টেশনে,প্রতিমাসে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার ঘুষ বাণিজ্য চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গভীর অনুসন্ধানে জানা যায,সাতক্ষীরা রেঞ্জের অধীনে চারটি সংরক্ষিত এলাকা অর্থাৎ অভয়ারণ্য রয়েছে।যেখানে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ,বর্তমানে দুই মাসের জন্য কাঁকড়া ধরা নিষিদ্ধ করেছে বনবিভাগ,ভিতরে ভিতরে চলছে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ বাণিজ্য।যার একটি মান্দার বাড়িয়া স্টেশন।সাগরের নিকটবর্তী হওয়ায় নদীপথে ভারতীয় মালামাল এবং মান্দারবাড়িয়া স্টেশনে চুক্তিভিত্তিক,কাকড়া,গয়শা জাল ও চরপাটার নৌকা-কাকড়া ও মৎস্য সম্পদ নিধন করে চলেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান,আমি সত্য বলতে রাজি আছি,যদি আমার নাম প্রকাশ করেন,জীবনে আর সুন্দরবনে যেতে পারবো না। অনাহারে মরতে হবে।সুযোগ নিচ্ছে কতিপয় বন কর্মকর্তা, কর্মচারী।আমাদের জীবন নদী ও সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল।আমাদের বহরে পাঁচটি কাঁকড়া ধরার নৌকা রয়েছে।প্রতিগোণ অর্থাৎ ১৫ দিনে ৫ হাজার টাকা ওসি, ক্যাশিয়ার কে দিতে হয়। এরপরেও জলদস্যু ধরলে মোটা অংকের টাকা দিতে হয় মহা বিপদে রয়েছে আমরা।
বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা যায়, সাইফুলের ছয়টি কাঁকড়ার নৌকা,বাবুর ছয়টি,আব্দুর রশিদের পাঁচটি কাঁকড়া শিকারের নৌকা মান্দার বাড়িয়া অভয়ারণ্যে রয়েছে।সব মিলিয়ে প্রায় ২২ টির মতো কাঁকড়ার অবৈধ নৌকা মান্দারবাড়ীয়া এলাকায় চুক্তিভিত্তিক কাকড়া ও মৎস্য সম্পদ নিধন কার্যক্রম চালাচ্ছে।
সূত্র আরো জানায়, শাহ আলমের পাঁচটি কাঁকড়ার চুক্তিকৃত নৌকা এই গোনে নামেনি। আগামী গোনে মান্দারবাড়িয়ায় প্রবেশ করবে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে,এই প্রতিবেদককে জানান,কাকড়া ব্যতীত গাবুরার অয়ন কোম্পানির পাঁচটি গয়শা জালের নৌকা,প্রতি নৌকার জন্য চুক্তি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা,কয়রার কামরুল কোম্পানির রয়েছে,পাঁচটি চরপাটা ধরার নৌকা,প্রতি নৌকার চুক্তি ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা।সব মিলিয়ে ১৫ দিন অন্তর দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকার বেশি বাণিজ্য হয়।
তাহলে প্রতি মাসে বাণিজ্য হয়- কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা।

সংকটাপন্ন অবস্থায়,এমন নিধনযজ্ঞ কার্যক্রম সংরক্ষিত এলাকায় ? চুক্তির টাকা নিচ্ছেন মান্দারবাড়ি স্টেশন ওসি আব্দুল কারিম ও ক্যাশিয়ার মুস্তাফিজ। চারটি অভয়ারণ্য এলাকার একটি চিত্র যদি এমন হয়,তাহলে অন্য তিনটা অভয়ারণ্য তথা সংরক্ষিত এলাকায় কি চলছে ? উল্লেখ করা যেতে পারে চারটি অভয়ারণ্য এলাকার যাবতীয় ঘুষ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা,জিয়াউর রহমান। মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করলে,তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।বিষয়টা অনেকটা এমন,নদীতে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ। কর্মকর্তা,বনকর্মী দের টাকা না দিলে, আয় করা যায় না।আবার জলদস্যুর সামনে পড়লে গুনতে হয় মোটা অংকের টাকা। জেলে বাওয়ালি সম্প্রদায় আজীবন বন বিভাগের নিকট জিম্মি থাকবে ? সমাধান কোথায় ? এই ধারা কোনোকালে কি পরিবর্তন হবে না ? লজ্জাজনক সত্য হল,বন বিভাগের ফাইবার বটে চোরাই নৌকার মালামাল বহন করা হয়।সুন্দরবন রক্ষার্থে,
বন পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, নির্যাতিত হতদরিদ্র জেলে বাওয়ালি জনগোষ্ঠী।সুন্দরবন বাঁচলে আমরা বাঁচবো। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে মায়ের মত আগলে রাখে সুন্দরবন। বাড়ির মালিক যদি চোর হয়,দালালদের জন্য সুন্দরবন ধ্বংস করা খুবই সহজ হয়ে দাঁড়ায়। কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন জেলা বাসি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

সুন্দরবনে সংরক্ষিত অঞ্চল মান্দার বাড়িয়া স্টেশনে চলছে রমরমা উৎকোচ বাণিজ্য।রক্ষক যখন ভক্ষক ? ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।

আপডেট টাইম : ০২:৫৪:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি, সুন্দরবন থেকে ফিরে।

খুলনা পশ্চিম বন বিভাগের অন্যতম রেঞ্জ সাতক্ষীরা।বিস্তৃত জনপদ শ্যামনগর সাতক্ষীরা রেঞ্জের মান্দারবাড়ীয়া স্টেশনে,প্রতিমাসে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার ঘুষ বাণিজ্য চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গভীর অনুসন্ধানে জানা যায,সাতক্ষীরা রেঞ্জের অধীনে চারটি সংরক্ষিত এলাকা অর্থাৎ অভয়ারণ্য রয়েছে।যেখানে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ,বর্তমানে দুই মাসের জন্য কাঁকড়া ধরা নিষিদ্ধ করেছে বনবিভাগ,ভিতরে ভিতরে চলছে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ বাণিজ্য।যার একটি মান্দার বাড়িয়া স্টেশন।সাগরের নিকটবর্তী হওয়ায় নদীপথে ভারতীয় মালামাল এবং মান্দারবাড়িয়া স্টেশনে চুক্তিভিত্তিক,কাকড়া,গয়শা জাল ও চরপাটার নৌকা-কাকড়া ও মৎস্য সম্পদ নিধন করে চলেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান,আমি সত্য বলতে রাজি আছি,যদি আমার নাম প্রকাশ করেন,জীবনে আর সুন্দরবনে যেতে পারবো না। অনাহারে মরতে হবে।সুযোগ নিচ্ছে কতিপয় বন কর্মকর্তা, কর্মচারী।আমাদের জীবন নদী ও সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল।আমাদের বহরে পাঁচটি কাঁকড়া ধরার নৌকা রয়েছে।প্রতিগোণ অর্থাৎ ১৫ দিনে ৫ হাজার টাকা ওসি, ক্যাশিয়ার কে দিতে হয়। এরপরেও জলদস্যু ধরলে মোটা অংকের টাকা দিতে হয় মহা বিপদে রয়েছে আমরা।
বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা যায়, সাইফুলের ছয়টি কাঁকড়ার নৌকা,বাবুর ছয়টি,আব্দুর রশিদের পাঁচটি কাঁকড়া শিকারের নৌকা মান্দার বাড়িয়া অভয়ারণ্যে রয়েছে।সব মিলিয়ে প্রায় ২২ টির মতো কাঁকড়ার অবৈধ নৌকা মান্দারবাড়ীয়া এলাকায় চুক্তিভিত্তিক কাকড়া ও মৎস্য সম্পদ নিধন কার্যক্রম চালাচ্ছে।
সূত্র আরো জানায়, শাহ আলমের পাঁচটি কাঁকড়ার চুক্তিকৃত নৌকা এই গোনে নামেনি। আগামী গোনে মান্দারবাড়িয়ায় প্রবেশ করবে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে,এই প্রতিবেদককে জানান,কাকড়া ব্যতীত গাবুরার অয়ন কোম্পানির পাঁচটি গয়শা জালের নৌকা,প্রতি নৌকার জন্য চুক্তি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা,কয়রার কামরুল কোম্পানির রয়েছে,পাঁচটি চরপাটা ধরার নৌকা,প্রতি নৌকার চুক্তি ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা।সব মিলিয়ে ১৫ দিন অন্তর দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকার বেশি বাণিজ্য হয়।
তাহলে প্রতি মাসে বাণিজ্য হয়- কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা।

সংকটাপন্ন অবস্থায়,এমন নিধনযজ্ঞ কার্যক্রম সংরক্ষিত এলাকায় ? চুক্তির টাকা নিচ্ছেন মান্দারবাড়ি স্টেশন ওসি আব্দুল কারিম ও ক্যাশিয়ার মুস্তাফিজ। চারটি অভয়ারণ্য এলাকার একটি চিত্র যদি এমন হয়,তাহলে অন্য তিনটা অভয়ারণ্য তথা সংরক্ষিত এলাকায় কি চলছে ? উল্লেখ করা যেতে পারে চারটি অভয়ারণ্য এলাকার যাবতীয় ঘুষ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা,জিয়াউর রহমান। মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করলে,তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।বিষয়টা অনেকটা এমন,নদীতে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ। কর্মকর্তা,বনকর্মী দের টাকা না দিলে, আয় করা যায় না।আবার জলদস্যুর সামনে পড়লে গুনতে হয় মোটা অংকের টাকা। জেলে বাওয়ালি সম্প্রদায় আজীবন বন বিভাগের নিকট জিম্মি থাকবে ? সমাধান কোথায় ? এই ধারা কোনোকালে কি পরিবর্তন হবে না ? লজ্জাজনক সত্য হল,বন বিভাগের ফাইবার বটে চোরাই নৌকার মালামাল বহন করা হয়।সুন্দরবন রক্ষার্থে,
বন পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, নির্যাতিত হতদরিদ্র জেলে বাওয়ালি জনগোষ্ঠী।সুন্দরবন বাঁচলে আমরা বাঁচবো। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে মায়ের মত আগলে রাখে সুন্দরবন। বাড়ির মালিক যদি চোর হয়,দালালদের জন্য সুন্দরবন ধ্বংস করা খুবই সহজ হয়ে দাঁড়ায়। কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন জেলা বাসি।