কবির হোসেন রাকিব
(লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের বর্তমান স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শরাফ উদ্দিন সোহেলের বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়া নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির হাত ধরে তিনি ধানের শীষের আদর্শে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
তবে এই যোগদানকে ঘিরে সাধারণ ভোটার ও তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং নানা প্রশ্নের দানা বেঁধেছে।
উল্লেখ্য যে, শরাফ উদ্দিন সোহেল বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘কাপ-পিরিচ’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই নির্বাচনে তিনি জেএসডি নেত্রী বেগম তানিয়া রবের পক্ষে ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সোহেল রাজনৈতিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট আদর্শে স্থির নন। সাধারণ জনগণের ভাষায়— “কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো বিএনপি”—এমন ডিগবাজির রাজনীতিতে তিনি অভ্যস্ত।
রামগতি ও কমলনগরের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজারে এখন প্রধান আলোচনার বিষয়— কিসের বিনিময়ে বা কোন স্বার্থে তিনি হুট করে ধানের শীষের শিবিরে ভিড়লেন? বিশেষ করে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা আশরাফ উদ্দিন নিজানের সমর্থকদের মধ্যে এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ ও বিস্ময় বিরাজ করছে। ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করছে, নির্বাচনের মাঠে একসময় যারা মুখোমুখি ছিলেন, আজ তাদের একই ছাতার নিচে আসা সাধারণ মানুষের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ভোটার বলেন, “রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই সত্যি, কিন্তু যারা সুযোগ বুঝে রঙ বদলায়, তাদের গ্রহণ করা সাধারণ ভোটারদের জন্য কঠিন। আমরা জানতে চাই, এই যোগদানের নেপথ্যে আসল কারণ কী?”
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির মাধ্যমে এই হাই-প্রোফাইল যোগদানের ফলে লক্ষ্মীপুর – ৪ বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তবে শরাফ উদ্দিন সোহেলের এই ‘ভোলবদল’ রামগতি ও কমলনগরের রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা এই নির্বাচনের আগে বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Reporter Name 


















