০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামগতিতে প্রতারণার শিকার নিঃস্ব খালু: বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে  ভায়রার ছেলের প্রতারণার শিকার নিঃস্ব খালু এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এক সময়ে আর্থিক সচল থাকলেও  ফাঁদে সব হারিয়ে চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন। জমি ও জমি বিক্রির জমানো টাকা উদ্ধারে বিচারের আশায় এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।  উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের চরলক্ষী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  ভূক্তভোগী মোঃ দুলালের অভিযোগ প্রতারক  আপন ভায়রার ছেলে আবদুস সালাম বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী দুলাল ও প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ , দুলাল ও তার স্ত্রী একটি নিঃসন্তান দম্পত্তি।  দীর্ঘ দিন তারা নিজ বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। নিজ ছেলে সন্তান না থাকার কারণে ভাগিনা আবদুস সালাম প্রতারণার কৌশলে তাদের দেখভাল করবে বলে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। এসময় জমি বিক্রিত ও নগদ সাড়ে ১৪ লাখ টাকা স্থানীয় ব্যাংকে জমা রাখবে বলে নিয়ে যায়। সহজ ও সরল বিশ্বাসে টাকা গুলো নিয়ে কোনো ব্যাংক একাউন্ট না করেই প্রতারক আবদুল সালাম তা আত্মসাত করে। এদিকে তাদের  (আবদুল সালামের) বাড়িতে যাওয়ার ১৫ দিনের মাথায় তার স্ত্রী
মারা যান। স্ত্রী মারা গেলে তাকে ওই বাড়িতে রাখার শর্তে মাসিক ৭ হাজার টাকা খানাখরচ বাবদ পরিশোধ করবেন দুলাল। এমন শর্তে মাস ছয়েক ছলছিলো। এরইমধ্যে  অসুস্থ্য জনিত চিকিৎসার কথা বলে অন্যান্য জমির অংশ বিশেষ কবলা করে নেয় ভাগিনা আবদুল সালাম।
বর্তমানে ভুক্তভোগী দুলাল তার অসুস্থ শরীর নিয়ে আবদুল সালামের বাড়িতে অবস্থান করলেও বিনা চিকিৎসায় ও অযত্নে-অবহেলায় মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে অনেকটা আত্মগোপনে নিজ বাড়িতে গিয়ে প্রতিবেশীর আশ্রয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ব্যাংকে খোঁজ নিলে জানা যায়, তার একাউন্টে কোনো টাকা জমা রাখা হয়নি। সবটাকা আবদুল সালাম ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজেই আত্মসাত করে।
এদিকে সুচতুর আবদুল সালাম ক্ষিপ্ত হয়ে আশ্রয়দাতা প্রতিবেশি ও দুলালের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা হয়রানি মামলা দায়ের করে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মীর আক্তার হোসেন বাচ্চুর নেতৃত্বে একটি সালিশ  বৈঠকে উভয় পক্ষের জবানবন্দিতে সত্যতা পাওয়া যায়। সালিস বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতে, জমির কবলা ফেরত ও টাকা ফেরতের স্বীকারোক্তি হয়। পরে এক কিস্তিতে নগদ ৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেও বাকী সাড়ে ১১ লাখ টাকা ও জমির কবলা ফেরত না দিয়ে তালবাহানা করছে আবদুল সালাম।অসহায় দুলাল তার বাকী টাকা ও তার কাছ থেকে নেওয়া জমি উদ্ধারে আইনি সহায়তা কামনা করছেন।
অভিযুক্ত আবদুল সালাম বলেন, দুলাল উদ্দিনের যে টাকা হিসাব অনুযায়ী পাওনা হয়েছে তার একটি অংশ তিনি ইতোমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিয়েছেন। বাকি টাকাও চেয়ারম্যান লিখিত দিলে তার কাছেই জমা দেবেন বলে জানান তিনি। লিখিত না পেলে আদালতের মাধ্যমে সমাধান করে দিব।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

রামগতিতে প্রতারণার শিকার নিঃস্ব খালু: বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন

আপডেট টাইম : ০১:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে  ভায়রার ছেলের প্রতারণার শিকার নিঃস্ব খালু এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এক সময়ে আর্থিক সচল থাকলেও  ফাঁদে সব হারিয়ে চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন। জমি ও জমি বিক্রির জমানো টাকা উদ্ধারে বিচারের আশায় এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।  উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের চরলক্ষী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  ভূক্তভোগী মোঃ দুলালের অভিযোগ প্রতারক  আপন ভায়রার ছেলে আবদুস সালাম বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী দুলাল ও প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ , দুলাল ও তার স্ত্রী একটি নিঃসন্তান দম্পত্তি।  দীর্ঘ দিন তারা নিজ বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। নিজ ছেলে সন্তান না থাকার কারণে ভাগিনা আবদুস সালাম প্রতারণার কৌশলে তাদের দেখভাল করবে বলে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। এসময় জমি বিক্রিত ও নগদ সাড়ে ১৪ লাখ টাকা স্থানীয় ব্যাংকে জমা রাখবে বলে নিয়ে যায়। সহজ ও সরল বিশ্বাসে টাকা গুলো নিয়ে কোনো ব্যাংক একাউন্ট না করেই প্রতারক আবদুল সালাম তা আত্মসাত করে। এদিকে তাদের  (আবদুল সালামের) বাড়িতে যাওয়ার ১৫ দিনের মাথায় তার স্ত্রী
মারা যান। স্ত্রী মারা গেলে তাকে ওই বাড়িতে রাখার শর্তে মাসিক ৭ হাজার টাকা খানাখরচ বাবদ পরিশোধ করবেন দুলাল। এমন শর্তে মাস ছয়েক ছলছিলো। এরইমধ্যে  অসুস্থ্য জনিত চিকিৎসার কথা বলে অন্যান্য জমির অংশ বিশেষ কবলা করে নেয় ভাগিনা আবদুল সালাম।
বর্তমানে ভুক্তভোগী দুলাল তার অসুস্থ শরীর নিয়ে আবদুল সালামের বাড়িতে অবস্থান করলেও বিনা চিকিৎসায় ও অযত্নে-অবহেলায় মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে অনেকটা আত্মগোপনে নিজ বাড়িতে গিয়ে প্রতিবেশীর আশ্রয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ব্যাংকে খোঁজ নিলে জানা যায়, তার একাউন্টে কোনো টাকা জমা রাখা হয়নি। সবটাকা আবদুল সালাম ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজেই আত্মসাত করে।
এদিকে সুচতুর আবদুল সালাম ক্ষিপ্ত হয়ে আশ্রয়দাতা প্রতিবেশি ও দুলালের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা হয়রানি মামলা দায়ের করে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মীর আক্তার হোসেন বাচ্চুর নেতৃত্বে একটি সালিশ  বৈঠকে উভয় পক্ষের জবানবন্দিতে সত্যতা পাওয়া যায়। সালিস বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতে, জমির কবলা ফেরত ও টাকা ফেরতের স্বীকারোক্তি হয়। পরে এক কিস্তিতে নগদ ৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেও বাকী সাড়ে ১১ লাখ টাকা ও জমির কবলা ফেরত না দিয়ে তালবাহানা করছে আবদুল সালাম।অসহায় দুলাল তার বাকী টাকা ও তার কাছ থেকে নেওয়া জমি উদ্ধারে আইনি সহায়তা কামনা করছেন।
অভিযুক্ত আবদুল সালাম বলেন, দুলাল উদ্দিনের যে টাকা হিসাব অনুযায়ী পাওনা হয়েছে তার একটি অংশ তিনি ইতোমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিয়েছেন। বাকি টাকাও চেয়ারম্যান লিখিত দিলে তার কাছেই জমা দেবেন বলে জানান তিনি। লিখিত না পেলে আদালতের মাধ্যমে সমাধান করে দিব।