০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদকর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ বেতন কাঠামো প্রয়োজন। অপ সাংবাদিকতার তৎপরতা।

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:২৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ১১২ বার

এম মনিরুল ইসলাম।

গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃত সংবাদমাধ্যম তখনই সচল থাকে, যখন এর কারিগররা—অর্থাৎ সাংবাদিকরা—একটি মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা পান। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা পেশাটি বর্তমানে এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদকর্মীদের জন্য ন্যূনতম বেতন কাঠামো নির্ধারণের যে জোরালো দাবি উঠেছে, তা কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং সাংবাদিকতার অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন।
বর্তমানে দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে এক বৈষম্যমূলক চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। গুটিকয়েক করপোরেট হাউজ নিয়মিত বেতন দিলেও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সংবাদকর্মীদের বড় একটি অংশ এখনো বিনা বেতনে অথবা যৎসামান্য সম্মানীতে কাজ করছেন। এই আর্থিক দৈন্যদশা শুধু সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত জীবনকেই বিপন্ন করে না, বরং এটি নৈতিক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। পেটে ক্ষুধা নিয়ে কলমের আপসহীন ধার ধরে রাখা যেমন কঠিন,তেমনি এই সুযোগেই হলুদ সাংবাদিকতা ও অপতৎপরতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাম্প্রতিক প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন সরকারি নবম গ্রেডের সমমর্যাদায় নির্ধারণ করা এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে স্নাতক ডিগ্রির বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। যদি একজন সাংবাদিকের প্রারম্ভিক বেতন ৩৫ হাজার টাকার ওপরে নির্ধারণ করা যায়, তবে এই পেশায় যেমন মেধাবীদের আগমন ঘটবে, তেমনি পেশার সামাজিক মর্যাদাও সুসংহত হবে।
তবে শুধু আইন বা বেতন কাঠামো ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়; এর কঠোর বাস্তবায়নই আসল চ্যালেঞ্জ। অতীতে ওয়েজ বোর্ড বা মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নে অনেক মালিকপক্ষের অনীহা আমরা দেখেছি। তাই আমরা মনে করি, যে সকল প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের নূন্যতম বেতন ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানে ব্যর্থ হবে, তাদের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও বিজ্ঞাপন পাওয়ার অধিকার থাকা উচিত নয়।
পরিশেষে, একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী সংবাদমাধ্যম গড়তে হলে সাংবাদিকদের পেশাদারত্বের পাশাপাশি তাঁদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার গ্যারান্টি দিতে হবে। সরকার, মালিকপক্ষ এবং সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি যুগোপযোগী বেতন কাঠামো দ্রুত বাস্তবায়ন হোক—এটাই আমাদের কাম্য। সাংবাদিকের কলম তখনই স্বাধীন হবে, যখন তাঁর জীবিকা হবে সুরক্ষিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

সংবাদকর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ বেতন কাঠামো প্রয়োজন। অপ সাংবাদিকতার তৎপরতা।

আপডেট টাইম : ০২:২৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

এম মনিরুল ইসলাম।

গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃত সংবাদমাধ্যম তখনই সচল থাকে, যখন এর কারিগররা—অর্থাৎ সাংবাদিকরা—একটি মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা পান। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা পেশাটি বর্তমানে এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদকর্মীদের জন্য ন্যূনতম বেতন কাঠামো নির্ধারণের যে জোরালো দাবি উঠেছে, তা কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং সাংবাদিকতার অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন।
বর্তমানে দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে এক বৈষম্যমূলক চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। গুটিকয়েক করপোরেট হাউজ নিয়মিত বেতন দিলেও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সংবাদকর্মীদের বড় একটি অংশ এখনো বিনা বেতনে অথবা যৎসামান্য সম্মানীতে কাজ করছেন। এই আর্থিক দৈন্যদশা শুধু সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত জীবনকেই বিপন্ন করে না, বরং এটি নৈতিক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। পেটে ক্ষুধা নিয়ে কলমের আপসহীন ধার ধরে রাখা যেমন কঠিন,তেমনি এই সুযোগেই হলুদ সাংবাদিকতা ও অপতৎপরতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাম্প্রতিক প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন সরকারি নবম গ্রেডের সমমর্যাদায় নির্ধারণ করা এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে স্নাতক ডিগ্রির বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। যদি একজন সাংবাদিকের প্রারম্ভিক বেতন ৩৫ হাজার টাকার ওপরে নির্ধারণ করা যায়, তবে এই পেশায় যেমন মেধাবীদের আগমন ঘটবে, তেমনি পেশার সামাজিক মর্যাদাও সুসংহত হবে।
তবে শুধু আইন বা বেতন কাঠামো ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়; এর কঠোর বাস্তবায়নই আসল চ্যালেঞ্জ। অতীতে ওয়েজ বোর্ড বা মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নে অনেক মালিকপক্ষের অনীহা আমরা দেখেছি। তাই আমরা মনে করি, যে সকল প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের নূন্যতম বেতন ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানে ব্যর্থ হবে, তাদের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও বিজ্ঞাপন পাওয়ার অধিকার থাকা উচিত নয়।
পরিশেষে, একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী সংবাদমাধ্যম গড়তে হলে সাংবাদিকদের পেশাদারত্বের পাশাপাশি তাঁদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার গ্যারান্টি দিতে হবে। সরকার, মালিকপক্ষ এবং সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি যুগোপযোগী বেতন কাঠামো দ্রুত বাস্তবায়ন হোক—এটাই আমাদের কাম্য। সাংবাদিকের কলম তখনই স্বাধীন হবে, যখন তাঁর জীবিকা হবে সুরক্ষিত।