০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবীনগরে বিলুপ্তির পথে আলীয়াবাদ-মাঝিকাড়া খাল

নদী আর খালের গল্প এখন কেবল অতীতের। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বুড়ী নদী থেকে ভাটা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত আলীয়াবাদ ও মাঝিকাড়া খাল দুটি বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। এক সময় বর্ষার দিনে নৌকা বেয়ে গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল এই খালগুলো, আজ তা কেবল শুষ্ক বালু আর নোংরা আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, খালের মুখ বন্ধ করে বর্ষার পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত করা, পলিথিন ও ঘরোয়া বর্জ্য ফেলা, এবং খালের নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে খালগুলো ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দুর্গন্ধ ও নোংরা পানিতে মশার প্রজনন, পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
মাঝিকাড়া গ্রামের প্রবীণ মোখলেছুর রহমান বলেন, “এক সময় খাল দুটি অনেক গভীর ও চওড়া ছিল। মানুষ নৌকা দিয়ে আসা-যাওয়া করত। এখন তা কেবল স্মৃতির খাল। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও বর্জ্য ফেলার কারণে চোখের সামনে ধীরে ধীরে খালগুলো মরে গেছে।”
আলীয়াবাদ পশ্চিম পাড়া গ্রামের আব্দুল খালেক অভিযোগ করেন, “খালের মুখ বন্ধ করে রাস্তা বানানোর পর বর্ষার পানি আটকে গেছে। আমাদের ছোট ছেলেমেয়েরা খেলার জায়গা হারিয়েছে, আবার গ্রীষ্মে পানি শুকিয়ে গেলে পানি তোলার জন্য আমাদের দুর্ভোগ।”
স্থানীয় বাসিন্দা রাশিদা খাতুন বলেন, “খালের পানি চলাচল বন্ধ হওয়ায় মাছও নেই। বর্ষার সময় নৌকা চলাচল বন্ধ, প্রতিদিন আমাদের গ্রামে আসা-যাওয়া খুব কষ্টের। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত খালগুলো পুনরায় খনন ও সংযোগ স্থাপন করুক।”
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করছেন, খালগুলো পুনরায় খনন করা, বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা এবং বুড়ী নদীর সঙ্গে খালের সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হলে এই প্রাণবন্ত খালগুলো আবার জীবন্ত হয়ে উঠবে।
নবীনগর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, “খাল দুটি রক্ষার জন্য আমরা পরিকল্পনা করছি। খননের প্রক্রিয়া চলছে, এবং পবিত্র ঈদ উল ফিতরের পর আমরা কাজ শুরু করতে পারব।”

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নবীনগরে বিলুপ্তির পথে আলীয়াবাদ-মাঝিকাড়া খাল

আপডেট টাইম : ১১:৩৬:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

নদী আর খালের গল্প এখন কেবল অতীতের। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বুড়ী নদী থেকে ভাটা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত আলীয়াবাদ ও মাঝিকাড়া খাল দুটি বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। এক সময় বর্ষার দিনে নৌকা বেয়ে গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল এই খালগুলো, আজ তা কেবল শুষ্ক বালু আর নোংরা আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, খালের মুখ বন্ধ করে বর্ষার পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত করা, পলিথিন ও ঘরোয়া বর্জ্য ফেলা, এবং খালের নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে খালগুলো ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দুর্গন্ধ ও নোংরা পানিতে মশার প্রজনন, পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
মাঝিকাড়া গ্রামের প্রবীণ মোখলেছুর রহমান বলেন, “এক সময় খাল দুটি অনেক গভীর ও চওড়া ছিল। মানুষ নৌকা দিয়ে আসা-যাওয়া করত। এখন তা কেবল স্মৃতির খাল। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও বর্জ্য ফেলার কারণে চোখের সামনে ধীরে ধীরে খালগুলো মরে গেছে।”
আলীয়াবাদ পশ্চিম পাড়া গ্রামের আব্দুল খালেক অভিযোগ করেন, “খালের মুখ বন্ধ করে রাস্তা বানানোর পর বর্ষার পানি আটকে গেছে। আমাদের ছোট ছেলেমেয়েরা খেলার জায়গা হারিয়েছে, আবার গ্রীষ্মে পানি শুকিয়ে গেলে পানি তোলার জন্য আমাদের দুর্ভোগ।”
স্থানীয় বাসিন্দা রাশিদা খাতুন বলেন, “খালের পানি চলাচল বন্ধ হওয়ায় মাছও নেই। বর্ষার সময় নৌকা চলাচল বন্ধ, প্রতিদিন আমাদের গ্রামে আসা-যাওয়া খুব কষ্টের। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত খালগুলো পুনরায় খনন ও সংযোগ স্থাপন করুক।”
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করছেন, খালগুলো পুনরায় খনন করা, বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা এবং বুড়ী নদীর সঙ্গে খালের সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হলে এই প্রাণবন্ত খালগুলো আবার জীবন্ত হয়ে উঠবে।
নবীনগর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, “খাল দুটি রক্ষার জন্য আমরা পরিকল্পনা করছি। খননের প্রক্রিয়া চলছে, এবং পবিত্র ঈদ উল ফিতরের পর আমরা কাজ শুরু করতে পারব।”