০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিচারের দাবিতে উত্তাল কমলনগর: উপজেলা পরিষদের সামনে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর বিশাল মানববন্ধন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:২৩:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • ১৪৯ বার

কবির হোসেন রাকিব কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)থেকে |

​লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে চাঞ্চল্যকর নুরুল আলম (নুরু) হত্যাকাণ্ডের ২ মাস ৮ দিন পার হয়ে গেলেও প্রকৃত খুনিরা শনাক্ত না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে এলাকাবাসী। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ, ২০২৬) সকালে কমলনগর উপজেলা পরিষদের সামনে নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় শতশত মানুষের অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
​তদন্তে স্থবিরতার অভিযোগ:
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৯ জানুয়ারি নুরুর ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও রহস্যজনক কারণে মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশেষ করে ঘটনার দিন নুরুর মোবাইল লোকেশন এবং সন্দেহভাজনদের সাথে দফায় দফায় কল রেকর্ডের ডিজিটাল প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
​নিহতের পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “১৬ জানুয়ারি নিখোঁজ হওয়ার পর ১৮ জানুয়ারি রাতে নুরু ফোন দিয়ে কথা বলতে চেয়েছিল, কিন্তু অন্য কেউ ফোন কেড়ে নেয়। পরদিন তার লাশ পাওয়া যায়। কল লোকেশন ও কল রেকর্ডের সব প্রমাণ থাকার পরও পুলিশ কেন বলছে কোনো ক্লু পাচ্ছে না? আমরা কি তবে বিচার পাব না?”
​ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে নুরুল আলম (নুরু) মাতাব্বর হাট বাজার থেকে কেনাকাটা করে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের তিন দিন পর ১৯ জানুয়ারি সকালে নিজ বাড়ির উত্তর-পশ্চিম পাশে নদীর পাড়ে ব্লক-চাপা দেওয়া অবস্থায় তার ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
​রহস্যজনক কল ও লোকেশন:
পরিবারের দাবি, নিখোঁজের দিন জনৈক নুর নাহার ওরফে পাখির সাথে নুরুর মোবাইলে ৮ বার যোগাযোগ হয়। এছাড়া কল লোকেশনে আজুবেপারীর হাট, পাটারীর হাট ও ফজুমিয়ার হাটের অবস্থান পাওয়া যায়। এমনকি জনৈক কামালের মোবাইল থেকে কল আসার তথ্য থাকলেও রহস্যজনকভাবে সে এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
​স্মারকলিপি প্রদান:
মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী প্রশাসনের উচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তদন্তে অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
​এ বিষয়ে কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রযুক্তিগত তথ্য থাকা সত্ত্বেও প্রকৃত খুনিদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

বিচারের দাবিতে উত্তাল কমলনগর: উপজেলা পরিষদের সামনে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর বিশাল মানববন্ধন

আপডেট টাইম : ০৩:২৩:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

কবির হোসেন রাকিব কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)থেকে |

​লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে চাঞ্চল্যকর নুরুল আলম (নুরু) হত্যাকাণ্ডের ২ মাস ৮ দিন পার হয়ে গেলেও প্রকৃত খুনিরা শনাক্ত না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে এলাকাবাসী। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ, ২০২৬) সকালে কমলনগর উপজেলা পরিষদের সামনে নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় শতশত মানুষের অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
​তদন্তে স্থবিরতার অভিযোগ:
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৯ জানুয়ারি নুরুর ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও রহস্যজনক কারণে মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশেষ করে ঘটনার দিন নুরুর মোবাইল লোকেশন এবং সন্দেহভাজনদের সাথে দফায় দফায় কল রেকর্ডের ডিজিটাল প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
​নিহতের পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “১৬ জানুয়ারি নিখোঁজ হওয়ার পর ১৮ জানুয়ারি রাতে নুরু ফোন দিয়ে কথা বলতে চেয়েছিল, কিন্তু অন্য কেউ ফোন কেড়ে নেয়। পরদিন তার লাশ পাওয়া যায়। কল লোকেশন ও কল রেকর্ডের সব প্রমাণ থাকার পরও পুলিশ কেন বলছে কোনো ক্লু পাচ্ছে না? আমরা কি তবে বিচার পাব না?”
​ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে নুরুল আলম (নুরু) মাতাব্বর হাট বাজার থেকে কেনাকাটা করে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের তিন দিন পর ১৯ জানুয়ারি সকালে নিজ বাড়ির উত্তর-পশ্চিম পাশে নদীর পাড়ে ব্লক-চাপা দেওয়া অবস্থায় তার ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
​রহস্যজনক কল ও লোকেশন:
পরিবারের দাবি, নিখোঁজের দিন জনৈক নুর নাহার ওরফে পাখির সাথে নুরুর মোবাইলে ৮ বার যোগাযোগ হয়। এছাড়া কল লোকেশনে আজুবেপারীর হাট, পাটারীর হাট ও ফজুমিয়ার হাটের অবস্থান পাওয়া যায়। এমনকি জনৈক কামালের মোবাইল থেকে কল আসার তথ্য থাকলেও রহস্যজনকভাবে সে এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
​স্মারকলিপি প্রদান:
মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী প্রশাসনের উচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তদন্তে অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
​এ বিষয়ে কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রযুক্তিগত তথ্য থাকা সত্ত্বেও প্রকৃত খুনিদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।